CPI(M) DARJEELING DIST COMMITTEE PRESS MEET

বিজেপিকে সুবিধা দিতে ডিলিমিটেশন, শিলিগুড়িতে বলল সিপিআই(এম)

জেলা

শিলিগুড়ি পৌর কর্পরেশন সংক্রান্ত বিষয়, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের পদ্ধতি ও ওয়ার্ড সংখ্যা বৃদ্ধি বিষয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে সাংবাদিক বৈঠক করলো সিপিআই(এম)। বুধবার দুপুরে হিলকার্ট রোডে অনিল বিশ্বাস ভবনে সিপিআই(এম) দার্জিলিঙ জেলা কমিটির পক্ষ থেকে সাংবাদিক বৈঠক হয়। সাংবাদিক বৈঠকে ছিলেন সিপিআই(এম) দার্জিলিঙ জেলা সম্পাদক সমন পাঠক, সিপিআই(এম)’র পরিষদীয় দলনেতা মুন্সি নুরুল ইসলাম, পার্টিনেতা দিলীপ সিং ও শরদিন্দু চক্রবর্তী। শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশনের অচলাবস্থা ও বিপর্যস্ত নাগরিক পরিষেবা বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুততার সাথে পৌর কর্পোরেশন নির্বাচনের দাবি জানান নেতৃবৃন্দ। বলেন, বিজেপি সরকার যদি সঠিক সময়ে নির্বাচন করতে চায় তাহলে ন্যাশনালাইজেশন বা ডিলিমিটেশনের ক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি মেনে চললে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু বিজেপি ডিলিমিটেশনের নাম করে কতোগুলো অনিয়ম তৈরী করে যাতে কেউ কোর্টের দারস্ত হতে পারে তার উপাদান রেখে দিচ্ছে। ফলে নির্বাচন বন্ধ হবার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। এক্ষেত্রে ইলেকশন কমিশনের নজরদারির দাবি জানান। সরকারকে সতর্ক হবার হুঁশিয়ারি দেন। নির্বাচন যাতে বন্ধ না হয় রাজ্য সরকারকে ওয়েষ্ট বেঙ্গল মিউনিসিপ্যাল ইলেকশন অ্যাক্ট মেনে ডিলিমিটেশনের কাজ করার দাবি জানান। 
শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশনের বর্তমান প্রশাসক পরিচালিত বোর্ড ও রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্পোরেশনের ৪৭টি ওয়ার্ডকে ৬৩টি ওয়ার্ডে পরিনত করা হবে। বলা হয়েছে এটা ডিলিমিটেশন না ন্যাশনালাইজেশন করবে। নুরুল ইসলাম বলেন, ন্যাশলাইজেশন এক প্রকার ডিলিমিটেশন। কারণ ৪৭টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন ওয়ার্ডকে ভেঙে আবার যুক্ত করে ৬৩টি ওয়ার্ড করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রক্রিয়াগত বেশ কিছু নিয়ম রয়ছে। আমরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নই। জনসংখ্যার ভিত্তিতে ওয়ার্ডগুলিতে অসমতা রয়েছে। ফলে সমতা ফিরে আসুক এটা আমরা চাই। কিন্তু এটা করার ক্ষেত্রে আইনের বেশ কিছু নিয়মাবলীর কথা বলা আছে। গোটা পদ্ধতি যেটা হচ্ছে তা সম্পর্কে অবহিত রয়েছে কেবলমাত্র রাজ্যের সরকার, শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশনের কমিশনার এবং প্রশাসক। সবচাইতে বেশী জানে বিজেপি দল। এই ন্যাশনালাইজেশন বা ডিলিমিটেশন কিভাবে হবে নিয়ম পদ্ধতি না মেনে বিজেপি'র সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে হচ্ছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি বের হবার আগেই বিজেপি’র প্রাক্তন কাউন্সিলাররা আগাম সকলের সামনে বিষয়টি তুলে ধরেছেন। ফলে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে এটা বিজেপি’র রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। যে কাজ রাজ্য সরকারের নাম করে করা হচ্ছে। মানুষের স্বার্থের জন্য নয়, ডিলিমিটেশন বিজেপির সিদ্ধান্ত যেটা দলীয় স্বার্থের জন্য করা হচ্ছে। 
