Mathabhanga Forest Department

মেহগনি গাছ চুরির তদন্তে নেমে দুটি অবৈধ স-মিল বন্ধ করল মাথাভাঙা বন দপ্তর

জেলা

মাথাভাঙা শহর লাগোয়া আমবাড়ির ৮টি মেহগনি গাছ কাটার তদন্তে নেমে বেশ কিছু লগ উদ্ধার ও দুই অবৈধ স-মিল বন্ধ করে দিল মাথাভাঙার বন দপ্তর। এটাকে বড় সাফল্য বলে ফলাও করে প্রকাশ করলেও কাউকেই গ্রেপ্তার না করায় প্রশ্ন উঠছে প্রভাবশালী কাঠ মাফিয়াদের আড়াল করতেই কি শুধু লগ উদ্ধার করা হল? অবৈধ কাঠ চেরাই কলের মালিকেরাও কেন অধরা! 
মাথাভাঙা মহকুমার হাজরাহাট-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের আমবাড়ি এলাকায় সরকারি জমি থেকে আটটি মেহগনি গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার তদন্তে নেমে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেল মাথাভাঙ্গা ফরেস্ট রেঞ্জ অফিস। বন দপ্তরের বিশেষ অভিযানে প্রথমে শিকারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বকসীরহাট উত্তর, নবীনের দোলা এলাকা থেকে অবৈধভাবে কাটা গাছের একাধিক লগ উদ্ধার করা হয়। পরে একটি বনাঞ্চল থেকে আরও কয়েকটি সেগুনের লগের সন্ধান মেলে, যা উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে। নবীনের দোলা থেকে উদ্ধার হওয়া লগ ইতিমধ্যেই এক ভুটভুটি গাড়ি ভর্তি করে মাথাভাঙ্গা রেঞ্জ অফিসে নিয়ে আসা হয়েছে।
অভিযানে মাথাভাঙ্গা ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসের আধিকারিক ও কর্মীদের পাশাপাশি কোচবিহার বন দপ্তর থেকে অতিরিক্ত কর্মী এবং মাথাভাঙ্গা থানার পুলিশ অংশ নেয়। পরে নয়ারহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় দুটি অবৈধ স-মিল সিল করে দেওয়া হয়।
এডিএফও শ্রী বিজন নাথ ফোনে বলেন, "এই বিষয়ে আমরা যথেষ্ট সচেতন, বিশেষ করে ১৫ জুন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে। গতকালও এরকম একটি অভিযান চালিয়ে বলরামপুর থেকেও বেশ কিছু সাফল্য আমরা পেয়েছি।"
অন্যদিকে, পুরো অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন মাথাভাঙ্গা রেঞ্জার শ্রী সুদীপ দাস।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর ১৫ জুন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বনাঞ্চল, সামাজিক বনায়ন এলাকা এবং অন্যান্য স্থানে অনুমতি ছাড়া গাছ কাটা নিষিদ্ধ। সাম্প্রতিক সময়ে তুফানগঞ্জ, হাজরাহাট ও আমবাড়ি-সহ একাধিক এলাকায় অবৈধ বৃক্ষনিধনের অভিযোগ সামনে এসেছে। পরিবেশপ্রেমীদের মতে, শুধু গাছ লাগালেই হবে না,গাছ লাগানোর কর্মসূচির পাশাপাশি  গাছ সংরক্ষণও সমান জরুরি। বন দপ্তরের  ধারাবাহিক অভিযান চললে অবৈধ বৃক্ষনিধন বন্ধ করা সম্ভব বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।

Comments :0

Login to leave a comment