CPI(M) SILIGURI

১৮-১৯ জুলাই শিলিগুড়ির গ্রামীণ এলাকায় নাগরিক কনভেনশন সিপিআই(এম)’র

জেলা

শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি পদত্যাগ করেছেন। শিলিগুড়ি মহকুমার ২২টি গ্রাম পঞ্চায়েত, একটি মহকুমা পরিষদ ও চারটি পঞ্চায়েত সমিতি অভিভাবকহীন অবস্থার মধ্যে পড়েছে। ফলে শিলিগুড়ি গ্রামীণ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা এবং পঞ্চায়েত ও মহকুমা পরিষদের অচলাবস্থা নিয়ে সোমবার দুপুরে হিলকার্ট রোডে অনিল বিশ্বাস ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন সিপিআই(এম) নেতৃত্ব। সিপিআই(এম) দার্জিলিঙ জেলা কমিটির পক্ষে এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের দার্জিলিঙ জেলার সম্পাদক সমন পাঠক, সিপিআই(এম)’র রাজ্য নেতা গৌতম ঘোষ, শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি অধ্যাপক তাপস সরকার ও ঝরেন রায়। নেতৃবৃন্দ জানান, এই অচলাবস্থা থেকে মুক্ত করতে গ্রামীণ সমস্ত এলাকার মানুষদের মতামত জানতে আগামী ১৮ ও ১৯ জুলাই গ্রামীণ এলাকায় নাগরিক কনভেনশন হবে। এদিন নেতৃবৃন্দ বলেন, শিলিগুড়ি কর্পোরেশনের মতো শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদেও আরোও বেশী অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন থেকেই শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের কোন উন্নয়নের কাজকর্ম হয়নি গ্রামীন এলাকায়। ১০০দিনের কাজ, পঞ্চায়েতের সুবিধা ও পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে গ্রামীন মানুষ বঞ্চিত। মহকুমা পরিষদে দুর্নীতি হয়েছে ব্যাপকভাবে। বিগত তৃণমূল সরকারের সময়ে
শিলিগুড়ি গ্রামীন এলাকায় আর্থিক দুর্নীতি ও ঠিকাদারিতন্ত্র জাকিয়ে বসেছিলো। গ্রামীন এলাকার এই সময়ে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি। নালা নর্দমা, রাস্তাঘাটের সংষ্কার কিছুই হয়নি। জল উপছে পড়েছে। নদী ভাঙন অব্যাহত। জিসিবি দিয়ে নদী থেকে বালি পাথর উত্তোলন সবই চলছে দেদারভাবে। এখন বর্ষা শুরু হয়েগেছে। এই বিপদের সময় মানুষ কাছে চাইবেন জনপ্রতিনিধিদের। কিন্তু এমন একটা সময়ে সভাধিপতি পদত্যাগ করে চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। গ্রামীন এলাকার এই অচলাবস্থা সৃষ্টির জন্য দায়ি বিগত ও বর্তমান রাজ্যের শাসকদল। মানুষ বিরক্ত। কিন্তু প্রথম থেকে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের কাজকর্ম পরিচালনার ক্ষেত্রে আমরা গঠনমূলক আলোচনা করার পাশাপাশি দাবিদাওয়া তুলে ধরে লড়াই আন্দোলনে রয়েছি।
নেতৃবৃন্দ বলেন, উন্নয়নের জোয়ারে ভাসিয়ে দেওয়া হবে শিলিগুড়ির শহর ও গ্রামের মানুষদের। এমন অনেক কিছুই ডবল ইঞ্জিনের সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলো। কিন্তু নবগঠিত রাজ্য সরকারের এই দেড় মাস সময়ে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের তৃণমূল বোর্ড টিকতে পারলো না। কর্পোরেশনের মেয়র, মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি সহ একে একে সকলের পদত্যাগের হিরিক পড়েছে। পাহাড়েও একই অবস্থা। নির্দিষ্ট সময়ের আগে এইভাবে শিলিগুড়ি শহর ও গ্রামাঞ্চলকে বেহাল অবস্থায় রেখে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সবাই পালিয়ে যাচ্ছে। শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতির পদত্যাগের সঠিক কোন কারন জানা যায়নি। এটা সঠিক কোন পন্থা নয়। তৃণমূলের সরকার থাকাকালীন ২০২৫সালে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদে বামপন্থীরা বোর্ডের পাঁচ বছরের মেয়াদ সীমিত ক্ষমতা, আর্থিক প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও স্বচ্ছ ও সততার সাথে পূর্ন করেছিলো। সেই সময় তৃণমূল সরকারের পুলিশকে ব্যবহার পঞ্চায়েত জবরদখলের রাজনীতির তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে বামপন্থীদের। তবুও শেষ সময় পর্যন্ত লড়াই করে নির্বাচিত বোর্ড পরিচালনা করেছি। শিলিগুড়ির গ্রামীন এলাকার জন্য সুস্থতা স্থিতিশীলতার জন্য বামপন্থীদের ওপরেই আস্থা রাখার আহ্বান জানান।

Comments :0

Login to leave a comment