Editorial

পুলিশ রাজ

সম্পাদকীয় বিভাগ

কোনও অভিযুক্তকে আটক বা গ্রেপ্তার সম্পর্কে পুলিশ এতকাল যে ধারণা গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে তার গোড়াতেই আঘাত করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। দেশের সর্বত্রই দেখা যেত কোনও ব্যক্তিকে তুলে এনে থানার লক আপে আটকে রাখত। তারপর মরজিমাফিক কোনও একসময় খাতায় কলমে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধৃতকে আদালতে হাজির করত। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যেত অভিযুক্তকে ধরার পর ২৪ ঘণ্টা কাটার আগে কোনও একসময় গ্রেপ্তার দেখানো হতো। তারপর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে আদালতে হাজির করত। ফলে দেখা যেত কার্যত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে আদালতে পেশ করা হচ্ছে। পুলিশের প্রচলিত এই কার্যকলাপকে সংবিধান বিরোধী বলে আখ্যা দিয়েছেন বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়া ও বিচারপতি অতুল এস চন্দুরকর। আদালত মনে করে এইভাবে কোনও ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার বেশি থানায় আখকে রাখার অর্থ তাদের সংবিধান প্রদত্ত ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার কেড়ে নেওয়া। পুলিশ এহেন সংবিধান বিরুদ্ধ কাজ করতে পরে না।
রায়ে স্পষ্ট বলা হয়েছে অভিযুক্তকে ধরা হলে তৎক্ষণাৎ গ্রেপ্তার দেখাতে হবে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে পেশ করতে হবে। যদি তা না হয় তবে ধৃতকে ছেড়ে দিতে হবে জামিন দিতে হবে। কোনও অবস্থাতেই কোনও ব্যক্তিকে পুলিশ নিজেদের হেপাজতে আটকে রাখতে পারবে না। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইনের শাসনে প্রত্যেক নাগরিকের নাগরিক অধিকার, মানবিক অধিকার এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযুক্ত ব্যক্তির সেই অধিকার সংবিধান নিশ্চিত করেছে। তাই পুলিশ অভিযুক্তকে ধরার পর ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত নিজেদের হেপাজতে রাখতে পারবে তারপর দায়িত্ব আদালতের।
পুলিশ নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে এবং নিজেদের ক্ষমতা জাহির করতে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শাসকের অঙ্গুলি হেলনে এমন কাজ করে থাকে। কোনও অভিযুক্তকে শাসক দলের চাপে গ্রেপ্তার করা হলেও ধৃতের বিরুদ্ধে অভিযোগের তেমন কোনও প্রমাণ থাকে না। তখন পুলিশ অতিরিক্ত সময় থানায় আটকে রেখে তথ্য প্রমাণ জোগাড় অথবা সাজানো অভিযোগ তৈরির চেষ্টা করে। অনেক ক্ষেত্রে বাড়তি সময় রেখে অত্যাচার করে মিথ্যা বয়ান দিতে বাধ্য করে যাতে আদালতে জামিন আটকানো যায়। এমন ঘটনা এ রাজ্যে প্রায় প্রতি থানায় প্রতিদিন ঘটছে। পূর্বতন তৃণমূল জমানায় এবং বর্তমান বিজেপি জমানায় এমনটাই ঘটছে। শত শত বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের বিশেষ করে বামপন্থী কর্মীদের ধরে থানায় আটকে রেখে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে অনেক পরে আদালতে তোলা হয়েছে এবং হচ্ছে। পুলিশের তথা শাসকের এমন সংবিধানবিরোধী জোরজুলুম স্বৈরাচার অচিরেই বন্ধ হওয়া উচিত।

Comments :0

Login to leave a comment