তিনি প্রশ্ন তোলেন, শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশনের ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস করে ওয়ার্ড সংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কি ওয়েষ্ট বেঙ্গল মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অ্যাক্ট ২০০৬ মানা হয়েছে? নাকি বিজেপি নিজেদের খেয়াল খুশি মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছে? শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশনের ওয়ার্ড সংখ্যা ৪৭থেকে বাড়িয়ে দিয়ে ৬৩করা হলো কিসের ভিত্তিতে? বলেন, ওয়েষ্ট বেঙ্গল মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অ্যাক্ট ২০০৬—তে বলা আছে এই বিষয়টি রাজ্য সরকারই নির্ধারন করতে পারবে। কিসের ভিত্তিতে করবে তাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। কলকাতা এবং হাওড়া এই দুই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের ক্ষেত্রে অ্যাসেম্বলিতে পাশ করাতে হয়েছে সংখ্যাটা। কারন অ্যাক্টের মধ্যেই রয়েছে এই নিয়ম। এই পরিপ্রেক্ষিতেই ডিলিমিটেশনের প্রশ্নে ওয়েষ্ট বেঙ্গল মিউনিসিপ্যাল ইলেকশন অ্যাক্ট ১৯৯৪—র সেকশন থ্রি—র কথা উল্লেখ করেন। শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশনের ক্ষেত্রে কোন স্থানীয় সংস্থার নির্বাচিত সদস্য নেই। আছেন দুইজন পার্টটাইম অফিসার। একজন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের সেক্রেটারি। কর্পোরেশনের কমিশনার আবার এসজেডিএ—র চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসারও বটে। যেহেতু কোন স্থানীয় সংস্থার নির্বাচিত সদস্য নেই সেক্ষেত্রে ডিলিমিটেশনের প্রশ্নে উচিৎ ছিলো সর্বদলীয় সভা ডাকা। যে মিটিং করা হয়নি। কোন আইন নিয়ম মানা হয়নি। কলকাতার ক্ষেত্রে সর্বদলীয় সভা হয়েছে। 
বলেন, কোন একটি ওয়ার্ডের জনসংখ্যা ১১,০৪৫। সেই ওয়ার্ডটিকে দুইভাগ করার প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে। আবার কোন কোন ওয়ার্ডের জনসংখ্যা ১৫,৮২০ ও ১৩,০২২। সেই ওয়ার্ডগুলিকে ইনট্যাক রাখা হয়েছে। কম জনসংখ্যার ওয়ার্ডগুলিকে মিলিয়ে দিয়ে যুক্ত করা হবে। এইসবের ক্ষেত্রে ভিত্তি কি? এই প্রশ্নগুলি থেকেই যাচ্ছে। নিজেদের রাজনৈতিক সুবিধার্থে বিজেপি যে প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছে তার তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি। অবিলম্বে সর্বদলীয় সভা ডেকে মতামত গ্রহনের দাবি জানান তিনি। শিলিগুড়িতে পৌর পরিষেবা একেবারেই মুখ থুবড়ে পড়েছে। এই বিপদ থেকে পরিত্রান পেতে চাইছে শহরবাসিন্দারা। দলীয় স্বার্থের থেকে নাগরিকদের স্বার্থ বড় কথা। কলকাতা ও হাওড়ার মতো সর্বদলীয় সভা করে মতামত নিয়ে গেজেট নোটিফিকেশন হয়েছে এই সমস্ত প্রক্রিয়া অবলম্বনের দাবি জানান।

Comments :0

Login to leave a comment