21 st july

হয়রানির ২১ জুলাই

রাজ্য

একটি রাজনৈতিক দলের সমাবেশ ধর্মতলায়। সেই সমাবেশের জন্য রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছেন কর্মী সমর্থকরা। অনেকে স্বেচ্ছায় এসেছে। আবার অনেকে এসেছে চাপে পড়ে। পুরুলিয়া থেকে দিদির কথা শোনার জন্য কলকাতায় এসেছেন সুজিত মান্ডি। তিনি নিজেকে একনিষ্ট কর্মী বলে দাবি করেছেন। কিন্তু এই একনিষ্ট কর্মী ‘দিদির বার্তা’ শুনতে ধর্মতলায় যাননা। পার্ক সার্কাস ময়দানে বসে বাদাম খাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘অনেক দুর থেকে এসেছি। রাতে এখানেই ছিলাম। খাওয়া দাওয়া হয়েছে।’’
কিন্তু ধর্মতলায় গেলেন না কেন?
ভিড় হয়েছে শুনলাম।

পঞ্চায়েতে লুট, আদালতে প্রশ্ন রোজ, নিয়োগ দুর্নীতির খাঁড়া মাথায়, গণতন্ত্র হত্যা রাজ্যে। সমাবেশ এই নেতানেত্রীদের।


শুধু সুজিত মান্ডি নয়। গোটা পার্ক সার্কাস, বোন্দেল গেট এলাকা দেখলে মনে হবে পিকনিক চলছে। কি কারণে শহীদ দিবস অনেকে তা জানেনা। 
বাইরের জেলা থেকে দুরপাল্লার বাসে করে তৃণমূল কর্মীরা এসেছেন। তারা সমাবেশের জন্য এসেছেন ঠিক কিন্তু ধর্মতলায় যানানি। আচার্য জগদীশ চন্দ্র বোস রোড কার্যত বন্ধ হয়ে রয়েছে। একের পর এক বাস রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। কোন গাড়ি যেতে পারছে না। এমনকি অ্যাম্বুলেন্সও যেতে পারছে না। মল্লিক বাজার মোড়ে নিউরো সায়েন্সের রোগীদের ডাক্তার দেখাতে বা হাসপাতালে আসতে বেগ পেতে হচ্ছে। রাস্তায় পুলিশ রয়েছে কিন্তু কিছু করার নেই তাদের। 
প্রতিবছর এই সমাবেশ হয়। কিন্তু গাড়ি রাখার জন্য কোন নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই বা করা হয় না।  


শাসক দলের এই সমাবেশের জন্য কলকাতার রাস্তায় কোন বেসরকারি বাস নেই। কাজে বেরিয়ে কার্যত নাজেহাল সাধারণ মানুষ। কসবা হাওড়া রুটে ৪০টি মিনিবাস চলে। শাসক দলের পক্ষ থেকে ২৫টা বাস নেওয়া হয়েছে। বাকি বাস চালক, মালিক, কন্ডাকটরদের সমাবেশে যেতেই হবে এমন ফরমান জারি করেছে ইউনিয়ন। ২১২, ১, ২২৩, ২৩৪ এর মতো একাধিক ব্যাস্ত রুটে কোন বাস  চলছে না। সব যে সমাবেশের জন্য নেওয়া হয়েছে তা নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাস মালিক বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘‘আজ গাড়ি নামাবো না। কি হবে নামিয়ে। রাস্তা দিয়ে কেউ যেতে পারবে? সব রাস্তা জুড়ে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রেখে দিয়েছে। রাস্তাতেই বসে খাচ্ছে।’’


২২৩ রুটের এক কন্ডাকটর বৃহস্পতিবার রাতে হাঁসতে হাঁসতে নিত্য যাত্রীদের জানিয়ে দিয়েছেন, ‘‘কাল গাড়ি চলবে না। সকালে তো চলবেই না। বিকেলের কোন গ্যারেন্টি নেই।’’
প্রতিদিনের মতো কাজে বেরিয়ে ছিলেন প্রদীপ্ত মজুমদার। কাল রাতেই ঠিক করেছিলেন যে কোন ক্যাব নিয়ে অফিসে যাবেন। কিন্তু তা হয়নি। তিনি বলেন, ‘‘অনেক বার চেষ্টা করেছি গাড়ি জন্য পাইনি। রাস্তাব এতো জ্যাম। এমন ভাবে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রেখেছে যে কোন গাড়ি যেতে পারছে না।’’ তার কথায় বাধ্য হয়ে মেট্রো করে তারপর ৩০ মিনিট হেঁটে অফিসে গিয়েছেন তিনি।

Comments :0

Login to leave a comment