Karnataka

কর্ণাটকে ক্ষমতার পালাবদল: মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়ছেন সিদ্দারামাইয়া, নতুন মুখ্যমন্ত্রী শিবকুমার

জাতীয়

দীর্ঘ তিন বছরের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের অবসান। বৃহস্পতিবার সকালে কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা নিশ্চিত করলেন সিদ্দারামাইয়া। এর মাধ্যমে তার এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারের মধ্যে চলা দীর্ঘদিনের অন্তর্দ্বন্দ্বের অবসান ঘটলো, যা একসময় কর্ণাটকে কংগ্রেস সরকারকে রীতিমতো অস্বস্তিতে ফেলেছিল। সিদ্দারামাইয়া নিজেই নিশ্চিত করেছেন যে শিবকুমার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন।
বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুতে নিজের বাসভবনে শিবকুমার এবং সরকারের অন্যান্য মন্ত্রীদের সঙ্গে এক প্রাতরাশ বৈঠকে সিদ্দারামাইয়া বলেন, ‘কংগ্রেস হাইকমান্ড পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ডিকেএস-এর নাম প্রস্তাব করেছে। আমি এতে সম্মত হয়েছি।’
এই পরিস্থিতিতে রাজ্য কংগ্রেসের তরফে এক্স হ্যান্ডেলে ঐক্যের বার্তা দেওয়া হয়েছে। দুই নেতার আলিঙ্গনবদ্ধ এবং পাশাপাশি বসে থাকার ছবি পোস্ট করে লেখা হয়েছে, ‘সেদিন, এদিন, চিরদিন একতাই আমাদের বল! জনসেবাই আমাদের চিরন্তন অঙ্গীকার।’
এদিকে, সিদ্দারামাইয়ার পদত্যাগের খবর প্রকাশ্যে আসতেই ডিকে শিবকুমারের সমর্থকরা উল্লাসে মেতে ওঠেন। নেতার শিবকুমারের বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে তারা উল্লাস করেন এবং মিষ্টি বিতরণ করেন।
এই ঘোষণার আগে গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে দিল্লিতে কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক চলে। সোমবার এবং মঙ্গলবার সিদ্দারামাইয়া ও ডিকে শিবকুমার আলাদাভাবে এবং যৌথভাবে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং সাধারণ সম্পাদক কে সি বেনুগোপালের সঙ্গে বৈঠক করেন।
সূত্রের খবর, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এই রদবদলের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন। সিদ্দারামাইয়াকে পদত্যাগে রাজি করাতে রাজ্যসভার একটি আসনের প্রস্তাব করা হয়েছে। 
দিল্লির বৈঠকের পরপরই সিদ্দারামাইয়া শিবকুমার ও অন্যান্য প্রবীণ মন্ত্রীদের প্রাতরাশের আমন্ত্রণ জানান। মশলা ধোসা, ইডলি, সম্বর, চাটনি এবং কেশরীবাথের মতো কন্নড় খাবারের মেনু দিয়ে সাজানো এই বৈঠকে দুই নেতার আলিঙ্গনের ছবি দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে, যা দীর্ঘদিনের তিক্ততাকে পিছনে ফেলার একটি স্পষ্ট বার্তা।
২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের বিশাল জয়ের পর থেকেই একটি অলিখিত ক্ষমতা ভাগাভাগির গুঞ্জন ছিল। সেই সময় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় প্রথম আড়াই বছর সিদ্দারামাইয়া মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন এবং পরবর্তী সময়ে দায়িত্ব নেবেন শিবকুমার। যদিও কোন পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে এই কথা স্বীকার করা হয়নি।
২০২৪ সাল জুড়ে চলতে থাকা জল্পনা ২০২৫ সালের নভেম্বরে চরমে পৌঁছায়, যখন শিবকুমারের অনুগামীরা ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য চাপ দিতে শুরু করেন। প্রথমে সিদ্দারামাইয়া পদ ছাড়তে নারাজ হলেও, ২০২৮ সালের নির্বাচনে প্রতিষ্ঠান-বিরোধী হাওয়া সামলাতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশের কাছে অবশেষে মাথা নত করেছেন তিনি।
সিদ্দারামাইয়া এখনই রাজ্যসভার প্রস্তাব গ্রহণ করবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সূত্রের খবর বরুণা কেন্দ্র থেকে বিধায়ক হিসেবে মেয়াদ পূর্ণ করতে চান এবং জাতীয় রাজনীতিতে পা রাখার আগে ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি সারতে চান।
তবে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে কর্ণাটকের নেতৃত্ব এখন ডিকে শিবকুমারের হাতে। শিবকুমারের সমর্থকদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, বিজেপি জোটসঙ্গী জেডিএস (JDS)-এর থেকে ভোক্কালিগা ভোটব্যাঙ্ক ছিনিয়ে এনে কংগ্রেসকে জেতানোর পুরস্কার হিসেবে তাকেই প্রথম মুখ্যমন্ত্রী করা উচিত ছিল। তবে সেই সময় বিশাল 'অহিন্দা' ভোটব্যাঙ্কে প্রভাবের কারণে দল সিদ্দারামাইয়াকেই বেছে নিয়েছিল। এবার তিন বছর পর সেই অপেক্ষার অবসান ঘটলো।

Comments :0

Login to leave a comment