এসআইআর-র নামে কারচুপি বুঝছেন মানুষ। আন্দোলন আরও বাড়বে। মানুষের রোজগারের সঙ্কট, বাড়ছে জিনিসের দাম। কমবয়সীরা দেখছেন দেশের সরকার শিক্ষাকে ধ্বংস করেছে, কাজের ব্যবস্থা করেনি। যন্তর মন্তরে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ভোটাধিকারের পক্ষে এই আন্দোলনকে দমাতে পারবে না নরেন্দ্র মোদী সরকার।
মঙ্গলবার রানিগঞ্জে সাংবাদিক সম্মেলনে একথা বলেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। রানিগঞ্জে সিপিআই(এম) পশ্চিম বর্ধমান জেলা দপ্তরে সাংবাদিক সম্মেলন করেন তিনি। জ্ঞান
সেলিম বলেন, গোটা দেশে আন্দোলন সংগ্রাম তীব্র হচ্ছে। যাঁদের বিজ্ঞাপন দিয়ে বোঝানো হয়েছিল ‘মোদী হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়’ তাঁরাও এখন বুঝছেন ‘মোদী হ্যায় তো কুছ মুমকিন নেহি হ্যায়‘। এখন জ্ঞানেশকে মোদী বাঁচাবেন না মোদীকে জ্ঞানেশ বাঁচাবেন তার প্রতিযোগিতা চলছে।
এসআইআর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা গোড়া থেকে বলছি আইনে এই সংস্থানই নেই। ফর্ম-৬ বদলানো হয়েছে। এখন সুপ্রিম কোর্ট বলেছে তার সঙ্গে আদালতের যোগাযোগ নেই।
সেলিম বলেন যে ফর্ম-৭ গণহারে জমা করিয়ে মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। কমিশন এর সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলেন, কমিশন বিএলও-দের ঘাড়ে দায়িত্ব চাপিয়েছিল। এখন দেখা যাচ্ছে এআই ব্যবহার করে, অ্যাপ ব্যবহার করে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দপ্তর থেকে কেন্দ্রীয় ভাবে এই কাজ করা হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার আরএসএস’র কিছু লোককে বসিয়ে দিয়েছেন। এখন বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার আপত্তি জানিয়েছেন। আন্দোলন তীব্র হবে। যন্তর মন্তরে জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তাতে আন্দোলন থামবে না।
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি আন্দোলনে তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জির যোগ সংক্রান্ত প্রশ্ন করা হয় তাঁকে।
সেলিম বলেন, সারা দেশের মানুষ নেমেছেন জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে। অরুণচল প্রদেশ থেকে লাদাখ, কচ্ছ থেকে কোহিমা- সেখানে মমতা ব্যানার্জি কোথায়? এসএফআই সহ বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি নেমেছে। অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস থেকে কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস হয়েছে। দেশের মানুষ নামার পর, এখন, মমতা দিল্লিতে গিয়েছেন।
নরেন্দ্র মোদী সরকার দশ বছর ধরে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে। শিক্ষার সর্বনাশ করেছে, কাজের সুযোগ নেই। কমবয়সীরা তা বুঝছেন। রাস্তায় নেমেছেন তাঁরা।
উৎসব সংক্রান্ত এক প্রশ্নে তিনি বলেন, দেশ ও অর্থনীতি চৌপাট হয়েছে। জিনিসের দাম বাড়ছে। গত দু’বছরের মধ্যে দাম সবচেয়ে বেশি বাড়ছে। খাদ্যদ্রব্যের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেশি হারে বাড়ছে। উৎসবের মরশুমেও মানুষের হাতে টাকা নেই। মানুষের রোজগার বাড়ছে না। তার মধ্যে উৎসবের মেজাজকে নষ্ট করা হচ্ছে। কে কী খাবে, পরবে, কোন দোকানে কী সাইনবোর্ড হবে, কোন দোকান থেকে খাবে বা খাবে না তার নির্দেশ দিচ্ছে। উৎসব মানে সবাই আসবে, সবাই আনন্দ করবে। আমাদের এখানে দেড়শো বছর ধরে মানুষের অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান উৎসব পরিণত হয়েছে। একদিনে তা হয় না, একদিনে বন্ধও করা যায় না।
জিডিপি সংক্রান্ত এক প্রশ্নে তিনি বলেন, মানুষের আয় বেড়েছে? এলাকায় এলাকায় মানুষের পরিষেবা বেড়েছে? শিক্ষা, কাজের সুযোগ বেড়েছে? স্থায়ী কাজ বেড়েছে? তাঁর ব্যাখ্যা, জিডিপি মানে মোটের হিসাব হয়। আদানি-আম্বানির আয় বাড়ছে। মানুষ বৃদ্ধির ভাগ পাচ্ছেন না। জিডিপি’র হিসেবে এই বৈষম্য ধরা পড়ে না।
সেলিম বলেন, অপুষ্টি বাড়ছে, রক্তাল্পতা বাড়ছে, বেকারি বাড়ছে। বাস্তবতা আড়াল করে পরিসংখ্যানকে কৌশলে পেশ করছে সরকার।
রাজ্যের বিজেপি সরকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যা বলে এসেছিল তা কোনোভাবেই কাজে পরিণত করা হচ্ছে না। বলা হয়েছিল তৃণমূলের বালি চুরি, কয়লা চুরি, গোরু চুরির মতো একের পর এক দুর্নীতির বিচার হবে। তা হচ্ছে না। উলটে তোলার রেট বেড়েছে। একই যন্ত্র যা শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের ঝান্ডা নিয়ে চালাতেন এখন তা বিজেপি’র ঝান্ডা নিয়ে চালাচ্ছেন। এজন্যই মানুষের রাগ-ক্ষোভ বাড়ছে। সেদিক থেকে চোখ সরাতে ধর্মীয় বিভাজনের রাস্তা নিয়েছে। এখানেই বামপন্থীদের সঙ্গে দক্ষিণপন্থীদের পার্থক্য। বামপন্থীরা সর্বজনীনতার কথা বলে। আর দক্ষিণপন্থীরা অপরায়ণ করে, একের থেকে অন্যকে আলাদা করতে চায়।
Md Salim Raniganj
যন্তরমন্তরে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ভোটাধিকারের আন্দোলন দমানো যাবে না: সেলিম
×
Comments :0