jalpesh Mela Marxist Book Stall

জনচেতনার প্রসারে জল্পেশ মেলায় মার্কসীয় বুক স্টল

জেলা

উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী তীর্থ জল্পেশ মন্দিরকে কেন্দ্র করে এখন সাজ সাজ রব। আসন্ন শিবরাত্রি উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণ সাজিয়ে তোলার কাজ চলছে জোরকদমে। প্রতি বছরের মতো এবারও উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি ছাড়াও দক্ষিণবঙ্গ, পার্শ্ববর্তী রাজ্য আসাম এমনকি প্রতিবেশী দেশ ভুটান থেকেও লক্ষাধিক দর্শর্থীর সমাগম হবে বলে আশা করছে মন্দির ও মেলা কমিটি। 
মন্দির সংলগ্ন এলাকায় বসছে বিশাল মেলা, যা চলবে টানা দশ দিন। এবারের মেলার বিশেষ আকর্ষণ হতে চলেছে সার্কাস। প্রায় কয়েক দশক পর ফের জল্পেশ মেলায় সার্কাসের আসর বসতে চলায় স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকদের মধ্যে বাড়তি উন্মাদনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শর্থীদের সুবিধার্থে মন্দির সংলগ্ন দিঘিতে স্নানের সুব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে মন্দির ও মেলা প্রাঙ্গণে প্লাস্টিক ব্যবহারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেলা চলাকালীন প্লাস্টিক বর্জন নিশ্চিত করতে কড়া নজরদারি চালানো হবে।
উৎসবে যখন লক্ষ মানুষের সমাগম, তখনই মানুষের রাজনৈতিক ও সামাজিক চেতনাকে জাগ্রত করতে ময়দানি লড়াইয়ে নেমেছে সিপিআই(এম)। শিবরাত্রি উপলক্ষে জল্পেশ মেলায় প্রতি বছরের মতো এবারও মার্কসীয় সাহিত্য বিপণি বা বুক স্টল খোলা হয়েছে। রবিবার এই স্টলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য জিয়াউল আলম।
সিপিআই(এম) ময়নাগুড়ি মধ্য-পূর্ব এরিয়া কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই স্টলটির উদ্বোধন ঘিরে কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পার্টির জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক পীযুষ মিশ্র, জেলা কমিটির সদস্য হরিহর রায় বসুনিয়া, জ্যোতিপ্রকাশ ঘোষ, বিমল রায়, অপূর্ব রায়, রঞ্জিত সরকার সহ অন্যান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
উদ্বোধনের পর উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে জিয়াউল আলম বলেন, ‘‘প্রগতিশীল চর্চা জারি রাখতে এবং সঠিক তথ্যের আলোয় সমাজকে আলোকিত করতে মার্কসীয় পুস্তিকা পাঠের কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে ফ্যাসিস্ট শক্তির মিথ্যা প্রচার ও অপপ্রচারের মোকাবিলা করতে মার্কসীয় দর্শনকে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দিতে হবে। এই বুক স্টল সেই লড়াইয়েরই একটি হাতিয়ার।’’
সিপিআই(এম)’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেলার ১০ দিনই এই স্টলটি খোলা থাকবে। এখানে মার্কসীয় ধ্রুপদী সাহিত্যের পাশাপাশি বর্তমান সময়ের প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন প্রগতিশীল বই, গণশক্তি ও সাময়িকী জনসাধারণের জন্য সুলভে পাওয়া যাবে। মেলায় আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে প্রথম দিন থেকেই এই স্টলকে ঘিরে যথেষ্ট আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। কেবল ধর্মীয় আচার নয়, বরং সমাজ পরিবর্তনের পাঠ নিতেও সাধারণ মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন এই প্রগতিশীল বইয়ের স্টলে।

Comments :0

Login to leave a comment