Md Salim on OBC Reservation

ধর্ম নয়, ওবিসি সংরক্ষণের ভিত্তি অনগ্রসরতা, যুক্তি বহাল আদালতে: সেলিম

রাজ্য কলকাতা

বামপন্থীরা ওবিসি সংরক্ষণ চালু করেছে, ৭ শতাংশ সংরক্ষণ থেকে ১৭ শতাংশ করেছে। মমতা ব্যানার্জি ওবিসি আইন করল। সেই আইন পরে বাতিল হলো। বিজেপি সেই সুযোগে সংরক্ষণ কমিয়ে দিয়েছে। এরা আসলে অনগ্রসর মানুষের সংরক্ষণের বিরোধী। 
বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা বলেছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। এদিন বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী বিল সম্পর্কেও বক্তব্য জানান তিনি। সেলিম বলেন, সবচেয়ে বেশি সহায়তা পেয়েছে আরএসএস এবং তার সহযোগী বিভিন্ন সংগঠন।


সেলিম বলেন, "বিজেপি’র আইটি সেল সংরক্ষণের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছে। সাচার কমিটি গড়া হয়েছিল মুসলিমদের পরিস্থিতি দেখার জন্য। ওই রিপোর্ট বলেছিল এ রাজ্যে ২৫ শতাংশ মুসলিম হলেও ২ শতাংশ সরকারি চাকরি করেন। তখন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি রঙ্গনাথ মিশ্রের নেতৃত্বে কমিশন সুপারিশ করে। সেই সুপারিশ কার্যকর হয় পশ্চিমবঙ্গে। যে অংশের মুসলিমরা সামাজিক বিচারে অনগ্রসর, তাদের সংরক্ষণ চালু হয়। ৭ শতাংশ থেকে ১৭ শতাংশ ওবিসি সংরক্ষণ চালু হয়।’’
সেলিম বলেন, ‘‘আমরা ধর্মের নামে সংরক্ষণের বিরোধী। সংবিধানে সেই সংস্থান নেই। যে যে রাজ্যে ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ চালু করে সুপ্রিম কোর্ট তা বাতিল করেছে। ওবিসি সংরক্ষণের ভিত্তি ধর্ম নয়, ভিত্তি আসলে পেশা। ভিত্তি সামাজিক অনগ্রসরতা।’’
সেলিম বলেন, ‘‘আদালতের রায়ে বাতিল হয়েছে ওবিসি সংরক্ষণের যে অংশ তা  ২০১১’র পর করা হয়েছে। বামফ্রন্ট সরকার ওবিসি কমিশনকে দিয়ে সমীক্ষা করিয়ে অনগ্রসর অংশগুলিকে চিহ্নিত করেছিল। আর তৃণমূল সরকার কমিশনকে  দায়িত্ব দেয়নি। তাদের সাংসদ-বিধায়করা ইচ্ছেমতো সার্টিফিকেট বিলি করেছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘বামফ্রন্ট সরকারের সময় যে ৬৬টি জনগোষ্ঠীকে আওতায় আনা হয়েছিল তাদের সংরক্ষণ কিন্তু আদালত বাতিল করেনি। সবার সংরক্ষণ বাতিল হয়নি। একথা প্রচার করা হচ্ছে না।’’ সেলিম বলেন, ‘‘তৃণমূলও আদালতে ঠিকমতো লড়েনি, আর বিজেপি তো সংরক্ষণের বিরোধী, মামলা তুলে নিল।’’ সেলিম বলেন, ‘‘সংরক্ষণের মূল যুক্তি কিন্তু বজায় রয়েছে। আদালত কোথাও বলেনি যে অনগ্রসরতা নেই। বলেছে অনগ্রসরতা চিহ্নিত করার প্রক্রিয়ায় গলদ রয়েছে।’’ 
ওবিসি সংরক্ষণ দরকার হলো কেন তার ব্যাখ্যা দেন সেলিম। তিনি বলেন, ১৯৫০ সালে সংরক্ষণের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। সেখানে গলদ ছিল। বিজ্ঞপ্তিতে সংরক্ষণের জন্য তফসিলি জাতি এবং আদিবাসী (এসসি, এসটি) শব্দের সঙ্গে ‘হিন্দু’ জুড়ে দেওয়া হলো। অনেক আদিবাসী হিন্দু নন। অনেক তফসিলি জাতিভুক্ত মানুষও হিন্দু নন। ওই বিজ্ঞপ্তিতে ত্রুটি ছিল ধর্মের উল্লেখ থাকায়। সে কারণে পরে জটিলতা হয়।
বিজেপি’র অবস্থানের সমালোচনা করে সেলিম বলেন যে ৯ আগস্ট আদিবাসী দিবসে দপ্তর নির্দেশ দিল অনুষ্ঠান হবে না। মন্ত্রী বলছে আমি জানি না। সরকার কেন করছে না সরকারি মন্ত্রী জানে না! 
এদিকে বিদেশি সহায়তা নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন বিল প্রসঙ্গে সেলিম বলেন, ১৯৮০ থেকে বিদেশি সহায়তা কত এসেছে কারা পেয়েছে সেই তথ্য কেন্দ্রের সরকার দিক। সবচেয়ে সহায়তা পেয়েছে আরএসএস। 
এই প্রসঙ্গেই সেলিম বলেন, বামপন্থীরা বরাবর বলে এসেছে দেশের অর্থনীতি, ধর্মে বিদেশি প্রভাব থাকবে না। আমরা দাবি করেছি বিদেশি সহায়তা বিভিন্ন বেসরকারি কাজে এসেছে, বিভিন্ন সংগঠনকে দেওয়া হয়েছে, তা কোথায় গিয়েছে দেখতে কমিটি গড়তে হবে। প্রধানমন্ত্রী ইন্দ্রকুমার গুজরালের সরকার উচ্চপর্যায়ের কমিটি গড়া হয়। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কাছে তথ্য ছিল কারা টাকা পাঠিয়েছে। কিন্তু টাকা পেল কারা দেখার দরকার ছিল। মাঝপথে সরকার পড়ে যায়। সেলিম বলেন, আমি এই কমিটিতে ছিলাম। সরকার পড়ে যাওয়ায় পদত্যাগ করি। কিন্তু চিঠি দিয়ে বলি যে কমিটি চালু থাকুক। কিন্তু অটলবিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার আসীন হওয়ার পর ওই কমিটি আর চালু থাকল না। বিদেশি অর্থ কারা পেয়েছে সেই তথ্য দিল না। কারণ বিদেশি সহায়তা সবচেয়ে বেশি পেয়েছে আরএসএস এবং তার সহযোগী বিভিন্ন সংগঠন। 
সেলিম বলেন, কেন্দ্রের সরকার যে বিল পেশ করেছে তাতে সাহস থাকলে বলুক সব বিদেশি আর্থিক সহায়তা খুঁজে দেখা হবে। নির্দিষ্ট কয়েকটি ক্ষেত্রকে কেবল চিহ্নিত করা হচ্ছে কেন।
উল্লেখ্য, বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণের এই বিল আলোচনার জন্য সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে।  

Comments :0

Login to leave a comment