BJP Infighting in Dinhata

বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে দিনহাটায় তীরবিদ্ধ মহিলা

জেলা

গ্রাম পঞ্চায়েত প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে রাখতে এর আগেও মাদার ও যুব তৃণমূলের লড়াই দেখেছে কোচবিহার জেলার দিনহাটা মহকুমা। কর্তৃত্ব স্থাপন করতে তৃণমূলের এক গোষ্ঠী অপর গোষ্ঠীর ওপর আক্রমণ, এমনকি হত্যার রাজনীতি করতেও পিছপা হয়নি। এবার এই পথেই হাঁটছে বিজেপি। এই দিনহাটার 
নাজিরহাট ২নং গ্রাম পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠনকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দল ভয়াবহ রূপ নিল শালমারা গ্রামে। তীরবিদ্ধ একাধিক। তীরবিদ্ধ অবস্থায় দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিজেপির এক মহিলা কর্মী।
তৃণমূলের সন্ত্রাসে বিদীর্ণ এই দিনহাটার মানুষ সন্ত্রাস থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার আশায় গত বিধানসভা নির্বাচনে হেঁটেছিলেন পরিবর্তনের পথে। আর তাই এই বিধানসভা আসনে জয়ের মুখ দেখেছিল বিজেপি। কিন্তু নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের কয়েক মাসের মধ্যেই মোহভঙ্গ হতে শুরু করেছে কোচবিহার জেলার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এই মহকুমার মানুষের। কারণ, যেভাবে বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দল প্রতিনিয়ত ভয়াবহ আকার ধারণ করছে, তাতে আগের মতই গণতন্ত্রহীনতার বেড়াজালে যে জড়িয়ে পড়বে দিনহাটা তার বলার অপেক্ষা রাখে না।
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই গোটা কোচবিহার জেলার মতো দিনহাটা মহকুমাতেও তৃণমূল পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েত সমিতিগুলি দখল করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বিজেপি। প্রায় অধিকাংশ গ্রাম পঞ্চায়েতেের  প্রধান, উপপ্রধান এবং পঞ্চায়েত সমিতির
সভাপতি, সহকারী সভাপতিরা পদত্যাগ করে ফেলেছেন। বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যরাও ইতিমধ্যেই ইস্তফা দিয়েছেন নিজেদের পদ থেকে। এরপর নতুন করে বোর্ড গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এই গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিগুলিতে।
এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়েই বৃহস্পতিবার ছিলো  দিনহাটা মহকুমার নাজিরহাট ২নং গ্রাম পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন। দলীয় ভাবে সিদ্ধান্ত ছিল এই গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যা যুথিকা বর্মন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হবেন। দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এদিন বীথিকা বর্মন তার সমর্থকদের নিয়ে এই গ্রাম পঞ্চায়েত দপ্তরের প্রবেশ করার মুখেই তার ওপর হামলা চালায় এই ব্লকেরই আরেক বিজেপি নেতা তরণীকান্ত বর্মনের নেতৃত্বাধীন বিজেপি কর্মীরা। রীতিমতো তীর ছোঁড়া হয়। আর এই তীরের আঘাতে গুরুতর জখম হন শান্তি তালুকদার নামে এই বিজেপি কর্মী।
এই প্রসঙ্গে বর্ষীয়ান সিপিআই(এম) নেতা দিলীপ সরকার বলেন, মানুষ তৃণমূলের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিজেপিকে ভোট দিয়েছিল কিন্তু ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর চিহ্নিত তৃণমূলীরাই এখন বিজেপির সম্পদ।। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই তোলা আদায় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে এই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়।  বিজেপির নিজেদের ভাগ বাটোয়ারা নিয়েই শুরু হয়েছে এই গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব। আর চরম সংকটের মুখোমুখি সেই সাধারণ মানুষই। ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা প্রকাশ পাচ্ছে। তারা রীতিমতো স্বীকার করছেন বিজেপিকে ভোট দিয়ে ভুল করেছিলেন। 
সিপিআই(এম) জেলা কমিটির সদস্য শুভ্রালোক দাস বলেন, তৃণমূলের শাসনকালের মতোই এই গ্রাম পঞ্চায়েত প্রশাসনের মতো জনপরিষেবার জায়গা গুলিকে ক্ষমতা দখলের আখড়ায় পরিণত করছে বিজেপিও। তৃণমূলের মত বিজেপিও লুটে খাওয়ার জায়গা হিসেবে বেছে নিচ্ছে এই জনপরিষেবার জায়গাগুলিকে। তৃণমূল জামানার মতোই পঞ্চায়েতের পদ ও ক্ষমতা দখল করতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে অশান্তির পরিবেশের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষ এই সমস্ত কর্মকাণ্ড কোন ভাবেই মেনে নেবেন না।

Comments :0

Login to leave a comment