জানা অজানা
চাঁদেও প্রাণীদের বসবাসের উপযোগী করা যায়
তপন কুমার বৈরাগ্য
নতুনপাতা / ৪র্থ বর্ষ / ৩১ জুলাই ২০২৬
চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ।চাঁদ বিশ্বব্রহ্মান্ডের
পঞ্চম বৃহত্তম উপগ্রহ।পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব ৩৮৪৪০০ কিমি।
চাঁদের কক্ষপথ উপবৃত্তাকার।পৃথিবীর চারদিকে চাঁদের ঘুরতে
২৭.৩দিন সময় লাগে।চাঁদে দিনেরবেলায় তাপমাত্রা প্রায় ১২০ডিগ্রি
সেলসিয়াস।রাতের তাপমাত্রা প্রায় মাইনাস১৫৩ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তাপমাত্রা এতো চরমভাবাপন্নের জন্য এখানে প্রাণীর বসবাসের
জন্য খুবই অনুপযুক্ত। চাঁদের বায়ুমন্ডল খুবই পাতলা।যাকে
এক্সোফিয়ার বলে।চাঁদের আয়তন পৃথিবীর আয়তনের
চারভাগের একভাগ।চাঁদের অভিকর্ষ পৃথিবীর অভিকর্ষের
৬ভাগের১ভাগ। চাঁদে যেমন পাহাড় পর্বত গুহা মালভূমি আছে
তেমনি আছে বিস্তির্ণ সমভূমি।যাকে বলে মারিয়া।
NASAর বিজ্ঞানীরা থেমে নেই।চাঁদে কিভাবে প্রাণীর বসতি স্থাপন করা যায় তার জন্য তারা দিনরাত গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এজন্য চাঁদের মেরুতে স্থায়ী অবকাঠামো তৈরির জন্য তারা
চেষ্টা করে যাচ্ছেন।চাঁদের মেরুতে আছে বরফ জমে সেই বরফকে
গলিয়ে তারা জল তৈরির কথা ভেবেছেন।জলে আছে দুইভাগ
হাইড্রোজেন এবং একভাগ অক্সিজেন।এই অক্সিজেন নিঃশ্বাস
নিতে প্রাণীদের সাহায্য করবে।অক্সিজেন সে ব্যাপারে মুখ্য
ভূমিকা নেবে।চাঁদের বিপুল পরিমাণ অক্সিজেন তৈরি হলে
চাঁদের আবহাওয়া পৃথিবীর মতন হয়ে যাবে।
থ্রি -ডি প্রিন্টিং ব্যবহার করে চাঁদের রেগোলিথ গলিয়ে ইটের মতন
কাঠামো তৈরি করা যেতে পারে।যাতে প্রাণীরা অনায়াসে চলাচল
করতে পারে।
চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে প্রচুর সূর্যলোক আছে। সেই সৌরশক্তিকে
কাজে লাগিয়ে সৌরবিদ্যুৎ তৈরি করা যেতে পারে।সেই সৌর
বিদ্যুৎ নানা কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।ছোট ছোট আকারের পারমাণবিক চুল্লি ব্যবহার করে রাতে চরম ঠান্ডাকে বশে আনা
যেতে পারে।
চাঁদের বুকে স্বয়ং সম্পূর্ণ বাস্তুতন্ত্র তৈরি করা যেতে পারে।উদাহরণ
স্বরূপ বলা যেতে পারে চাঁদের ভেতরেই ছোট ছোট গ্রীণ হাউস তৈরি করে শাকসবজি ফলানো যেতে পারে মানুষের অসম্ভব
কিছুই নেই।তাই অদূর ভবিষ্যতে চাঁদ প্রাণীর আবাস স্থল হয়ে
উঠবে সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
Comments :0