ভ্রমণ
মুক্তধারা
ষোলোআনা নিজমিয়ানা
অভীক চ্যাটার্জী
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বর্ষ ৩
এক
অনেক তো হলো বেড়াতে যাওয়া, এবার এক শহরের গল্প শোনাই, যেখানে ইতিহাস ও আধুনিকতা একে অপরের সাথে পরতে পরতে জড়িয়ে থাকে। হাল ফ্যাশনের ফ্ল্যাট বাড়ির পাশেই নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে থাকে শতাব্দী প্রাচীন মসজিদ। ঘিঞ্জি বস্তির পাশেই গোঁফে তা দেয় আলিশান নিজামিআনা। এ কোনো ভ্রমণ কাহিনী নয়। এই গল্প শহরযাপনের। এই গল্প নিজামের,বিরিয়ানির আর চারমিনারের শহর, হায়দরাবাদের।
সেবার আমার বদলি হলো হায়দরাবাদে। আমরা তখন সবাই পুনেতেই থাকি। কিন্তু হঠাৎ তল্পিতল্পা গুটিয়ে হায়দরাবাদ যাওয়াটা আমার খুব একটা সুবিধাজনক মনে হলো না, তাই আমি একাই চললাম হায়দরাবাদ। কারণ, আমার এই বদলি সাময়িক। খুব বেশি হলে মাস তিনচারেক থাকতে হবে। তাই ঠিক করলাম, একটা পিজি দেখে এই কয়দিন থেকে যাব। যেমন ভাবা তেমন কাজ। এক সুন্দর সকালে সকালের রোদ গায়ে মেখে পা রাখলাম হায়দরাবাদে।
আমি যতক্ষণে এই শহরে একটু থিতু হয়ে নিই, আপনারা ততক্ষণে জেনে নিন এই শহরের বিষয়ে কিছু অজানা বা কম জানা তথ্য।
১৫৯১ খ্রিস্টাব্দে কুতুব শাহী বংশের পঞ্চম শাসক মুহাম্মদ কুলি কুতুব শাহ গোলকোন্ডা দুর্গ থেকে শাসন কাজ পরিচালনা করতেন। তিনি প্রেমে পড়েন এক হিন্দু নৃত্যশিল্পী ভাগমতীর। এই ভাগমতী পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করলে নাম হয় হায়দার মহল। ততদিন সম্রাটের তো প্রেমে হাবুডুবু অবস্থা। প্রিয়ার নামে শহরের নাম বদলে রাখেন হায়দরাবাদ।বাইজির নামে গোটা শহর! তবে, এই তথ্যের ঐতিহাসিক ভিত্তি পাওয়া দুষ্কর।
আরও একটা মতবাদও প্রচলিত আছে এই নামকরণ নিয়ে, সেটা অনেকটাই ধর্মীয়। ইসলামী ঐতিহ্যে হযরত আলী কে বলা হয়েছে হায়দার - ই - কারবার নামে। যার অর্থ বীর সিংহ। সেই হায়দার থেকেই হায়দরাবাদ।
প্রেম হোক বা ধর্ম, এই শহর বর্ণে গন্ধে ছন্দে এক নতুন উপলব্ধির সঞ্চার করে। এর আগেও আমি দক্ষিণ ভারতের শহরে থেকেছি। কিন্তু এই শহর এক নতুন উপলব্ধির নিয়ে হাজির হয়েছে আজ। এই সুযোগ কে ছাড়ে!
চলবে
Comments :0