Evictions

উচ্ছেদে ঘর হারানো মানুষের জন্য হাবড়ায় কমিউনিটি কিচেন

জেলা

সুস্মিত দাস: হাবড়া

রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই বিভিন্ন স্টেশন ও সংলগ্ন রেলের জমিতে জবরদখল করে গড়ে ওঠা দোকানপাট ভাঙার কাজ শুরু করেছে। শিয়ালদহ, দমদম, যাদবপুর, টালিগঞ্জে আগেই হকার উচ্ছেদ হয়েছে। পূর্ব রেলের শিয়ালদা-বনগাঁ শাখায় বিভিন্ন রেল স্টেশনে হকার উচ্ছেদের নোটিশ জারি হয়েছে গত কয়েকদিন আগে। গত মে মাসের শেষ দিকে রেল কর্তৃপক্ষ হাবড়া রেল স্টেশন ও তার বাইরে থাকা দোকানগুলিকে নোটিশ জারি করে ১৩ জুনের মধ্যে জায়গা খালি করে দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। তাদের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে যাঁরা দোকান তুলে নিয়েছিলেন, তাঁদের খুব একটা ক্ষতি হয়নি। তবে যে দোকানগুলি ওঠেনি, সেগুলিকে বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে দেওয়া হয় সোমবার গভীর রাতে। হাবরা রেল স্টেশন ও তার আশেপাশে রেলের জমিতে গত কয়েক দশক ধরে অসংখ্য দোকান গড়ে উঠে। স্টেশনের তিনটি প্ল্যাটফর্মেও অসংখ্য দোকান থেকে অসংখ্য প্রান্তিক মানুষের সংসার চালাতেন। সেই সব দোকানও রাতের অন্ধাকারে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রাত ৯টা থেকে ভাঙার কথা থাকলেও ভাঙা শুরু হয় তার বেশ কিছুক্ষণ আগে থেকেই। তিনটি বুলডোজার নিয়ে আসা হয় গরীব মানুষদের উৎখাত করতে। তখন সেখানে অসংখ্য সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে জমায়েত হয়েছিলেন সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্যা শ্রমিক আন্দোলনের নেত্রী গার্গী চ্যাটার্জী, পার্টি নেতা বাবুল কর, ঋজিনন্দন বিশ্বাস, প্রসেনজিৎ দত্ত, জয়ন্ত রায় চৌধুরী সহ অসংখ্য বাম কর্মী সমর্থকরা। বুলডোজার আটকাতে রেল পুলিশের সাথে পার্টি নেতৃত্বের বাকবিতন্ডা শুরু হয়। তাদের প্রবল বাধার মুখে প্রথমে পিছু হটে বুলডোজার। বিশাল পুলিশ বাহিনী লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যায় বামপন্থী কর্মী সমর্থকদের দিকে। একপ্রকার জোর করে সরিয়ে দেওয়া হয় তাদের। প্রথমেই ভেঙে ফেলা হয় হাবড়া স্টেশন সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ রেলওয়ে হকার্স ইউনিয়নের দপ্তর সহ আরও দুটি বামপন্থী শ্রমিক সংগঠনের দপ্তর। ভাঙা হয় অজস্র দোকান ঘর সহ অসংখ্য বসত বাড়ি। ফলত আজ থেকেই কর্মহীন ও গৃহহীন হয়ে পড়লেন হাবড়ার কয়েক হাজার প্রান্তিক মানুষ। তাদের হাহাকার আর কান্নার আওয়াজে ভারী হয়ে ওঠে হাবড়ার পরিবেশ।

 তবে, সেই সবকিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে হাবরা রেল স্টেশনের মুখে তৃণমূল পরিচালিত একটি ক্লাবঘর। যে ক্লাবঘরটি ভাঙার হাত থেকে বাঁচাতে, সেখানে রাতারাতি কালীমূর্তি বসিয়ে শুরু করে দেওয়া হয় কালী পুজো। আর পাশের তৃণমূল পরিচালিত দুগ্ধ সমবায় সমিতির অফিসেও রাধাগোবিন্দের মূর্তি বসিয়ে পুজো শুরু হয়ে যায়। ওই দুই মন্দিরের সামনে কালীমন্দির ও রাধাগোবিন্দের মন্দির লিখে দেওয়া হয়। কিন্তু, এত কিছু করেও কোনও লাভ হয়নি। বামপন্থীদের ক্রমাগত চালিয়ে যাওয়া আন্দোলনের ফলে রেল কর্তৃপক্ষ বাধ্য হন ওই ক্লাব ঘর আর ভেন্ডার সমিতির অফিস ভেঙে ফেলতে। রাতেই সবটাই ভেঙে দেওয়া হয়েছে বুলডোজার চালিয়ে ৷ পুনর্বাসন না দিয়েই গতকাল গভীর রাতের এই অনৈতিক উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার সিপিআই(এম)’র উদ্যোগে হাবড়ার রাজপথে ধিক্কার মিছিল সংঘটিত হয়। হাবড়ার বাগচীর পেট্রোল পাম্প থেকে শুরু হয় এই ধিক্কার মিছিল। নগরউখরা মোড় ঘুরে মিছিল শেষ হয় হাবড়া স্টেশনে। মিছিলে ছিলেন পার্টি নেতা সত্যসেবী কর, বাবুল কর, ঋজিনন্দন বিশ্বাস সহ পার্টির স্থানীয় নেতৃত্ব। অসংখ্য মানুষের উপস্থিতিতে এই মিছিল থেকেই আওয়াজ ওঠে, ‘‘বুলডোজারের সরকার, আর নেই দরকার।’’ বুলডোজারের আঘাতে গুঁড়িয়ে গেছে অসংখ্য প্রান্তিক মানুষের রুটি রুজির জোগান, কারও মাথার ছাদ। মেহনতী মানুষের পার্টি আজ সকাল থেকেই নেমে পড়েছে নতুন লড়াইয়ের সন্ধানে। তাই গতকাল রাতে সব হারানো, ঘর হারানো, রুটি রুজি হারানো অভুক্ত মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে লাল ঝান্ডা। আজ থেকেই হাবড়াতে শুরু হয়েছে কমিউনিটি কিচেন। আজকের এই কিচেনে প্রায় দুই শতাধিক মানুষের হাতে দুপুরের আহার তুলে দেন সিপিআই(এম) কর্মীরা। 

Comments :0

Login to leave a comment