অন্যকথা
মুক্তধারা
----------------------------
নানা রূপে নারীর ভূমিকা
----------------------------
আকাশ বিশ্বাস
মাতা– যিনি আমাদের দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করে জন্ম দান করেন তিনি হলেন গর্ভধারিনী মা। এনার ভূমিকা আমাদের জীবনে সর্বোচ্চ। জীবনে উচ্চশিক্ষিত হওয়ার শিখর হলেন আমাদের মা কারন আমাদের জীবনে প্রথম শিক্ষিকা হলেন তিনি। মায়ের মতো নিঃস্বার্থ ভাবে ভালবাসতে কেউ পারেনা। তাই বৃদ্ধ বয়সে বৃদ্ধ মা ও বাবাকে সংসারে বোঝা না বানিয়ে বাড়ির মাথায় তুলে রাখতে হয়।
ভগিনী – জীবনে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ নারী হলো বোন। মায়ের অবর্তমানে এই দিদি বা বোনই হয়ে ওঠে আমাদের মা। এমন অনেক কথা আছে যা আমরা মাকে বলতে পারিনা কিন্তু মনের মধ্যে ক্রমাগত ঘুরপাক খেতে থাকে, এই কথাগুলো বলার একমাত্র জায়গা হলো ভগিনী। তাই জন্য তাকে বন্ধু বলা হয়। বন্ধু শব্দের মানেই তো হল একে অপরের মনের কথা বলতে পারা। প্রত্যেক দাদা বা ভাইয়ের উচিত তার ভগিনীর সম্মান রক্ষা করা।
স্ত্রী/প্রেমিকা– আমাদের ছোট থেকে বড় হবার পর স্ত্রী হয়ে ওঠে প্রধান বন্ধু। সারাদিনের ব্যস্ততার পর দুটো মনের কথা বলার মানুষ। মায়ের পর স্ত্রী তার স্বামীর প্রতি যত্নবান হয়। প্রত্যেক স্বামীর উচিত স্ত্রীকে সংসারের একটা অঙ্গ করে নেওয়া।
একাধারে নারীরা নানরূপে আমাদের সারাটা জীবন লালন-পালন করে এসেছে। কিন্তু আমরা তাদেরকে কখনোই তাদের প্রাপ্য সম্মান দিইনি। বরং সারাজীবন হেয় করে এসেছি। নারী মানে সে ভোগ্য বস্তু, ছোট জাত, শিক্ষার কোন অধিকার নেই সারা জীবন সমাজে এই নীতিই প্রচলিত ছিল। কিন্তু যে নারী আমার জন্মদাতা সে ভোগ্যবস্তু হয় কি করে? আজকে সমাজ যদি সচেতন হত তাহলে বহু নারীকে শরীরে কলঙ্ক নিয়ে মরতে হতো না। মানুষ শিক্ষিত হচ্ছে ঠিকই কিন্তু সমাজের শিক্ষিত হওয়া এখন অনেক বাকি আছে। প্রত্যেক বছর ৮ই মার্চ নারী দিবস পালন না করে আমরা যদি প্রত্যেকটা নারীকে প্রাপ্য সম্মান করি সেটাই হবে আসল নারী দিবস। রাস্তা দিয়ে হেটে যাওয়া কোন মেয়ে যেন ছেলেদের দেখে অস্বস্তি বোধ না করে এইরকম সমাজ গড়ে তুলতে হবে। এটাই হবে শিক্ষিত সমাজ। আসুন না আমরা আবার আগের মত সুস্থ–স্বাভাবিক সমাজ গড়ে তুলি।
দশম শ্রেণী কল্যাণ নগর বিদ্যাপীঠ খড়দহ উত্তর ২৪ পরগনা কল্যাণনগর খড়দহ
Comments :0