Rahul Gandhi, Kiren Rijiju

মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে রাহুল-রিজিজুর বাকযুদ্ধ, কেন্দ্রকে নিশানা বিরোধী দলনেতার

জাতীয়

মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে শনিবার সকালে সমাজমাধ্যমে তীব্র বাকযুদ্ধে জড়ালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। রাহুল গান্ধীর মহিলাদের ক্ষমতায়ন নিয়ে দেওয়া ভিডিও বার্তার প্রসঙ্গ টেনে কংগ্রেসকে মহিলা সংরক্ষণ বিল নিঃশর্তে সমর্থনের আহ্বান জানান রিজিজু। পাল্টা জবাবে রাহুল প্রশ্ন তোলেন, ২০২৩ সালে সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হওয়া আইন এখনও কেন কার্যকর করা হয়নি?
শুক্রবার ইনস্টাগ্রামে এক ভিডিও বার্তায় রাহুল গান্ধী বলেন, দেশের মহিলাদের শক্তিকে সামনে নিয়ে আসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের নিজেদের ইচ্ছা ও মত প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে। রাহুলের সেই বক্তব্যকে ইতিবাচক বার্তা বলে উল্লেখ করেন রিজিজু। একই সঙ্গে কংগ্রেসের মানসিকতায় পরিবর্তন এসেছে কি না, তা নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি।
সমাজমাধ্যম এক্স-এ রিজিজু লেখেন, ‘কংগ্রেসের তরফে এটি একটি ইতিবাচক বার্তা বলে মনে হচ্ছে। মহিলাদের বিষয়ে রাহুল গান্ধীর মানসিকতায় স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।’ এরপরই মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে কংগ্রেসের অবস্থান জানতে চান তিনি। রিজিজুর বক্তব্য, কংগ্রেসের উচিত কোনও শর্ত ছাড়াই মহিলা সংরক্ষণ বিলকে সমর্থন করা।
তবে রিজিজুর মন্তব্যের দ্রুত জবাব দেন রাহুল গান্ধী। তার প্রশ্ন, মহিলা সংরক্ষণকে কেন আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশনের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে?
রাহুল লেখেন, ‘সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে আপনার থেকে ভালো আর কে জানবেন যে ২০২৩ সালের মহিলা সংরক্ষণ বিল ইতিমধ্যেই পাশ হয়েছে এবং কংগ্রেস পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছিল। প্রশ্ন হল, তিন বছর পরেও তা কার্যকর করা হয়নি কেন? আর এখন কেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে এটিকে ডিলিমিটেশনের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে?’
এর পরেই কেন্দ্রের কাছে ২০২৩ সালের আইন কার্যকর করার দাবি জানান তিনি। রাহুলের স্পষ্ট বার্তা, ‘২০২৩ সালের আইন কার্যকর করুন। কোনও শর্ত ছাড়াই।’
মহিলা সংরক্ষণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্র এবং কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলির মধ্যে মতবিরোধ চলছে। ২০২৩ সালে সংসদে পাশ হওয়া আইনে লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। তবে আইনটি কার্যকর করার বিষয়টি আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।
কেন্দ্রের অবস্থান, লোকসভা ও বিধানসভায় আসন সংখ্যা পুনর্বিন্যাসের পরই মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করা হবে। অন্যদিকে কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলির দাবি, বর্তমান সংসদীয় আসন কাঠামোর ভিত্তিতেই মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ চালু করতে হবে। ডিলিমিটেশনকে মহিলা সংরক্ষণের পূর্বশর্ত করার বিরোধিতা করে আসছে বিরোধীরা।
এদিকে, বৃহস্পতিবারের ‘আস্ক মি এনিথিং’ পর্বে তরুণীদের শিক্ষা ও অধিকার নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেওয়ার পর শুক্রবার মহিলাদের ক্ষমতায়ন নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন রাহুল। তিনি বলেন, ভারতের মহিলাদের শক্তি দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। কিন্তু সেই শক্তি অনেকটাই আটকে রাখা হয়েছে এবং তাদের নিজেদের কথা বলার, নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয় না।
রাহুলের বক্তব্য, দেশের উন্নয়ন কেবল ব্যবসা বা রাজনীতিতে মহিলাদের সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পরিবারে নিজের মত প্রকাশ করা, রাস্তায় নিরাপদে চলাফেরা করা এবং বাবা-মা, স্বামী, ভাই-বোনের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করার স্বাধীনতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, পুরুষতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ থেকে মহিলাদের মুক্তি না হলে ভারতের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
মহিলা সংরক্ষণ বিলকে ঘিরে রাহুল গান্ধী ও কিরেন রিজিজুর এই প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ ফের একবার কেন্দ্র ও বিরোধীদের মধ্যে মহিলা সংরক্ষণ এবং ডিলিমিটেশন ইস্যুতে মতপার্থক্যকে সামনে এনে দিল।

Comments :0

Login to leave a comment