দীর্ঘ ২৬ দিন পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে অনশন ভাঙলেন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুক।ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের উপস্থিতিতে ফলের রস পানের মাধ্যমে তাঁর এই অনির্দিষ্টকালের অনশন প্রত্যাহার করেন। এই সময় তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমোও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
এর কিছু আগে মধ্যরাতে ভিডিও বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন যে প্রশ্ন ফাঁস হলে করা শাস্তির ব্যবস্থা হবে। তার জন্য একটি বিল নিয়ে কাল, শুক্রবার, আলোচনা হবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায়। মোদী বলেন, নিট প্রশ্ন ফাঁসের অপরাধীদের জেলে পাঠানো হয়েছে।
বারবার প্রশ্ন ফাঁস এবং বেনিয়মে দায়ী হলেও ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করার ঘোষণা মোদী করেননি। তবে শিক্ষা সচিব বিনীত যোশিকে সরানো হয়েছে।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান চলছে যন্তর মন্তরে। শুক্রবার কলকাতার মতো বিভিন্ন শহরে মিছিলও আছে।
আপডেট
ছাত্র-ছাত্রীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ হবে না। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের এই আশ্বাসের ভিত্তিতে অনশন তুলে নেওয়া হয়েছে বলে জানালেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক।
অনশন তুলে নেওয়ার পর ওয়াংচুক বলেন, সরকার আশ্বাস দিয়েছে যে অনশনে অংশগ্রহণকারী এবং ২০ জুলাই সংসদ চলো কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কারো বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে না। ওয়াংচুক লিখেছেন একটি ভিডিওতে তিনি অনশন তুলে নেওয়ার বিষয়ে বিশদে জানাবেন।
‘এক্স’-এ ওয়াংচুক আরও লিখেছেন যে সংসদে বিশদ আলোচনার মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁস সহ উদ্বেগের বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করা হবে, সমাধানের রাস্তা খোঁজা হবে। তিনি লিখেছেন যে হিংসার সম্ভাবনা রোধ করতেও তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে সরকার আশ্বাস দিয়েছে যে পরীক্ষার্থীরা আত্মঘাতী হয়েছেন তাঁদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
এদিকে ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষে অভিজিৎ দীপকে রাতেই ওয়াংচুককে অনশন তুলে নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন দেশের স্বার্থে সোনম ওয়াংচুককে প্রয়োজন। তিনি অনশন তুলে নেওয়ায় স্বস্তি মিলেছে। তবে ককরোচ জনতা পার্টি জানিয়েছে যে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চলবে।
গত ২৮ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট সহ একের পর এক জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় বেনিয়মের প্রতিবাদে যন্তর মন্তরে অনশনে যোগ দেন ওয়াংচুক। গত শনিবার তাকে জোর করে তুলে সফদরজঙ হাসপাতালে নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ। গত ২০ জুলাই দিল্লিতে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী সংসদ চলো কর্মসূচিতে যোগ দেয়। হিংস্র আক্রমণ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন দিল্লি পুলিশ। লাঠি, টিয়ার গ্যাস কেবল নয় পেলেট গুলি এবং ইলেকট্রিক শক দেওয়ার মতো ব্যাটন ব্যবহারের অভিযোগে সরব ছাত্রছাত্রীরা। সরকার এবং পুলিশের ভূমিকায় দেশময় ধিক্কারের ঢেউ উঠেছে। সেই পরিস্থিতিতে পিছিয়ে গিয়ে আলোচনার রাস্তা খুঁজতে থাকে সরকার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে গত সোমবার কথা হয় সিজেপি’র প্রতিনিধিদের। তবে বৃহস্পতিবার তারা জানান কারো দপ্তর বা বাসভবনে নয়, আলোচনা হবে যন্তর মন্তর অথবা নিরপেক্ষ কোনও জায়গায়।
এদিন রাতে ভিডিও বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার সকালেই মোদী ঘোষণা করেন ফাস্ট ট্রাক কোর্ট করা হচ্ছে। রাতে ভিডিও বার্তা দিলেও ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরানোর বিষয়ে কোনও কথা বলেননি। তবে কেন্দ্রীয় শিক্ষা সচিব পদে দায়িত্ব বদল হয়েছে।
দিল্লি হাইকোর্টে মামলা করে ওয়াংচুককে সফদরজঙ হাসপাতাল থেকে বেসরকারি মেদান্ত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
Comments :0