Public Impeachment Gyanesh Kumar

জ্ঞানেশকে বাঁচাতে পারবেন না মোদী-শাহ, রামলীলার সমাবেশের আগে পাশ প্রস্তাব

জাতীয়

রামলীলা ময়দানে রবিবারের সমাবেশের প্রস্তুতি।

যারা ভারতীয় জনগণের ভোট দেওবার অধিকার ধ্বংস করেছে লড়াই তাদের বিরুদ্ধে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের জন্য ভর্ৎসনা করা হচ্ছে জনতার দরকারে। লড়াইয়ের রাজনৈতিক অস্ত্র এই কর্মসূচি। আর কালই আরেকবার দিল্লির রাস্তায় রাজনৈতিক অস্ত্রকে দেখা যাবে। জ্ঞানেশ কুমারকে সরতেই হবে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণে বিরোধীদের প্রতীকী সংসদে এই মর্মে পাশ হয়েছে প্রস্তাব। রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের বাসভবনে হয়েছে এই সভা। যোগ দিয়েছেন সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি সহ বিরোধী সাংসদ এবং নেতৃবৃন্দ। আগামীকাল, ১ নভেম্বর, রামলীলা ময়দানে সমাবেশের প্রস্তুতিও চলছে পুরোদমে। মূল মঞ্চে তেরঙা ছাউনি। ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের বিভিন্ন দলের নেতাদের বসার জন্য জায়গা নির্দিষ্ট হয়েছে। মিন্টো রোড থেকে রামলীলা ময়দান পর্যন্ত মিছিলও করতে চাইছেন বিরোধীরা। কেবল বিরোধী দল নয়, সামাজিক সংগঠন, ছাত্রদের বিভিন্ন সংগঠন এবং নাগরিক অধিকার সংগঠন সমূহ একজোট হয়েছে। 
একেবারে সংসদের অধিবেশনের মতোই চলেছে আলোচনা। অধ্যক্ষের ভূমিকা নিয়েছেন লোকসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষ মীরা কুমার। লোকসভায় বিরোধী দলনেতা এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, ‘‘দেশদ্রোহের সমান অপরাধ করেছেন জ্ঞানেশ কুমার। শাস্তি তাঁকে পেতেই হবে। দেশের ভোটদাতাদের প্রায় ১৫ শতাংশ, ১৩ কোটির, নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এসআইআর-এ। বাতিল করতে হবে এই এসআইআর।’’ 
রাহুল বলেন, ‘‘যারা মনে করছেন জ্ঞানেশ কুমারকে মোদী-শাহ বাঁচিয়ে দেবেন তাঁদের বলব, দয়া করে দেশের পরিস্থিতি দেখুন। অবস্থা বদলাচ্ছে।’’ 
সিপিআই(এম)’র পক্ষে বক্তব্য রেখেছেন রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিটাস। তিনি বলেছেন, ‘‘বি আর আম্বেদকর বলেছিলেন যে ভোট একটি রাজনৈতিক শিক্ষালাভের ক্ষেত্র। শতাব্দীর পর শতাব্দী দূরে সরিয়ে রাখার প্রক্রিয়া অবসানের একটি হাতিয়ার।’’ ব্রিটাস বলেন, ‘‘সাধারণ মানুষের ওপর আস্থা রাখার অসাধারণ নজির সর্বজনীন ভোটাধিকার। সে জন্যই অমিত শাহ এবং নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশে তাকে ধ্বংস করতে নেমেছেন জ্ঞানেশ কুমার। সে কারণে তাঁকে অপসারণের প্রস্তাবকে সমর্থন জানাচ্ছি।’’  
পরিস্থিতিতে যে গুরুতর বদল ঘটছে তা বুঝছে বিজেপি, বুঝছে আরএসএস-ও। ইন্দোরে আরএসএস-র অখিল ভারতীয় কার্যকারী বৈঠক শুরু হচ্ছে ২ নভেম্বর যেখানে আলোচনার অন্যতম বিষয় জেন-জি আন্দোলন। 
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যদিও ভোটাধিকারের আন্দোলনকে ‘বিদেশী মদতপুষ্ট’ দেখাতে ব্যস্ত থেকেছেন শনিবারও। রাষ্ট্রীয় একতা দিবস পালনের অনুষ্ঠানে গুজরাটের একতা নগরে মোদী বলেছেন যে ‘বিরোধী পক্ষ’ না বলে এদের বলা উচিত ‘অবরোধ পক্ষ’। নাম না করে রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ’’বারবার বিদেশ ভ্রমণে বেরিয়ে কে কার সঙ্গে দেখা করে? ভারত বিরোধী শক্তি কাকে সমর্থন দিচ্ছে? ভারতের শত্রুদের সুরে কথা বলছে কে? এমন শত্রুদের বিরুদ্ধে একজোট হতে হবে।’’
তবে মোদীর ভাষণে আন্দোলনের তেজ কমেনি বিন্দুমাত্র। আগেই ককরোচ জনতা পার্টি সমর্থন জানিয়েছে রামলীলার সমাবেশকে। এদিকে জনতার দরকারের জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের প্রতীকী অধিবেশনে রাহুল বলেছেন যে ‘‘আলোচনা হতে পারত লোকসভা বা রাজ্যসভায়। সংসদের দুই কক্ষেই এই আলোচনার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গ্রাহ্য করা হয়নি আবেদন।’’
তিনি বলেন, ‘‘বহু তথ্য নথি আমাদের সামনে রয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারকে সরতেই হবে।’’

Comments :0

Login to leave a comment