Malbazar

২৬ বছরেও পূর্ণাঙ্গ মহকুমা তৈরী হল না মালবাজার

জেলা

মহকুমা ঘোষণার ২৬ বছর পেরিয়ে গেলেও মালবাজার পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক ও নাগরিক পরিষেবা পেল না। মহকুমা শাসকের দপ্তর তৈরি হলেও এখনও নেই আরটিও বা মোটর ভেহিকলস দপ্তর, এসিজেএম ও দেওয়ানি আদালত, সংশোধনাগার। এমনকী মাল মহকুমা হাসপাতালে মর্গ না থাকায় ময়নাতদন্তের প্রয়োজন হলেও মৃতদেহ জলপাইগুড়ি জেলা সদরে নিয়ে যেতে হয়। ফলে প্রশাসনিক, পরিবহণ, বিচারবিভাগীয় এবং চিকিৎসা পরবর্তী একাধিক পরিষেবার জন্য প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরের জলপাইগুড়ির উপর মালবাজার মহকুমার বাসিন্দাদের নির্ভর করতে হচ্ছে। মহকুমা ঘোষণার আড়াই দশক পরেও এই নির্ভরতা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
ডুয়ার্সের প্রবেশদ্বার হিসেবে মালবাজার পরিচিত। বিস্তীর্ণ চা-বাগান, বনাঞ্চল ও পাহাড়ঘেরা মাল, মেটেলি, ক্রান্তি এবং নাগরাকাটার মানুষের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও পরিষেবা কেন্দ্র এই শহর। বামফ্রন্ট সরকারের আমলে ২০০০ সালে মালবাজার মহকুমার স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ১৭ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে মহকুমা শাসকের কার্যালয়ও রয়েছে। কিন্তু মহকুমার পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এখনও ঘাটতি রয়ে গিয়েছে।
সাধারণ মানুষ পরিবহণ সংক্রান্ত কাজেই সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন। ড্রাইভিং লাইসেন্স-সহ মোটর ভেহিকলস সংক্রান্ত কাজে জলপাইগুড়িতে যেতে হচ্ছে। স্থানীয় যুবক রিষভ রায়ের অভিজ্ঞতা, লাইসেন্সের কাজের জন্য চাকরি থেকে ছুটি নিয়ে জেলা সদরে যেতে হয়েছে। তাঁর কথায়, মালবাজারে আরটিও দপ্তর থাকলে সময় ও যাতায়াতের খরচ—দু’টোই বাঁচত।
আদালত সংক্রান্ত কাজেও একই পরিস্থিতি। এসিজেএম ও দেওয়ানি আদালত না থাকায় বিচারপ্রার্থী এবং আইনজীবীদের নানা প্রয়োজনে এখনও জলপাইগুড়ির উপর নির্ভর করতে হয়। সংশোধনাগার না থাকায় বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কাজেও তৈরি হচ্ছে অতিরিক্ত যাতায়াত ও সময়ের চাপ।
স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও মহকুমা হাসপাতালের পরিকাঠামোগত ঘাটতি স্পষ্ট। মর্গ না থাকায় অস্বাভাবিক বা অন্যান্য ঘটনায় ময়নাতদন্তের প্রয়োজন হলে মৃতদেহ জলপাইগুড়িতে নিয়ে যেতে হয়। দূরের চা-বাগান, বনবস্তি ও পাহাড়ঘেঁষা এলাকার বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে এই ভোগান্তি আরও বাড়ে। একদিনের প্রয়োজনীয় কাজের জন্য নষ্ট হয় কর্মদিবস, গুনতে হয় অতিরিক্ত যাতায়াতের খরচ।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মনোরঞ্জন মণ্ডলের প্রশ্ন,‘‘মহকুমা ঘোষণার আড়াই দশক পরেও ছোটখাটো প্রশাসনিক ও আইনি কাজের জন্য জেলা সদরে ছুটতে হবে কেন? মহকুমা ঘোষণার সুফল সাধারণ মানুষ কবে পাবেন?’’
সিপিআই(এম) মাল এরিয়া কমিটির সম্পাদক রাজা দত্তের অভিযোগ, ‘‘বামফ্রন্ট সরকারের সময় মহকুমা ঘোষণার পর পরিকাঠামো তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল।কিন্তু এত বছর পরেও প্রয়োজনীয় দপ্তর, আদালত ও পরিকাঠামো না থাকা প্রশাসনিক ব্যর্থতারই প্রমাণ। দ্রুত মালবাজারে সমস্ত প্রয়োজনীয় পরিষেবা চালু করতে হবে।’’
স্থানীয়দের বক্তব্য, শুধু প্রশাসনিক মানচিত্রে মহকুমা নয়, প্রয়োজন পূর্ণাঙ্গ পরিকাঠামো। ২৬ বছর পরেও যদি গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবার জন্য জেলা সদরের মুখাপেক্ষী থাকতে হয়, তাহলে মহকুমা ঘোষণার বাস্তবায়ন নিয়েই প্রশ্ন থেকে যায়।

Comments :0

Login to leave a comment