জয়ন্ত সাহা: মাথাভাঙা
কোচবিহার- আলিপুরদুয়ারের দুটি পাতা, একটি কুঁড়ির চা বাগান গুলির হাজার হাজার শ্রমিক পরিবার উৎসবের দিন পায়ে পায়ে আসতেই বোনাস নিয়ে আশা- নিরাশার দোলায় দুলছে! সেই সঙ্গে চাপা আশংকা বোনাস দেবার অজুহাতে ফের বন্ধ হবার তালিকায় জুড়বে কোন কোন নতুন বাগানের নাম!
বসে নেই সিআইটিইউ নিয়ন্ত্রত কোচবিহার- আলিপুরদুয়ার চা বাগান মজদুর ইউনিয়নও। চা বাগান শ্রমিকদের নেতা বিকাশ মোহালি বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানান, মঙ্গলবার আমরা আমাদের ইউনিয়নের বৈঠক করেছি। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে গত কয়েক বছরে বাগানের স্থায়ী শ্রমিকদের মজুরি বাড়ে নি এক টাকাও। সেই প্রতিদিন ২৫০ টাকা হারেই মজুরি আটকে আছে। আমরা বোনাস মিটিং বসলে দাবি করবো বোনাস ২০ শতাংশ হারে দিলেই চলবে না। চাই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সাথে সাজুয্য রেখে বাড়তি বোনাসও। তিনি জানান, মালিকেরা আগামী ১১ সেপ্টেম্বর বোনাস নিয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ডেকেছে। তার আগে আমাদের বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়নের ‘জয়েন্ট ফোরাম’ ৬ সেপ্টেম্বর বোনাস নিয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেবার জন্য আলোচনায় বসবো।
কোচবিহার- আলিপুরদুয়ারের ৬৪ টি বাগানের মধ্যে গত বছর মমতা ব্যানার্জীর সরকার একতরফা ভাবে ২০ শতাংশ বোনাসের এডভাইসারি জারি করে দিয়েছিল। পরিসংখ্যান বলছে গতবার ৪০ টির মত বাগান ২০শতাংশ হারে বোনাস পেলেও বাকি বাগানগুলির শ্রমিকেরা গড়ে ১০ শতাংশের বেশি বোনাস পায় নি। সিআইটিইউ নিয়ন্ত্রিত শ্রমিক ইউনিয়ন এবং জয়েন্ট ফোরাম চাইছে সব বাগানের শ্রমিকেরাই যাতে বোনাস পেয়ে যায় সময় মত।
এই মুহুর্তে কোচবিহার- আলিপুরদুয়ার এলাকার ৬৪ চা-বাগানের মধ্যে, মধু, রামঝোরা, রায়মাটাং, কালচিনি এবং লংকাপাড়া বাগান বন্ধ। এই বন্ধ বাগানের অনেক শ্রমিকই ১৫০০ টাকা ফাউলাই (মাসিক ভাতা) পাচ্ছেন না। ডাবল ইঞ্জিন সরকার আসার চার মাস পরেও অবস্থা বদলায় নি এতটুকুও।
শ্রমিক নেতা বিকাশ মোহালি এক প্রশ্নের উত্তরে এদিন বলেন, এই মুহুর্তে আমাদের আলিপুরদুয়ারেই ২০টি বাগান রুগ্ন অবস্থায় রয়েছে। এই বাগানগুলির শ্রমিকদের বোনাস সুনিশ্চিত করতে আমাদের লড়াই চলবে। চা শ্রমিক নেতা বিকাশ মোহালি এদিন আরও বলেন, বামফ্রন্ট আমলে বন্ধ বাগানের শ্রমিকদের উৎসবের সময়ে ভাতা দিত। তৃণমূল আমলে সেসব বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমরা চাই এখনকার সরকার বন্ধ বাগানের শ্রমিকদের মানবিক দৃষ্টিতে দেখুক। ফের চালু হোক বন্ধ বাগানের উৎসব ভাতা। বোনাস, পিএফ, গ্র্যাকচুয়িটি সহ ১০ দফা দাবিতে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর বাগান শ্রমিকেরা জেলাশাসককে স্মারকলিপি দেবে। দাবি আদায়ে সেদিন বিক্ষোভ অবস্থান হবে জেলাশাসকের অফিসে। বাগান শ্রমিক সুরেন লামা, বংশী ওরাওঁ বোনাস নিয়ে মালিকদের অন লাইন মিটিং প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘ওই মিটিনে কিছু হবেক লাই। তারিখ পে তারিখ মিটিন হবেক। উরা হর বার বোনাস লিয়ে বাহানা করে। এসব চলবেক নাই।’’
শ্রমিকদের আশংকা মিথ্যে নয়, একে তো মজুরি বাড়ে নি কয়েক বছর। জিনিসের দাম বাড়ছে হু হু করে। অন্য সুযোগ সুবিধা অমিল। গতবার রাজ্য সরকারের এডভাইজারি জারি করে ২০শতাংশ বোনাস ঘোষণা করলেও অনেক মালিক কিস্তিতে বোনাস দিয়েছে। কোন কোন বাগানে আংশিক বোনাস বকেয়া রয়ে গেছে। এক লপ্তে ২০ শতাংশ বোনাসের দাবিতে দুটি পাতা, একটি কুঁড়ির শ্রমিক মহল্লা গুলি জোট বাঁধছে।
Comments :0