কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতির আড়ালে জলাভূমির চরিত্র বদলে ভরাটের অভিযোগ উঠল জলপাইগুড়ির রাখালদেবীর ভাটাখানায়। রাতের অন্ধকারে জলাভূমি ভরাট এবং দিনের বেলায় বুলডোজার দিয়ে জমি সমান করার কাজ চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সময়ে যারা এই জলাশয় ভরাটের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন, রাজনৈতিক পালাবদলের পর তাদেরই একাংশের অবস্থান বদলেছে বলে অভিযোগ পরিবেশপ্রেমীদের। স্থানীয় ক্লাব ও বাসিন্দাদের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভরাটের পক্ষে রাজি করানোর অভিযোগও উঠেছে।
সোমবার দুপুর ১২টা নাগাদ ঘটনাস্থলে যান পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ, নাগরিক সংসদ ও পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। উপস্থিত ছিলেন জলপাইগুড়ি বিজ্ঞান কেন্দ্রের সম্পাদক রিতা রায় সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি জেলা বিজ্ঞান কেন্দ্রের সম্পাদক পার্থসারথি চক্রবর্তী, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক দেবাশিস ঘোষ, বিজ্ঞান মঞ্চের রাজ্য কমিটির সদস্য তপন সাহা এবং নাগরিক সংসদের পক্ষে জ্যোতিপ্রসাদ রায়, গণেশ ঘোষ ও অধ্যাপক সরোজ ঘোষ-সহ বিশিষ্ট নাগরিকরা। ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁরা জেসিবি, ট্রাক্টর ও অন্যান্য যন্ত্রের সাহায্যে জলাভূমি ভরাটের কাজ চলতে দেখেন। স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তাঁদের তর্ক-বিতর্কও হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।
স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, এলাকায় সরকারি স্কুলের পঠনপাঠন নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। তাই এখানে বেসরকারি স্কুল গড়ে উঠলে পড়াশোনার উন্নতি হবে, পাশাপাশি দোকানপাট ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, বেসরকারি স্কুলের জন্য জলাভূমির চরিত্র বদলে দেওয়া যায়? এই জলাশয়ের উপর নির্ভরশীল পাখি-সহ অসংখ্য জীবজন্তুর অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পরিবেশকর্মীরা।
অভিযোগ, এর আগেও তৃণমূলের মেয়াদে এই জলাশয় ভরাটের চেষ্টা হয়েছিল। তখন বিজেপি’র নেতারাও জলাভূমি রক্ষার দাবিতে সরব হয়েছিলেন। সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, তৎকালীন বিডিও মিহির কর্মকার পুলিশ পাঠিয়ে ভরাটের কাজ বন্ধ করেছিলেন। এখন রাজনৈতিক পালাবদলের পর একই জলাশয় ভরাটের অভিযোগে প্রশ্ন উঠছে, পরিবেশ রক্ষায় অবস্থান কি ক্ষমতার সঙ্গে বদলে যাচ্ছে?
পরিবেশ কর্মীদের বক্তব্য, জলাভূমি সংরক্ষণ ও জমির চরিত্র পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আইন মেনে চলা বাধ্যতামূলক। জলাভূমি সংরক্ষণ বিধি, ২০১৭ এবং পশ্চিমবঙ্গ ভূমি সংস্কার আইনের প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী জমির প্রকৃত শ্রেণি, ভরাটের অনুমতি এবং চরিত্র পরিবর্তনের বৈধতা খতিয়ে দেখা জরুরি। প্রশাসন কেন কার্যকর পদক্ষেপ করছে না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা।
রীতা রায় সেনগুপ্ত জানান, বিষয়টি নিয়ে বিএলআরও, এসডিও-সহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রতিবাদ জানানো হবে। তারপরও সুরাহা না হলে জলাভূমি বাঁচাতে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। পরিবেশপ্রেমীদের দাবি, অবিলম্বে ভরাটের কাজ বন্ধ করে তদন্ত করতে হবে, বেআইনি কাজ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং জলাভূমি রক্ষা করেই সরকারি উদ্যোগে উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। এলাকায় সরকারি সংস্থার অব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ জমিতেও উন্নয়নের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
Jalpaiguri Wetland Dumper
রাখালদেবীর ভাটাখানায় চলছে জলা ভরাট, চুপ প্রশাসন, ক্ষোভ পরিবেশ কর্মীদের
জলপাইগুড়ি শহর থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে উন্নয়নের নামে রাখালদেবীর ভাটাখানায় জলাভূমি ভরাট।
×
Comments :0