দার্জিলিঙ পাহাড়ে একনাগাড়ে বর্ষণের জেরে দার্জিলিঙ হিমালয়ান রেলওয়ে (ডিএইচআর)’র লোকোমোটিভ শেডের ছাদের একাংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়লো। বুধবার সকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দার্জিলিঙ টয়ট্রেনের লোকো শেডের ছাদ ভেঙে পড়ার দুর্ঘটনায় একজন চুক্তিভিত্তিক কর্মী সহ মোট সাতজন রেলকর্মী ও মেকানিক আহত হয়েছেন। যদিও আহতরা প্রত্যেকেই বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এদিন সকালে আচমকাই ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেড তালিকার অন্তর্ভুক্ত ডিএইচআর’র দার্জিলিঙস্থিত ঐতিহাসিক টয়ট্রেনের লোকো শেডের বহু পুরোনো কাঠ ও লোহার বিম দিয়ে তৈরী ছাদের একটি অংশ হুড়ুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। রাতের প্রবল বৃষ্টিতে এই লোকশেডটির অবস্থা বিপজ্জনক হয়ে পড়েছিলো। জানা গেছে, এদিন আচমকাই ছাদের একটি অংশে বিকট আওয়াজ করে ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় লোকো শেডের ভেতরে ঐতিহ্যবাহী চারটি স্টিম ইঞ্জিনের রক্ষনাবেক্ষনের কাজ চলছিলো। ফলে ভেতরে যারা কাজ করছিলেন সেই সমস্ত কর্মীরা ছাদের ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে যান। বিকট শব্দ ও চিৎকার শুনে দুর্ঘটনা নজরে আসতেই দ্রুত সহকর্মী, অন্যান্য রেলকর্মীরা ও স্থানীয়রা উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে তড়িঘড়ি পৌঁছায় দার্জিলিঙ সদর থানার পুলিশ। চলে আসে দমকলের ইঞ্জিন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত অবস্থায় ধ্বংসস্তূপের ভেতরে আটকে পড়া সার কর্মীকে উদ্ধার করে। দ্রুত আহতদের স্থানীয় দার্জিলিঙ সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। সেখানে আহতদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় শারিরীক পরীক্ষা করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজন সামান্য আঘাত পেয়েছে। তবে প্রত্যেকেই স্থিতিশীল রয়েছে বলে হাসপাতালে সূত্রে জানা যাচ্ছে। ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান ডিএইচআর’র উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। তারা পরিস্থিতি সামাল দেন। দুর্ঘটনার কারনে সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হলেও পরবর্তীতে পুলিশ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রনে যানজট মুক্ত হয় সড়ক। দুর্ঘটনার পর শেড এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হয়েছে।
দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে ডিএইচআর’র ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী জানান, পাহাড়ে মুষলধারে একনাগাড়ে বৃষ্টি হয়ে চলেছিলো। লোকো শেডের বহু পুরোনো কাঠের কাঠামোর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ার কারণেই ছাদের একটি অংশ ভেঙে পড়েছে। ঘটনায় আহতদের মধ্যে একজন চুক্তিভিত্তিক কর্মী রয়েছেন। আহতদের আঘাত গুরুতর নয়। প্রত্যেকেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দ্রুততার সাথে আহত প্রত্যেক কর্মীদের চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় শেডের ভেতরে থাকা চারটি স্টিম ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশের ঠিক কতটা ক্ষতিসাধন হয়েছে বা লোকো শেডটির বর্তমান পরিস্থিতি কি রয়েছে সেই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখতে কারিগরি দল পরিদর্শন করেছে।
দুর্ঘটনার সময় লোকো শেডের ভেতরে ঐতিহ্যবাহী যে চারটি স্টিম ইঞ্জিনের রক্ষনাবেক্ষনের কাজ চলছিলো এদিন সকালের দুর্ঘটনাজনিত পরিস্থিতিতে এদিন ও বৃহস্পতিবার ওই চারটি টয়ট্রেনের জয়রাইড বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কর্তৃপক্ষের তরফে। টয়ট্রেনগুলির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর পুনরায় চালু করা হবে জয়রাইড পরিষেবা। ইতোমধ্যেই দার্জিলিঙ হিমালয়ান রেলওয়ে (ডিএইচআর)’র লোকোমোটিভ শেডের ছাদ দুর্ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে কাটিহার থেকে উত্তর’পূর্ব সীমান্ত রেলের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) দুর্ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। রেল দপ্তরে সূত্রে জানানো হয়েছে লোকো শেডটির ঐতিহ্য রক্ষার্থে এবং কাঠামোগত সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে দ্রততার সাতে মেরামতির কাজ শুরু করা হবে।
Loco Shed Darjeeling
লোকো শেডের ছাদ ধসে দার্জিলিঙে আহত ৭
ছবি- রাজু ভট্টাচার্য।
×
Comments :0