editorial

ভ‌য়ে আছে যোগী, মোদীরা

সম্পাদকীয় বিভাগ

মোদী জমানায় বিরুদ্ধ কণ্ঠ বা প্রতিবাদী মুখ অসহ্য। ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে একেবারে গোড়া থেকেই অতি সতর্কতা ও কঠোরতা অবলম্বন করে যাচ্ছে সরকার। কোন অবস্থাতেই সম্ভাবনাময় শত্রুকে রেয়াত করতে রাজি নয় উগ্র হিন্দুত্ববাদের অতি দক্ষিণপন্থী শাসকরা। স্বৈরাচারী-ফ্যা সিবাদীরা চরিত্রগতভাবে যতই ভয়ঙ্কর, হিংস্র ও অমানবিক বর্বর হলেও আদতে তারা ভীষণভাবে ভিতু। পদে পদে তারা ক্ষমতা হারানোর আতঙ্কে ভোগে। অতি সাধারণ কিছুর মধ্যেও তারা বড় শত্রুর প্রতিচ্ছবি দেখে। এই ভীতি ও আতঙ্কই অনেক ক্ষেত্রে তাদের বাস্তববোধ, পরিমিতিবোধ হারাবার কারণ হয়। তখন তারা বেসামাল দিশাহারা হয়ে ক্ষমতার চুড়ান্ত অপব্যবহার করে সম্ভাবনাময় শত্রুকে অঙ্কুরে বিনাশ করতে যথেচ্ছ বেআইনি ও অবৈধতার আশ্রয় নেয়।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫বছর বয়সি ছাত্রী আকৃতি চৌধুরি যোগী-মোদী-শাহদের চোখে তেমনই এক সম্ভাব্য এক বিপজ্জনক প্রতিবাদী নেত্রী হিসাবে প্রতিভাত হয়। পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুরের মেয়ে আকৃতি একজন মানবাধিকার কর্মী হিসাবে পাঁচ মাস আগে নয়ডায় শ্রমিক বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিল। সেখানে বক্তৃতা দিয়ে দিল্লি ফেরার পথে যোগীর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। একমাস পরে যোগী-মোদীদের মনে হয় আকৃতি রাষ্ট্রের নিরাপত্তার প্রশ্নে অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাই তার বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের ধারা যোগ করে পরপর ৮টি এফআইআর করা হয়। সব মিলিয়ে ১১টি এফআইআর। লক্ষ্য কোনও অবস্থাতেই যেন জেল থেকে বেরোবার সুযোগ না পায়। সরকারের বিরোধিতা করার সখ চিরকালের মতো ঘুচিয়ে দিতে চেয়েছিলেন যোগী-মোদী-শাহ-রা।
শেষ পর্যন্ত ছক কাজে এলো না। এলাহাবাদ হাইকোর্টে যোগী সরকারের মুখে ঝামা ঘষে দিয়ে স্পষ্ট করে দিয়েছে মন গড়া গল্প বানিয়ে আকৃতিকে ফাঁসানোর চেষ্টা হয়েছে। আকৃতির বিরুদ্ধে এখন কোনও তথ্য প্রমাণ হাজির করতে পারেনি সরকার যা দেখে অভিযোগ দাঁড় করানো যায় যে দেশের বিরুদ্ধে বিপজ্জনক। আদালতের মধ্যে কোনও প্রমাণ নেই। গল্প বানিয়ে ভুয়া এফআইআর হয়েছে। ক্ষুব্ধ আদালত শুধু এফআইআর বাতিল করেই ক্ষান্ত হয়নি, এই কেস গঠন প্রক্রিয়ায় যারা যুক্ত তাদের বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থান নিয়েছে। আকৃতিকে অকারণে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্রের কারণে ৫লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যোগী সরকারকে। সেই ক্ষতিপূরণের টাকা যাদের হাত ধরে মিথ্যা মামলা সাজানো হয়েছে তাদের বেতন থেকে কাটতে হবে।
আকৃতির ঘটনা ফের প্রমাণ করল মোদীরা কীভাবে প্রতিবাদীদের দমন করতে পুলিশ-প্রশাসনকে নক্কারজনকভাবে ব্যবহার করে। এর আগে জেএনইউ-র বাম ছাত্র নেতাদের বিরুদ্ধে এমন হিংস্রতা দেখা গিয়েছিল। ভিমা কোরেগাও মামলার দেশের পরিচিত মানবাধিকার-সমাজকর্মী, কবি, অধ্যাপক, আইনজীবী, শিক্ষাবিদদেরও এভাবে ইউএপিএ মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল। দিল্লিতে এনআরসি বিরোধী আন্দোলনের সময়ও একই বর্বরতা দুনিয়া দেখেছে। এইভাবে একটার পর একটা ঘটনার মিথ্যা মামলা সাজিয়ে প্রতিবাদী মানুষদের দেশদ্রোহী, সন্ত্রাসী, বিপজ্জনক তকমা দিয়ে বছরের পর বছর বিনা বিচারে জেলে বন্দি করে রাখা হয়েছে। ভাবছে প্রতিবাদী-বিরোধীদের কারান্তরালে আটকে রাখলে ক্ষমতা নিরাপদ থাকবে।

Comments :0

Login to leave a comment