Waterlogged Khanakul

ডিভিসি’র জলে প্লাবিত খানাকুল, ভরসা নৌকা

জেলা

ঝাড়খণ্ডে অতিবৃষ্টির জেরে লাগাতার জল ছেড়েছে ডিভিসি, সেই জল খানাকুলের নদনদীতে প্রবেশ করতেই প্লাবিত হতে শুরু করেছে খানাকুলের নিচু এলাকাগুলি। জলে ঘুরে বেড়াচ্ছে ঘুরছে সাপ। ডিঙি নৌকা করে চলছে যাতায়াত।
নদীর জলস্তর ক্রমশ বাড়তে থাকায় আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য খানাকুলের নদীগুলিতে ফেরি সার্ভিস বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। এর ফলে বহু জায়গায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল। আবার অল্প কিছু ফেরি সার্ভিস চললেও তাতে লাইফ জ্যাকেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। খানাকুল-১, জগৎপুর, মাড়োখানা, ধান্যঘোরী পঞ্চায়েতের বেশকিছু গ্রামে ঢুকতে শুরু করেছে জল। বেশকিছু এলাকায় একতলা বাড়ি পুরোপুরি জলের তলায়। অনেকে ছাদে ত্রিপল খাটিয়ে বসবাস করছেন। বাড়ি থেকে বেরিয়ে কোথাও হাঁটুজল, কোথাও কোমর সমান জল পেরিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে মানুষকে। অনেক জায়গায় বাড়ি থেকে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নৌকা। এলাকার রাস্তায় বইছে জল। মাড়োখানার সুন্দরপুর, চাঁদকুণ্ডু, বউবাজার, বারনন্দনপুর, জগৎপুর সহ বেশকিছু গ্রামে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন। নতুন করে জল ডুকছে অরুন্ডা তাঁতিশাল ছত্রসাল সহ বহু গ্রামে জল ঢুকেছে। যার ফলে হাওড়া জেলার সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবেই বন্ধ।
প্রশাসনিকভাবে ত্রাণ এর ব্যবস্থা থাকলেও সাধারণ মানুষ বলছেন ত্রাণ নিয়ে মুখ খোলা বারণ, সরকারি ত্রাণ এমএলএ পর্যন্ত এসে পৌঁছাচ্ছে তারপরে তার কি হচ্ছে সেটা সাধারণ মানুষ জানে না।
খানাকুলের পাশাপাশি আরামবাগ সাব ডিভিশনের তারকেশ্বর পুড়শুড়া ও গোঘাটের একটা অংশ প্লাবিত হয়েছে। নষ্ট হয়েছে মাঠের ফসল একাধিক এলাকায় কৃষি জমি জলের তলায় কৃষক থেকে শুরু করে এলাকার মানুষজনের বক্তব্য প্রশাসন যদি পাশে না দাঁড়ায় বহু টাকার ক্ষতি হয়ে যাবে। এই বন্যা থেকে বাঁচার জন্য প্রশাসনকে সঠিকভাবে পরিকল্পনা করতে হবে তাহলেই আরামবাগ সাব ডিভিশনকে ভবিষ্যতে বন্যার হাত থেকে বাঁচাতে পারবে। ডিভিসি জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়ালে খানাকুলের অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকায় জল দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

Comments :0

Login to leave a comment