Editorial

সংখ্যার ম্যাজিক

সম্পাদকীয় বিভাগ

চলতি অর্থ বর্ষের (২০২৬-২০২৭) প্রথম ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন সংস্থাগুলির পূর্বাভাসকে পেছনে ফেলে ৭.৮ শতাংশ হয়েছে সরকারিভাবে ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান দপ্তর। এমনকি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অনুমান যেখানে ছিল ৭ শতাংশ সেখানে এমন অপ্রত্যাশিত ও অভাবনীয় উচ্চ হারে বৃদ্ধিতে আনন্দের সীমা পরিসীমা নেই। নেতা-মন্ত্রী থেকে শুরু করে ভক্তরা এবং আইটি সেল সাফল্যের প্রচারে ঝড় তুলে দিয়েছে। খোদ প্রধানমন্ত্রী বিদেশে বসে রিল বানিয়ে প্রচার করতে বিন্দুমাত্র বিলম্ব করেনি।
কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষিত এই হার যে কোনও দেশের থেকে অনেক বেশিই শুধু নয়, বলা যায় দুনিয়া‍‌ জুড়ে যত অঘটন, বিপর্যয়ই ঘটুক না কেন মোদীর নেতৃত্বে ভারতের অর্থনীতি অবিশ্বাস্য গতিতে বিকশিত হচ্ছে আর কোনও দেশ মোদীর ভারতের ধারে কাছেও আসতে পারছে না। কোন জাদুকাঠির ছোঁয়ায় মোদীরা এমন অসাধ্য সাধন করে ফেলেছেন সেটা ভেবে কূল-কিনারা খুঁজে পাচ্ছে না অন্যান্য দেশ।
তাজ্জব ব্যাপার হলো ভারতের রপ্তানি কমছে, টাকার দাম তলানিতে, জিনিসের দাম অনেক বেশি। পাইকারি ও খুচরোর মুদ্রাস্ফীতির মধ্যে বিরাট ফারাক। বেসরকারি বিনিয়োগ নেই বললেই চলে। কারখানায় উৎপাদন ক্ষমতা বাড়েনি। পারিবারিক সঞ্চয় তলানিতে। সাধারণ মানুষের ভোগ ব্যয় বাড়েনি। নতুন কর্মসংস্থান নেই। মজুরির হার বা মানুষের আয় বাড়েনি অথচ মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন রেকর্ড উচ্চতায় বেড়েছে।
বিশ্বাস করছেন না অনেকেই। ইতিমধ্যেই নানা যুক্তি বিশ্লেষণ হাজির করে কেউ কেউ ফাঁকিটা ধরিয়ে দেবার চেষ্টা করছেন। তবে মোদী  জমানায় তথ্য পরিসংখ্যানের উপর বিশ্বের খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদদের অনেকেরই ভরসা নেই। সেটা তার আগে অনেকবার বলেছেন। মজার বিষয় হলো এই জমানায় ঘনঘন সমীক্ষা পদ্ধতি, গণনা পদ্ধতি, ভিত্তিবর্ষ বদলানো হয়। যে সব তথ্য পরিসংখ্যানে পর্যাপ্ত সাফল্যের ছবি থাকে না সে সব পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আসে না। তার পরই গণনা পদ্ধতি বা সমীক্ষার ধরন বদলে নতুন কায়দায় তথ্য-পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়। আর যখনই নতুন পদ্ধতিতে ও নতুন কায়দায় গণনা হয় তখনই দেখা যায় উচ্চ সাফল্য আসছে। আর যদি আগের পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় তাহলে দেখা যাবে সাফল্য মোটেই তারিফ করার মতো নয়। এইভাবে মানুষের মাথায় ঘোল ঢেলে দিব্যি ১৬ বছর কাটিয়ে দিয়েছেন ৫৬ ইঞ্চির বিশ্বগুরু।

Comments :0

Login to leave a comment