দীপশুভ্র সান্যাল: জলপাইগুড়ি
টানা একরাতের ভারী বর্ষণে উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে তিস্তা-সহ উত্তরবঙ্গের একাধিক নদীর জলস্তর। পাহাড় ও সমতলে অবিরাম বৃষ্টির জেরে জলপাইগুড়ি জেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিস্তা সেতু সংলগ্ন এলাকায় নদীর জল বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছনোয় নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রশাসন ও সেচ দফতর পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে।
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মালবাজার, গাজোলডোবা, বানারহাট, জলপাইগুড়ি ও ময়নাগুড়ি এলাকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় প্রবল বর্ষণের ফলে তিস্তা, জলঢাকা, তোর্সা ও অন্যান্য নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেচ দফতর নদীর অসংরক্ষিত চর ও নিম্নভূমি এলাকাগুলিতে হলুদ সতর্কতা জারি করেছে।
ইতিমধ্যেই জলপাইগুড়ি সংলগ্ন তিস্তার বিভিন্ন চরে বসবাসকারী মানুষজন ধীরে ধীরে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে শুরু করেছেন। নদীর চরাঞ্চলে বসবাসকারী পরিবারগুলির মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অনেকেই গবাদি পশু ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছেন। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের।
এদিকে শিলিগুড়ির বালাসন নদীর দুধিয়া এলাকায় অস্থায়ী হিউম পাইপের সেতু প্রবল জলস্রোতের চাপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে পাহাড়-সমতলের যোগাযোগ ব্যবস্থাও নতুন করে চাপে পড়েছে।
জেলা প্রশাসন কন্ট্রোল রুম চালু করেছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ত্রাণসামগ্রী, নৌকা ও উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসে আগামী কয়েকদিন ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। প্রশাসনের তরফে নদীপাড়ের মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
Comments :0