টাটা সন্সের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন এন চন্দ্রশেখরন। আগামী ১৮ অগস্ট সংস্থার বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) আগে তার এই সিদ্ধান্ত ঘিরে টাটা গোষ্ঠীর অন্দরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও তার বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে। চন্দ্রশেখরন জানিয়েছেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি আর পুনর্নিয়োগের জন্য আগ্রহী নন।
এক বিবৃতিতে চন্দ্রশেখরন বলেন, টাটা গোষ্ঠীর সঙ্গে তার পেশাগত জীবনের ৪০ বছর পূর্ণ হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ তার কাছে অত্যন্ত সন্তোষজনক ছিল বলেও জানান তিনি। গত এক দশক ধরে টাটা সন্সের নেতৃত্ব দেওয়া তার কাছে একই সঙ্গে সম্মানের এবং গভীর দায়িত্বের বিষয় ছিল বলে উল্লেখ করেন।
চন্দ্রশেখরন আরও জানিয়েছেন, তার উত্তরসূরি বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার জন্য তিনি টাটা সন্সের বোর্ডকে অনুরোধ করেছেন, যাতে দায়িত্ব হস্তান্তর সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়।
তার পদত্যাগের ঘোষণার পরেই শেয়ার বাজারে টাটা গোষ্ঠীর একাধিক সংস্থার শেয়ারে চাপ দেখা যায়। বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ টাটা পাওয়ারের শেয়ার ১.২৬ শতাংশ, টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস)-এর শেয়ার ৩.৯ শতাংশ এবং টাটা স্টিলের শেয়ার ১.৮৩ শতাংশ পড়ে যায়।
চন্দ্রশেখরনের পদত্যাগের নেপথ্যে টাটা সন্সের শেয়ারহোল্ডারদের সঙ্গে টানাপোড়েন এবং টাটা ট্রাস্টসের চেয়ারম্যান নোয়েল টাটার সঙ্গে মতপার্থক্যের বিষয়টি উঠে এসেছে।
চন্দ্রশেখরনের বিবৃতি অনুযায়ী, স্যার দোরাবজি টাটা ট্রাস্ট এবং স্যার রতন টাটা ট্রাস্ট তার পরবর্তী পাঁচ বছরের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সর্বসম্মতভাবে সুপারিশ করেছিল। টাটা সন্সের নমিনেশন অ্যান্ড রেমুনারেশন কমিটি এবং বোর্ডও সেই প্রস্তাব নথিভুক্ত করে সুপারিশ করেছিল। ২০২৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি টাটা সন্সের বোর্ডে তোলা হলেও একজন বোর্ড সদস্য প্রস্তাবটির পক্ষে সমর্থন জানাননি। সর্বসম্মত সমর্থন না থাকায় তিনি তখন সিদ্ধান্তটি স্থগিত রাখেন। শেষ পর্যন্ত পুনর্নিয়োগের জন্য আর এগিয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন চন্দ্রশেখরন।
টাটা সন্স এবং টাটা ট্রাস্টসের মধ্যে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। বোর্ডে প্রতিনিধিত্ব, গোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ কৌশল এবং সংস্থার সংখ্যালঘু অংশীদার শাপুরজি পালোনজি গোষ্ঠীর সম্ভাব্য প্রস্থানের মতো বিষয়গুলি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন রয়েছে।
চন্দ্রশেখরনকে টাটা সন্সের চেয়ারম্যান পদে পুনর্নিয়োগের প্রশ্নে নোয়েল টাটার আপত্তির পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয় বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। নোয়েল টাটার ছেলে নেভিল টাটাকে টাটা গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
১৯৮৭ সালে টাটা গোষ্ঠীতে যোগ দেন চন্দ্রশেখরন। ২০০৯ সালে তিনি টিসিএসের সিইও হন। এরপর ২০১৭ সালে টাটা সন্সের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বে টাটা গোষ্ঠী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনা, টিসিএসের ব্যবসায় মূল্য নির্ধারণ নিয়ে চাপ এবং জাগুয়ার ল্যান্ড রোভারে সাইবার হামলার মতো সংকটও তার মেয়াদে সামলাতে হয়েছে সংস্থাকে।
টাটা সন্সের অধীনে টিসিএস, টাটা মোটরস, এয়ার ইন্ডিয়া-সহ টাটা গোষ্ঠীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা পরিচালিত হয়। তথ্যপ্রযুক্তি, ইস্পাত, বিমান পরিবহণ, প্রতিরক্ষা, ইলেকট্রনিক্স এবং সেমিকন্ডাক্টর-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে টাটা গোষ্ঠীর ব্যবসা রয়েছে। ফলে চন্দ্রশেখরনের সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের পর তার উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে এখন থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছে।
TATA
টাটা সন্সের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন এন চন্দ্রশেখরন
×
Comments :0