সময় পেরিয়ে গেলেও মেলেনি টাকা। ১৭ সেপ্টেম্বর অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা ঢোকার কথা থাকলেও রাজ্যের বেশিরভাগ মহিলাই পাননি সেই টাকা। এর মধ্যেই, নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে রাজ্যজুড়ে ধুমধাম করে পালন করা হয়েছে অন্নপূর্ণা দিবস। তারপর, বেশ কয়েকদিন কেটে গেলেও ভাণ্ডারে টাকা ঢোকার অপেক্ষাতেই দিন কেটে যাচ্ছে রাজ্যের অন্নপূর্ণাদের। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি সংকল্পপত্রে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিলো, সরকারের আসলেই অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা পাবেন সব মহিলারা। কিন্তু, সরকার গঠনের পর সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা গেলো। অন্নপূর্ণা ভান্ডার পাওয়ার তালিকা থেকেই নাম বাদ পড়ে বহু মহিলার। কেন বাদ দেওয়া হলো তাঁর জন্য রাজ্যের জায়গায় জায়গায় বিক্ষোভ দেখান অগণিত মহিলারা। এবার অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা না ঢোকায় জেলায় জেলায় মহিলাদের ক্ষোভাগ্নির বহিঃপ্রকাশ দেখা যাচ্ছে প্রায় প্রতিদিনই।
একই দিনে জেলার তিন বিডিও অফিসে বঞ্চিত মহিলাদের স্বতঃস্ফুর্ত বিক্ষোভ দেখলো কোচবিহার জেলা। অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা না পাওয়ায় সোমবার শীতলখুচি, সিতাই এবং মাথাভাঙা-১ বিডিও অফিসের সামনে মহিলারা বিক্ষোভ দেখান, আবার কোথাও করেন পথ অবরোধ! বিক্ষোভের জেরে বেলা দুটো পর্যন্ত অফিস কর্মীদের অনেকেই অফিসে ঢুকতে পারলেন না। ফলত, কাজকর্ম লাটে ওঠে। পুলিশ এসেও অবরোধ ও বিক্ষোভকারীদের হটাতে হিমসিম খায়। প্রতিদিনই বিডিও অফিসগুলিতে প্রাপকদের ভীড় সামলাতে হিমসিম খাচ্ছেন বিডিও অফিসের কর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয়েছিল সিভিক ভলেন্টিয়ারদের। কিন্তু সোমবার বিক্ষোভ চরমে ওঠে। এদিন অফিস শুরুর সময়েই প্রায় পাঁচশো মহিলা জড়ো হন ব্লকের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সাবিত্রী বর্মন বলেন, এখানে যাদের বিক্ষোভে অংশ নিতে দেখছেন, তাদের কেউ ডেকে জড়ো করেনি। টাকা একাউন্টে ঢোকা শুরু হতেই যারা ভাতা পায়নি তারা প্রতিদিন বিডিও অফিসে এসে সারাদিন কাটিয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। আজ সেই হতাশা বিক্ষোভে পরিনত হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের মধ্যে থেকে মুখ্যমন্ত্রী আর প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও নানা কটুক্তি ভেসে আসতে শোন যায়। শীতলখুচির জয়েন্ট বিডিও রৌনক রায় বেলা দেড়টা নাগাদ বিক্ষোভকারীদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীরা সাফ বলেন, গত তিনমাস ধরে ভাতা নিয়ে টালবাহানা চলছে। আমরা স্পষ্ট জানতে চাই ভাতা মিলবে কিনা। বিডিও উত্তর না দিলে রোজ বিডিও অফিসে বিক্ষোভ চলবে। এদিনই সিতাই বিডিও অফিসেও অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা না পাওয়া মহিলারা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান। সেইসঙ্গে, মাথাভাঙা-১ বিডিও অফিসে ভাতা না পেয়ে বিক্ষোভকারী মহিলারা বিডিও অফিসের সামনের মাথাভাঙা- শিলিগুড়ি সড়ক পথে অবরোধ করে। তীব্র যানজটের সৃষ্টি হলে পুলিশ এসে বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে দেয়। পরে বিক্ষোভকারিরা বিডিও অফিসে ঢুকে বিক্ষোভ শুরু করে।
মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লক, চাঁচল-১ ব্লক ও গাজোল ব্লকেও এদিন ক্ষোভে ফেটে পড়েন বঞ্চিত মহিলারা। মহিলাদের বক্তব্য, তাঁরা যোগ্য হওয়া সত্বেও তাদের বঞ্চিত করে অযোগ্যদের অন্নপূর্ণা ভান্ডারের অর্থ দেওয়া হচ্ছে। মহিলাদের বিক্ষোভ ঘিরে ব্লকে ব্লকে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পাশাপাশি, বাঁকুড়াতেও অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা না মেলায় বিক্ষোভ দেখান বহু মহিলা। সোমবার মহিলদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে বাঁকুড়া জেলার সিমলাপাল ও বাঁকুড়া ২নং ব্লকের বিকনা এলাকা। দুটি জায়গাতেই কয়েক’শ মহিলা রাস্তা অবরোধ করেন। ফলে একদিকে বাঁকুড়া-দুর্গাপুর, অন্য দিকে দক্ষিন বাঁকুড়ার সিমলাপাল- ঝাড়গ্রাম রাস্তায় ব্যাপক যানজট তৈরী হয়।
এদিন সকালে উদয়নারায়ণপুরের বিধিচন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কুলটিকারিতে সেহাগড়ি-উদয়নারায়ণপুর রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে পথ অবরোধ করেন মহিলারা। সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া অবরোধ চলে প্রায় বেলা ১০টা পর্যন্ত। সপ্তাহের প্রথম দিনই দীর্ঘক্ষণ রাস্তা অবরুদ্ধ থাকায় সমস্যায় পড়েন নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে পরীক্ষার্থীরাও।
পাশাপাশি, সোমবার বসিরহাটের মিনাখাঁ ব্লকের চাঁপালী গ্রাম পঞ্চায়েতের কার্যালয়ের সামনেও বিক্ষোভ দেখান বহু মহিলা। বসিরহাট-মালঞ্চ রোড অবরোধও করেন তারা। বিক্ষোভের জেরে সেখানেও রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। বিক্ষোভকারী মহিলাদের অভিযোগ, গত দু’মাস ধরে তারা অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন না। অথচ এর আগে এক মাসের টাকা তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছিল। পরবর্তী মাসগুলির টাকা কেন বন্ধ রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
একইদিনে, অন্নপুর্নার টাকা না ঢোকার কারনে সকাল থেকে কার্যত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে উলুবেড়িয়া মহকুমার বিভিন্ন এলাকা। উদয়নারায়ণপুরে রাস্তা অবরোধ থেকে শুরু করে মহকুমাশাসকের দফতর ও ব্লক অফিসে বিক্ষোভ হল। দিনভর একাধিক জায়গায় পথে নামলেন মহিলারা।
Comments :0