CPI(M) SILIGURI

পদত্যাগের হিড়িক শিলিগুড়িতে, ২২ জুন গণ কনভেনশনের ডাক সিপিআই(এম)'র

জেলা

শনিবার শিলিগুড়ির অনিল বিশ্বাস ভবনে সিপিআইএমের ডাকে সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত রয়েছেন সমন পাঠক, গৌতম ঘোষ, নুরুল ইসলাম ও শরদিন্দু চক্রবর্তী। ছবি- রাজু ভট্টাচার্য।

অভিভাবকহীনতায় ভুগছে শিলিগুড়ি শহর। শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা একের পর এক পদত্যাগ করে চলেছেন। শুক্রবার শিলিগুড়ি শহরের মেয়র পদত্যাগ করেছেন। একইভাবে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি, পাহাড়ে জিটিএ'র চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেছেন। এই বিশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে শহরে নাগরিক সচেতনতা গড়ে তুলতে সব অংশের সাধারন মানুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানালেন সিপিআই(এম) নেতৃবৃন্দ। 
শনিবার দুপুরে সিপিআই(এম) দার্জিলিঙ জেলা কমিটির পক্ষ থেকে হিলকার্ট রোডে অনিল বিশ্বাস ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন  দার্জিলিঙ জেলা সম্পাদক সমন পাঠক, সিপিআই(এম) নেতা মুন্সি নুরুল ইসলাম, গৌতম ঘোষ ও জয় চক্রবর্তী। 
সমন পাঠক বলেন, " উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশন ক্ষমতায় এসেছিলো। স্বাভাবিকভাবেই শহর বাসিন্দাদের অনেক প্রত্যাশা ছিলো। কিন্তু রাজনৈতিক পালা বদলের পর মাঝপথেই কর্পোরেশনের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন মেয়র। বর্ষার মুখে প্রাকৃতিক দূর্যোগ বৃষ্টি ও ধসজনিত পরিস্থিতির মোকাবিলা, শিলিগুড়িতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপযুক্ত ব্যবস্থাগ্রহন, যানজট সমস্যার সমাধান সহ শহরের সর্বত্র সার্বিক উন্নয়নের কাজ একেবারে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। ভোগান্তির মুখে শহর বাসিন্দারা। একই সঙ্গে শহরে হকার উচ্ছেদ চলছেই। হাজার হাজার বস্তি কলোনি বাসিন্দারা দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়েছেন।"
তিনি জানান, " শিলিগুড়ি শহর ও সংলগ্ন এলাকার নানা ইস্যুকে সামনে রেখে আগামী ২২জুন বিকেলে মিত্র সম্মেলনী হলে নাগরিক কনভেনশনের ডাক দেওয়া হয়েছে। এই নাগরিক কনভেনশনে সব অংশের মানুষকে অংশগ্রহন করার আবেদন জানান তিনি।" 
সিপিআই(এম) নেতা মুন্সি নুরুল ইসলাম বলেন, " শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশনে তৃণমূলের ৩৭জন কাউন্সিলার নির্বাচিত হয়েছিলেন। মেয়র গৌতম দেবের পদত্যাগ রহস্যজনক। মেয়র তার পদত্যাগের কারন স্পষ্টভাবে বলেননি। এই পদত্যাগের পেছনে তৃণমূল ও বর্তমান শাসকদলের বোঝাপড়া রয়েছে। শিলিগুড়িতে মেয়রের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একটি কাজও হয়নি। শহরে যা কিছু উন্নয়ন তা হয়েছে বিগত বামফ্রন্ট সরকারের সময়কালে। বামফ্রন্ট ২০১৫সালে নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলো। সেই সময় রাজ্যের ক্ষমতায় ছিলো তৃণমূল কংগ্রেস। অশোক ভট্টাচার্যকে মেয়র করে সেই সময় বামফ্রন্টের শিলিগুড়ি পৌরবোর্ড গঠিত হয়েছিলো। পাঁচ বছর পুরো বোর্ড পরিচালনা করেছি। করোনার সময় যে বাড়তি দায়িত্ব দিয়েছিলো সরকার সেই মহামারি পরিস্থিতিতেও দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেছি। তৎকালীন তৃণমূলী রাজ্য সরকারের অসহযোগিতা ও বঞ্চনা সত্ত্বেও উন্নয়নের কাজ করেছে বামফ্রন্ট পরিচালিত শিলিগুড়ি পৌরবোর্ড। কিন্তু তৃণমূলী মেয়র পেছনের দরজা দিয়ে পালালো।" 
তিনি অভিযোগ করেন, "তৃণমূলের পদত্যাগী মেয়র গরীব মানুষের ৬৪২টি পাট্টা ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রেখেছিলো। কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম পুরো নষ্ট করে দিয়ে চলে গেছে। ইন্ডোর স্টেডিয়ামে কি উন্নতির কাজ হয়েছে? পাঁচ বছরে শিলিগুড়ি শহরকে পুরোপুরিভাবে ধ্বংস করে দিয়ে শিলিগুড়িবাসীদের বিপদের মুখে ফেলে চলে গেছেন গৌতম দেব। অন্যদিকে কর্পোরেশনের উন্নয়নমূলক সমস্ত কাজ বর্তমান রাজ্য সরকার একটা চিঠি দিয়ে বন্ধ করে রেখে দিয়েছে।"

 

Comments :0

Login to leave a comment