কল্যাণী জেএনএম হাসপাতালে ডিউটিরত অবস্থায় রঞ্জিত অধিকারী নামে এক নিরাপত্তা কর্মীকে আটক করে পুলিশ। প্রতিবাদে বিক্ষোভ নিরাপত্তারক্ষীদের। নিরাপত্তার স্বার্থে কর্মরত নিরাপত্তা রক্ষীর রঞ্জিত অধিকারীকে নিঃস্বার্থ মুক্তির দাবিতে উত্তপ্ত কল্যাণী জহরলাল নেহেরু মেমোরিয়াল হাসপাতাল চত্বর। বিক্ষোভে নিরাপত্তা রক্ষীরা।
কল্যাণী জহরলাল নেহেরু মেমোরিয়াল হাসপাতালের এক নিরাপত্তার রক্ষীকে পুলিশের আটক করার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হাসপাতাল চত্বরে। জানা গেছে, রবিবার গভীর রাতে ওই হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে এক জুনিয়র লেডি ইন্টার্ন চিকিৎসকের সাথে হাসপাতালেরই নিরাপত্তারক্ষী রঞ্জিত অধিকারীর বচসা হয়। হাসপাতালে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই চিকিৎসকের পরিচয় পত্র দেখতে চেয়েছিলেন তিনি বলে দাবি নিরাপত্তারক্ষীদের। ঘটনার পরে ওই চিকিৎসক হাসপাতালের সুপারের কাছে নিরাপত্তারক্ষির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান। হাসপাতালের আধিকারিকরা কল্যাণী থানায় বিষয়টি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে নিরাপত্তারক্ষী রঞ্জিত সরকারকে আটক করে নিয়ে যায়। এই ঘটনার বিরুদ্ধে এবং নিরাপত্তারক্ষীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে সোমবার সকাল থেকেই হাসপাতালে কন্ট্রাটারের অধীনস্ত সমস্ত নিরাপত্তা রক্ষী ও স্বাস্থ্য কর্মীরা বিক্ষোভে সামিল হয়। আন্দোলনের জেরে হাসপাতালে জরুরি পরিষেবা সচল থাকলেও বহিঃ বিভাগ ও ওয়ার্ড সহ অন্যান্য পরিষেবা বিঘ্নিত হয়। কল্যাণী থানার পুলিশ হাসপাতালে এসে মাইকিং করে রোগী ও রোগীর পরিবারদের আশ্বস্ত করেন।
এবিষয়ে হাসপাতালের এক নিরাপত্তা রক্ষী জানান, রবিবার রাতে জরুরী বিভাগের সামনে একজন ইন্টার্ন লেডি চিকিৎসক ইউনিফর্ম ও পরিচয়পত্র ছাড়া হাসপাতাল চত্বরে প্রবেশ করতে গেলে রঞ্জিত অধিকারী নামে ওই নিরাপত্তারক্ষী বাধা দেয় এবং পরিচয় পত্র দেখতে চায়। তাতে ওই চিকিৎসকের ইগোতে বা আত্মমর্যাদায় আঘাত লাগে। তিনি হাসপাতালের আধিকারিকদের ঘটনাটি জানালে তারা কল্যাণী থানায় জানায়। পুলিশ হাসপাতালের ওই নিরাপত্তারক্ষীকে কর্তব্যরত অবস্থায় আটক করে থানায় নিয়ে যায়। হাসপাতালের সকল নিরাপত্তা রক্ষীরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভে সামিল হয়। তিনি জানান, স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশ মত যে কাউকে চার্জ করাটা তাদের দায়িত্ব। তবে হাসপাতালে আমাদের কন্ট্রাকটারের অধীনস্ত কোন নিরাপত্তারক্ষী বা স্বাস্থ্যকর্মীকে কোনও কারণে আটক করতে হলে আমরা যে ইউনিয়নের সাথে বহু বছর থেকে যুক্ত সেই ইউনিয়নের সাথে প্রথমে অবশ্যই কথা বলাটা অত্যন্ত জরুরী। অবিলম্বে নিরাপত্তা রক্ষীকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। এবিষয়ে হাসপাতাল সুপার ধ্রবজ্যোতি সরকার জানান, হাসপাতালের একজন ইন্টার্ন মহিলা চিকিৎসক তাকে ফোন করে একজন মদ্যপ অবস্থায় নিরাপত্তা রক্ষীর বিরুদ্ধে খারাপ ব্যবহার ও বিভিন্নভাবে ধমকানোর অভিযোগ জানায়। সেই কারণে স্থানীয় কল্যাণী থানায় ফোন করে অভিযোগ জানান। ওই মহিলা ইন্টার্ন চিকিৎসকের সাথে পুলিশ অফিসার ফোনে ঘটনা সম্পর্কে জানেন।
ছবির ক্যাপশন কল্যাণী জেএনএম হাসপাতালে রবিবার গভীর রাতে ডিউটিরত অবস্থায় এক নিরাপত্তা কর্মী রনজিৎ অধিকারীকে আটক করে পুলিশ, প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকেই হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে বিক্ষোভ নিরাপত্তারক্ষীদের।
Kalyani JNM
জেএনএম হাসপাতালে নিরাপত্তা রক্ষীদের বিক্ষোভ
×
Comments :0