জয়ন্ত সাহা: মাথাভাঙা
স্বাধীনতা দিবস বছরে দুবার পালিত হয় মাথাভাঙার সাবেক ছিটমহল নলগ্রাম, ফলনাপুরে! ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই এসব এলাকা ভারতভূক্ত হয়েছিল। সেই দিনটি ওদের কাছে স্বাধীনতা দিবস। প্রথম কয়েক বছর সাড়ম্বরে পালন করা হত সেই দিনটি। এখন সাবেক ছিটমহলের বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠন নিজেদের মতো করেই দিনটি উদযাপন করে। সাবেক ছিটমহলের বাসিন্দাদের দাবি, এদেশে অর্ন্তভুক্তির দিনটি ও এদেশের স্বাধীনতা দিবস দুটোই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। বছরে এই দুই দিনেই জাতীয় পতাকা তুলে দিনটিকে পালন করি আমরা।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয় এদেশে থাকা বাংলাদেশি ছিটমহল গুলো। অপরদিকে বাংলাদেশের অভ্যান্তরে থাকা ভারতীয় ছিটমহল সেদেশের সঙ্গে যুক্ত হয়। তার আগে এই ছিটমহল গুলোতে ছিলনা আইনের শাসন। এক অন্ধকার রাজত্বে বসবাস করতো কয়েক হাজার ছিটমহলবাসী। ছিটমহল বিনিময়ের ফলে দীর্ঘ বঞ্চনার অবসান ঘটে এখানকার বাসিন্দাদের। ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে সাবেক ছিটমহলজুড়ে তাই শুরু হয়েছিল অকাল দীপাবলি। আলোয় সেজে উঠেছিল নলগ্রাম, ফলনাপুর সহ জেলার অন্যান্য ১১১ টি ছিটমহল। তার পর থেকে ৩১ জুলাইকে ঘিরে সাবেক ছিটের বাসিন্দাদের মধ্য তৈরি হয় এক আবেগ। প্রতিবছর ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে দিনটি নানাভাবে উদযাপন করে বাসিন্দারা। ৩১ জুলাই মধ্যরাতে ঘড়িতে ১২টা বাজতেই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে, জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে, মোমবাতি জ্বালিয়ে সাবেক ছিটের বাসিন্দারা স্বাধীনতা দিবস পালন করলেন। অপরদিকে ১৫ আগষ্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবসও সাবেক ছিটমহলে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়। ১৫ আগস্টের পাশাপাশি ৩১ জুলাই মধ্যরাতে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণ করেই সাবেক ছিটমহলের বাসিন্দারা পালন করলেন তাঁদের স্বাধীনতা দিবস। নতুন প্রজন্মের সামনে ২০১৫ সালের সেই ঐতিহাসিক রাতের কথা তুলে ধরেন।
ছিটমহলের বাসিন্দা শ্যামল কুমার মহন্ত জনালেন, আমাদের আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড সহ সমস্ত কাগজ রয়েছে। তাঁর বক্তব্য বাংদেশের ছিটমহল বাসীন্দার তাদের জমির নথি পেয়ে গেছেন, কিন্তু আমাদের নিজের জমি, তার দলিল, খতিয়ান ১৫ বছর পরেও মেলে নি। আপাতত সরকারের তরফে জমির একটি খসরা আমার পেয়েছি তবে সেটা দিয়ে সব কাজ হয়না। জমি কেনা বেচা হয় না এখানে। হয় টাকার বিনিময়ে হাতবদল। ছিটমহলের বাসিন্দাদের প্রশ্ন কবে মিলবে সুরাহা! এরপরেও দুবার স্বাধীনতা দিবসে মেতে ওঠে সাবেক ছিটমহল নলগ্রাম। ফলনাপুর ছিটমহলের বাসিন্দা রথেশ্বর বর্মন বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের ছিটমহল যুক্ত হওয়ার দিনটি আমাদের কাছে স্বাধীনতা দিবস। সেই দিনটি আমরা যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করি। অপরদিকে যেদেশের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি সেই দেশের স্বাধীনতা দিবসও আমাদের কাছে স্মরণীয় দিন। আমরা বছরে দুটি দিন যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করি। এবারেও ১৫ আগষ্ট পালনের প্রস্তুতি চলছে পাড়ায় পাড়ায়।
ছিটমহল আন্দোলনের নেতা বীজেন্দ্রনাথ বর্মন বলেন, ছিটমহলের সংযুক্তি করনের দিনটি আমাদের কাছে প্রকৃত স্বাধীনতার দিন। সেই দিনটি প্রতিবছর পালন করি আমরা। অপরদিকে ভারতের স্বাধীনতা দিবসও আমাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। বছরে দুটি দিনকে মর্যাদা সহ পালন করি আমরা।
Mathabhanga
বছরে দুবার স্বাধীনতা দিবস পালিত হয় মাথাভাঙার সাবেক ছিটমহলে
×
Comments :0