অনিন্দিতা দত্ত : শিলিগুড়ি
এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া প্রকৃত ভোটারদের নাম দ্রুত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে ও নির্বাচন কমিশনের অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও শিলিগুড়ি মহকুমা শাসকের দপ্তরে বিক্ষোভ দেখালো সিপিআই(এম)। সিপিআই(এম) দার্জিলিঙ জেলা কমিটির পক্ষ থেকে মঙ্গলবার দুপুরে মহানন্দা সেতুর নীচে সমবেত হয়ে মিছিল করে শিলিগুড়ি মহকুমা শাসকের দপ্তরের সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান সিপিআই(এম) নেতৃত্ব সহ কর্মীরা। কর্মসূচি থেকে আওয়াজ উঠেছে ভোটারদের হয়রানি করা বন্ধ করো, এসআইআরের নাম করে কোনভাবেই প্রকৃত ভোটারদের নাম বাতিল করা চলবে না, এসআইআর’র নামে সাধারন মানুষের হয়রানি করানো বিজেপি সরকারের চক্রান্তের বিরুদ্ধে সমস্ত মানুষকে এক হও। মিছিল শেষে শিলিগুড়ি মহকুমা শাসকের দপ্তরের সামনে বসে পড়ে দীর্ঘ সময় ধরে চলে বিক্ষোভ। মহকুমা শাসকের দপ্তরের সামনে সভা হয়। বিক্ষোভ প্রদর্শন ও সভা চলাকালীন সিপিআই(এম) নেতৃবৃন্দ শিলিগুড়ি মহকুমা শাসকের সঙ্গে দেখা করে দাবিদাওয়া সম্বলিত স্মারকলিপি তুলে দেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন সমন পাঠক, গৌতম ঘোষ, দিলীপ সিং, ঝরেন রায়, জয় চক্রবর্তী।
এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন ভোটার তালিকা থেকে প্রকৃত ভোটারদের নাম অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে ভোটাধিকার প্রয়োগের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। ‘রিপ্রেজেন্টেশন অফ পিপলস্ অ্যাক্ট ১৯৫১’ এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত প্রযোজ্য নিয়মাবলী অনুসারে, নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ না করে, উপযুক্ত কারন না দর্শিয়ে এবং প্রভাবিত ভোটারদের নিজ বক্তব্য পেশ করার সুযোগ না দিয়ে যোগ্য ভোটারের নাম ইচ্ছেমতো বাদ দেওয়া যায় না। উপযুক্ত যাচাইকরণের মাধ্যমে আইন ও উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নির্দেশিকা মেনে এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন বাদ পড়া প্রকৃত ভোটারদের নাম পুনঃঅন্তর্ভুক্তিকরণ করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা, কোনও বৈধ ভোটার যাতে ভোটাদানের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন সেকারনে দাবিগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি করা ইত্যাদি বিষয়গুলি স্মারকলিপিতে দাবি আকারে তুলে ধরা হয়েছে।
এদিন সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির প্রবীন নেতা জীবেশ সরকার বলেন, "এসআইআরের নাম করে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার যেভাবে ফর্ম ছয়ের পরিবর্তন করে গরীব, সংখ্যালঘু, মহিলাদের নাম বাদ দিয়েছে এর বিরুদ্ধে অবিলম্বে তাকে বরখাস্ত করা দরকার। শুধু পদত্যাগই নয়, তাকে উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে। আর এসআইআরের নাম করে যেভাবে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়েছে সেই নামগুলি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এই দাবিতে গোটা দেশ ও রাজ্যের পাশাপাশি শিলিগুড়িতেও আমাদের আজকের প্রতিবাদ মিছিল। আমরা আজকে তথ্য জমা দিয়ে ইলেকশন অফিসারের কাছে জ্ঞানেশ কুমারকে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছি।মানুষের ভোটের অধিকার হিটলারি, ফ্যাসিবাদী কায়দায় কেড়ে নেবার বিজেপি'র ষড়যন্ত্রের অন্যতম চাবিকাঠি জ্ঞানেশ কুমার।"
সিপিআই(এম) দার্জিলিঙ জেলা সম্পাদক সমন পাঠক বলেন, "২০২৬'র মধ্যেই এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া সমস্ত নাম নির্বাচন কমিশনকে দায়িত্ব নিয়ে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। গোটা দেশ জুড়ে ইলেকশন কমিশন অনিয়ম করে বিজেপিকে নির্বাচনে জয়ী করার সুবিধা করে দিতে গোটা কাঠামোকে নষ্ট করে দিয়েছে। কোন বৈধ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া চলবে না। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কঠিন শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এসআইআরের নামে বিজেপির রাজনীতির বিরুদ্ধে আমরা গরীব, প্রান্তিক, সংখ্যালঘু, প্রকৃত ভোটারদের পাশে থেকে লড়াই চালিয়ে যাব। নির্বাচন কমিশন বিজেপির দলদাস হয়ে কাজ করছে।"
সমন পাঠক আরও বলেন, " বাদ পড়া বহু মানুষের ফর্ম আজকে এসডিওর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। আগামী তিনদিন বাদ পড়া মানুষদের ফর্ম জমা নেওয়া হবে। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সংবিধান রক্ষার প্রশ্নে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চলবে। এসডিও'র মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষন করা হয়েছে প্রকৃত ভোটারদের ভোটার তালিকা সংশোধন করে পুনরায় তালিকাভুক্ত করা না হলে আগামীদিনে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।"
এছাড়াও, এসআইআরের প্রক্রিয়াতে অহেতুক জটিলতা তৈরী করে প্রকৃত ভোটারদের ভোটাধিকার হরণ করবার চক্রান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে মহকুমা শাসকের দপ্তরের সামনে সভায় বক্তব্য রাখেন রত্না চৌবে, মোহন পান্ডা সহ ময়ূখ বিশ্বাস। উপস্থিত ছিলেন নুরুল ইসলাম, তাপস সরকার, সৌরভ সরকার, মৌসুমী হাজরা, স্নিগ্ধা হাজরা সহ জেলার ছাত্র, যুব, মহিলারা।
Comments :0