Uttam Kumar

উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষে বছরভর উদ্‌যাপন, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্য কলকাতা

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বছরভর নানা কর্মসূচি গ্রহণ করবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বৃহস্পতিবার টালিগঞ্জে উত্তম কুমারের মূর্তিতে মাল্যদান করে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক, প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি, দেব, জিৎ সহ চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্টরা।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপন শুধুমাত্র কয়েক দিনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বছরজুড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক কর্মসূচি এবং স্মরণসভা আয়োজন করা হবে। তার কথায়, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ১২৫তম জন্মবার্ষিকীর মতোই গুরুত্ব দিয়ে উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ পালন করা হবে।
উত্তম কুমারের জনপ্রিয়তা ও সাংস্কৃতিক অবদান নিয়ে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তার উত্তরাধিকারকে নতুন করে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সাধারণ মানুষই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসে প্রমাণ করেছেন, বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনে উত্তম কুমারের স্থান কতটা গভীর।
জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে উত্তম কুমারের নামে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। কলকাতা পৌরসভার উত্তম মঞ্চ সংস্কার করা হবে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় থাকা উত্তম কুমারের মূর্তিগুলির ছবিও সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই কাজে অভিনেতা প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জির সহযোগিতা করছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
এছাড়াও কলকাতায় উত্তম কুমারের নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। শুক্রবার সকালে সেই প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি।
জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফেও বিশেষ উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। উত্তম কুমারের ছবি-সহ একটি স্মারক মুদ্রা এবং ডাকটিকিট প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।
এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে উত্তম কুমারকে স্মরণ করার কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তার দাবি, গত ৩০ আগস্টের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে উত্তম কুমারের কথা বলেছেন। পাশাপাশি সমাজমাধ্যমেও তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের এই কিংবদন্তিকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একসময় সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে গোটা দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছিল বাংলা। কিন্তু পরবর্তীকালে দেশের অন্যান্য অঞ্চল, বিশেষত মুম্বই, অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষকে কেন্দ্র করে বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ফের সামনে আনারও সুযোগ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এই উদ্‌যাপনকে রাজনৈতিক রং দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তার কথায়, সরকার এই কর্মসূচির কৃতিত্ব দাবি করবে না বা বিষয়টিকে রাজনীতিকরণ করবে না। শিল্পী ও সাংস্কৃতিক জগতের সঙ্গে যুক্ত সকলের উদ্যোগে সরকার পূর্ণ সহযোগিতা করবে।
এদিন বিকেল ৫টায় উত্তম কুমারের বাসভবন পর্যন্ত একটি শোভাযাত্রারও ডাক দেন মুখ্যমন্ত্রী। সাধারণ মানুষকে সেই ‘শৃঙ্খলাবদ্ধ ও আনন্দময়’ শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমাজমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় উত্তম কুমারকে ‘অনস্বীকার্য মহানায়ক’ বলে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তার অতুলনীয় অভিনয় দক্ষতা, চিরন্তন আকর্ষণ এবং পর্দায় স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি বাংলা চলচ্চিত্রের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছিল। প্রজন্মের পর প্রজন্ম শিল্পীর কাছে তিনি হয়ে রয়েছেন অনুপ্রেরণার মাপকাঠি। ‘চিরন্তন ম্যাটিনি আইডল’ উত্তম কুমারের উত্তরাধিকার আগামী দিনেও বাংলা ও দেশের সাংস্কৃতিক পরিসরকে আলোকিত করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Comments :0

Login to leave a comment