Jharkhand

রাঁচিতে ছাত্রদের মিছিল ঘিরে উত্তেজনা, ব্যারিকেড ভেঙে বিধানসভার পথে; জলকামান চালাল পুলিশ

জাতীয়

নিয়োগ পরীক্ষায় একের পর এক প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং পরীক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে ঝাড়খণ্ড বিধানসভা অভিযানে নামলেন হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী। সোমবার রাঁচিতে বিক্ষোভ মিছিল ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। ব্যারিকেড ভেঙে পড়ুয়াদের একাংশ বিধানসভার দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে।
জলকামানের প্রবল স্রোতের মুখেও বিক্ষোভকারীদের একাংশকে নাচতে দেখা যায়। পরিস্থিতিতে বিহারের পটনায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনকারীদের দমাতে জলকামান ব্যবহারের সাম্প্রতিক দৃশ্যের কথাও মনে করাচ্ছে।
নিয়োগ পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পড়ুয়ারা এদিন ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জেলা থেকে রাঁচিতে জড়ো হন। ট্রেন, বাস এবং অন্যান্য যানবাহনে করে সকাল থেকেই বিপুল সংখ্যায় ছাত্রছাত্রী রাজ্যের রাজধানীতে পৌঁছান। তাদের মূল দাবি, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম বন্ধ করা এবং পরীক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা।
আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র মাহাতো, যিনি অনশনেও বসেছিলেন, বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে আবেদন করেন, পুলিশ বাধা দিলে তাদের সঙ্গে তর্কে না জড়িয়ে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে বিধানসভায় পৌঁছনোর বিকল্প পথ খুঁজে নিতে। তবে পরে ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশ জলকামান চালায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাঁচির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও স্পর্শকাতর এলাকায় ব্যারিকেড তৈরি করে প্রশাসন। মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশকর্মী। কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, তার জন্য শহরজুড়ে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিক্ষোভের জেরে এদিন রাঁচির অধিকাংশ স্কুলও বন্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বাসভবনের বাইরে বিজেপি নেতারাও বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। ফলে ছাত্রদের আন্দোলনের পাশাপাশি রাজনৈতিক উত্তেজনাও তৈরি হয়েছে ঝাড়খন্ডের রাজধানীতে।
ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (JPSC) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (JSSC)-এর বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করেই মূলত ছাত্রদের এই আন্দোলন। গত ১৬ দিন ধরে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন আন্দোলন চালিয়ে আসছে।
আন্দোলনরত সংগঠনগুলির সঙ্গে সরকার নিযুক্ত কমিটির একাধিক দফায় আলোচনা হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। রবিবার ষষ্ঠ দফার বৈঠকও কোনও সমাধানসূত্র আনতে পারেনি। ছাত্রদের দাবি, নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য সিবিআই তদন্ত করতে হবে।
অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের দাবি, আন্দোলনকারীদের প্রায় ৯৮ শতাংশ দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। তাই ছাত্রদের আন্দোলন প্রত্যাহার করার আবেদন জানিয়েছে সরকার।
তবে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, তারা যে ১৩টি পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়েছিলেন, তার মধ্যে মাত্র তিনটি বাতিল করতে সরকার সম্মত হয়েছে। JPSC-JSSC Reforms Manch-এর নেতা রবীন্দ্র পাসওয়ান জানিয়েছেন, সিবিআই তদন্তের দাবিতে তারা অনড়। আন্দোলনের অংশ হিসেবে এখনও ছয়জন বিক্ষোভকারী অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।
এর আগে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন আশ্বাস দিয়েছিলেন, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, সোমবারের আন্দোলনের মধ্যেই JPSC-তে বড়সড় রদবদল হয়েছে। কথিত নিয়োগ অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সিআইডির তলব পাওয়ার পর গতকাল কমিশনের তিন সদস্য পদত্যাগ করেছেন। এর আগে গত ২২ জুলাই JPSC-র চেয়ারম্যান এল খিয়াংতে পদত্যাগ করেছিলেন।
সব মিলিয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা, প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ এবং সিবিআই তদন্তের দাবিতে ছাত্র আন্দোলন ঘিরে সোমবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাঁচি। এখন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর।

Comments :0

Login to leave a comment