সরকারের কাছে কেউ মন্দির বা মসজিদ চায়নি। সরকারের কাছে চেয়েছে কাজ, শিক্ষা। কেন্দ্র এবং রাজ্যের দুই সরকারে আসীন দুই দল মন্দির-মসজিদ নিয়ে রাজনীতি করছে ভোটের স্বার্থে। কাজের দাবিতে, রোজগারের দাবিতে আন্দোলন তীব্রতর করবে ডিওয়াইএফআই। সম্প্রীতি এবং কাজের বাংলা গড়ার লড়াই চলবে।
বুধবার কলকাতা কর্পোরেশনের সামনে ডিওয়াইএফআই’র বিক্ষোভ সভায় এই মর্মে লক্ষ্য জানিয়েছেন সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি সাহা। কর্পোরেশনে শূন্যপদে স্থায়ী এবং স্বচ্ছ নিয়োগের দাবিতে এদিন হয়েছে যুব সমাবেশ। ‘শিল্প চাই, কাজ চাই, বামপথে বাংলা চাই’- এই স্লোগানে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সমাবেশ করছেন যুবরা।
ধ্রুবজ্যোতি বলেছেন, আমাদের দেশ, রাজ্য ভালো নেই। তাই দেশ ও রাজ্যকে বাঁচানোর লড়াই আমাদের একসঙ্গে লড়তে হবে। গ্রাম থেকে শহর, কাজের দাবি রয়েছে সর্বত্রই। কাজের জন্য গ্রামের যুবদের বাইরে পরিযায়ী হয়ে চলে যেতে হচ্ছে। এমনকি শহরের যুবকও স্থায়ী কাজ পাচ্ছে না।
তিনি বলেন, শিক্ষক বা কর্মীর পদ কেবল নয়, পাঁচ বছর ধরে রাজ্য সরকার চিকিৎসকদের নিয়োগ বন্ধ করে রেখেছে। কোথাও নিয়োগ হচ্ছে না, ফলে রাজ্যজুড়ে বেকার বাড়ছে।
ধ্রুবজ্যোতি বলেন, আমরা কলকাতা কর্পোরেশনে জানতে এসেছি এত শূন্যপদ থাকার পরও কেন নিয়োগ করছেন না। তিনি বলেন, বামফ্রন্ট সরকারের সময়েই সেক্টর ৫ তৈরি করছিলেন। কিন্তু দিদিমনি আরেকটা নতুন তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র করতে পারলেন না। তিনি বলেন, পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে শিলিগুড়িতে শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। সেখানে মন্দির করছেন দিদিমণি। রাষ্ট্রের কাজ মন্দির, মসজিদ তৈরি করা নয়, শিল্প, স্কুল তৈরি করা। কেন কারখানা বন্ধ হবে। লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে যারা পড়শোনা করলেন তাঁদের কেন আত্মহত্যা করতে হবে। প্রতিদিন যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে চলছেন যুবরা। কেন তারা সরকারি জায়গায় কাজ পাবে না?
পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর নির্যাতনের প্রসঙ্গও তোলেন এই যুবনেতা। তিনি বলেন, এরকম বাংলা তো আগে ছিল না। বাংলার বাইরে কাজ করতে গিয়ে বাংলা বললে তাকে পিটিয়ে মারা হবে তারপর তার মৃতদেহ বাড়িতে আসবে। প্রতিদিন হাজার হাজার যুব রাস্তায় নামছেন। বামপন্থার পুনরুত্থান ছাড়া শিল্প হবে না, কৃষক শ্রমিক তাঁদের ঘামের দাম পাবেন না, যুবরা কাজ পাবেন না। বাংলাকে বাঁচাতে হবে, দেশকে বাঁচাতে হবে।
সিঙ্গুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যখন কারখানা গড়ে উঠেছিল তখন শিল্প তাড়ালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। সেই সময় তাঁর পাশে ছিলেন বিজেপি নেতা রাজনাথ সিং। সেই শিল্প গেল গুজরাটে। মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, বামপন্থীদের আবার ফিরিয়ে আনুন। কারখানার চুল্লি থেকে আবারও ধোঁয়া বেরোবে। সম্প্রীতি ও কাজের বাংলা গড়ার জন্য বাংলার যুবরা লড়াইয়ে রয়েছে।
DYFI KMC
মন্দির-মসজিদ রাজনীতি রুখে স্থায়ী কাজের জন্য চলবে লড়াই: ধ্রুবজ্যোতি
ছবি-বুধবার কলকাতা কর্পোরেশনের সামনে বক্তব্য রাখছেন ধ্রুৱজ্যোতি সাহা
×
Comments :0