Elephant Attack

হাতির হামলা, এক বছরে ৭১ জনের মৃত্যু দুই জেলায়

রাজ্য জেলা

চিন্ময় কর


হাতির হানায় মৃত্যুর মিছিল অব্যাহত ঝাড়গ্রামে। ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে শুঁড় দিয়ে তুলে নিয়ে গেলো চাল আটা অনেক পরিবারের। এক সময় মাওবাদী হানায় মৃত্যু মিছিলে আতঙ্কে কেঁপেছে জঙ্গলমহল। এখন হাতির আক্রমণে। গত এক বছরে ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে জঙ্গলমহলের দুই জেলা ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরে। চলতি এক সপ্তাহে পরপর তিনটি ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে হাতির তান্ডবে। চাষের জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে বিঘার পর বিঘা। এক বিঘা জমির ফসলের ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায় মাত্র ১৯৮০টাকা। তাও আবার বছর পার হলে এমনটাই অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের। হাতির আতঙ্কে মানুষজন ক্ষোভে ফুঁসছেন সরকার ও বনদপ্তরের দায়িত্ব পালনে ব্যার্থ হওয়ার কারণে। তাদের প্রশ্ন আর কত ঘরবারি, ফসলের ক্ষতি এবং মানুষের মৃত্যু হবে হাতির তান্ডবে। কবে সরকারের টনক নড়বে। এই প্রশ্নেই জনরোষ তৈরি হচ্ছে গ্রামের পর গ্রামে এবং কৃষকদের মধ্যে।
এলাকায় নেই কাজ। এখনও ধান পাকেনি। গরীব লোধা আদিবাসী জনজাতির পরিবারগুলি জঙ্গলের উপর নির্ভরশীল। হাতির পালের তান্ডবে সেই রসদ জোগাড় করতে পারছেনা। তবুও পেটের জ্বালায় বুধবার জঙ্গলে গিয়ে হাতির আক্রমণের মুখে পড়ে শবর দম্পতি। তারপর আর বাড়ি ফিরেনি। জঙ্গলের মধ্যে সারারাত পড়ে ছিলো স্বামীর দেহ, তার পাশে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্ত্রী।
বৃহস্পতিবার গ্রামের মানুষ জঙ্গলে তল্লাশি চালিয়ে তাদের খোঁজ পায়। সেদিনই সন্ধ্যায় আবার লোকালয়ে হাতির পাল ঢুকে ৭টি ঘরবাড়ি ভেঙে চাল আটা লুঠ করে নিয়ে যায়।
ঘটনাটি ঘটেছে জামবনি থানার অন্তর্গত কষাকুলিয়া মৌজায়। পুলিশ ও গ্রামবাসীর সূত্রে জানা গিয়েছে, আমতলিয়া বিটের কষাফুলিয়া গ্রামটি বাংলা-ঝাড়খন্ড সীমান্তে রয়েছে। এই গ্রামটি চারদিক থেকে শাল জঙ্গলে ঘেরা। বুধবার দুপুরের পর  এলাকায় একটি হাতির পাল ঢুকে পড়ে। অনেকেই জঙ্গলে তখন ছাতু, কেন্দুপাতা, বাবুই ঘাস, চিরকালু সংগ্রহ করছিলেন। সবাই ছুটে বন ছাড়ার চেষ্টা করেন।
কষাফুলিয়া গ্রামের বৃদ্ধ দম্পতি কৃষ্ণ শবর (৭০)ও তার স্ত্রী রেনু শবর(৬৮) হাতির আক্রমণের মুখে পড়ে। বিকালের পর কেউ আর সাহস করেনি জঙ্গলে ঢুকতে পারেননি। এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বৃদ্ধ কৃষ্ণ শবরের। হাতির আক্রমণে গুরুতর জখম হন তাঁর স্ত্রী রেনু শবর।
এদিন সকালে গ্রামবাসীরা দেখেন জঙ্গলের মধ্যে কৃষ্ণ শবর মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে এবং তার স্ত্রী জীবিত রয়েছেন। তারপরেই বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জামবনী থানার পুলিশ। নিহত ও আহতকে উদ্ধার করে চিল্কিগড় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক কৃষ্ণ সবরকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর স্ত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় তাঁকে ঝাড়গ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
কৃষ্ণ শবরের ভাইপো নির্মল শবর বলেন, ‘‘ তার কাকা কাকিমা জঙ্গলের খাবার সংগ্রহে গিয়েছিলেন। তিনি জানান তাঁর কাকার হাতির আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন। কাকিমার শারীরিক অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। ঘটনায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে এলাকায়। 
 

Comments :0

Login to leave a comment