Islampur

আদালত চত্বরে অস্থায়ী নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ, প্রতিবাদে আইনজীবীরা

জেলা

উচ্ছেদের নোটিশের প্রতিবাদে পথে নামলেন ইসলামপুর কোর্টের আইনজীবীরা। উত্তর দিনাজপুর জেলার মুখ্য দায়রা বিচারকের নির্দেশ ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল ইসলামপুর আদালত চত্বরে। আদালতের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও সুরক্ষার স্বার্থে চত্বরের সমস্ত অস্থায়ী নির্মাণ বা টেম্পোরারি স্ট্রাকচার সাত দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার পথে নামলেন ইসলামপুর আদালতের আইনজীবী ও ল ক্লার্করা। এদিন আইনজীবীদের একাংশ আদালতের অধিকাংশ কাজ থেকে বিরত থাকেন।
ইসলামপুর বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফিরোজ আহমেদ জানান, গত ২৯ আগস্ট জেলার বিচারকের পক্ষ থেকে নির্দেশ পাঠানো হয়। ৩১ আগস্ট তাঁরা সেই নির্দেশ হাতে পান। নির্দেশে আদালত চত্বরে থাকা অস্থায়ী নির্মাণগুলি সাত দিনের মধ্যে সরিয়ে ফেলার কথা বলা হয়েছে।
বার অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, বর্তমানে আদালতে আইনজীবীদের বসার পর্যাপ্ত পরিকাঠামো নেই। সংগঠনের সভাপতি বলেন, ইসলামপুর বার অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান ভবনটি ১৯৬৬-৬৭ সালে তৈরি হয়েছিল। সেই সময় বারের সদস্য সংখ্যা ছিল মাত্র ২৫-৩০ জন। বর্তমানে সদস্য সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১৭ জনে। ফলে পুরনো ভবনে এত সংখ্যক আইনজীবীর বসার ব্যবস্থা করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। শৌচাগার অপ্রতুল।
এই পরিস্থিতিতে আইনজীবীরা নিজেদের কাজ চালানোর জন্য আদালত চত্বরে অস্থায়ীভাবে টিনের চালা তৈরি করে সেখানে বসছেন। তাঁদের বক্তব্য, ওই অস্থায়ী পরিকাঠামো না থাকলে আইনজীবীদের কাজ পরিচালনা করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
ফিরোজ আহমেদের দাবি, ‘‘আমরা বিচার ব্যবস্থারই একটি অঙ্গ। তাই বিচার ব্যবস্থার স্বার্থে আইনজীবীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা না করে অস্থায়ী নির্মাণগুলি ভেঙে ফেলার নির্দেশ মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।’’ তিনি জানান, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে নির্দেশের বিরোধিতা করছেন। প্রয়োজনে আইনি পথেও যাওয়া হবে বলে জানান তিনি।
আইনজীবীদের এই অবস্থানের জেরে এদিন ইসলামপুর আদালতের স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রভাব পড়ে। অধিকাংশ আইনজীবী ও ল ক্লার্ক আদালতের কাজ স্থগিত রেখে প্রতিবাদে শামিল হন। অস্থায়ী পরিকাঠামো ভেঙে ফেলার আগে আইনজীবীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে কি না, এখন সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে।
ইসলামপুর বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৌমেন্দু মজুমদার বলেন, শুধুমাত্র কাস্টডি ট্রায়াল, সাক্ষী গ্রহণের কাজ হলেও আমরা মূলত এদিন ধর্মঘট পালন করেছি। আমরা স্মারকলিপি মহকুমা প্রশাসন জেলা দায়রা বিচারককে পাঠিয়েছি। তারপরও কোন কাজ না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব। অল ইন্ডিয়া ল’য়ার্স ইউনিয়নের উত্তর দিনাজপুর জেলা সম্পাদক সামসাদ আলম বলেন, ইসলামপুর আদালতের আইনজীবী অনুপাতে বার অ্যাসোসিয়েশনে বসার জায়গা নেই। তাই বাধ্য হয়ে আইনজীবীরা নিজ খরচে অস্থায়ী বসার জায়গা করে বিচারপ্রার্থীদের পরিষেবা দেন। তাদের বিকল্প ব্যবস্থা না করে ভেঙে দিলে পেটে লাথি মারা হবে। আমরা আইনজীবী ও ল ক্লার্করা মিলে এই প্রচেষ্টা রুখতে  যা করার করবো।

Comments :0

Login to leave a comment