কমবয়সীদের ভোটের প্রবণতা গিয়েছে রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির বিপক্ষে। যে কারণে ট্রাম্পের বিরোধী ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা বাড়তি ভোট পেয়েছেন।
আমেরিকার জাতীয় জনপ্রতিনিধি সভা কংগ্রেসের দুই কক্ষ সেনেট এবং হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস-র ভোটে বড় জয় হাসিল করেছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি।
‘দ্য এপি ভোটার পোল’ -র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আমেরিকার এই 'মধ্যবর্তী' নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিভিন্ন অংশগুলির মধ্যে নিজেদের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করেছেন। ২০২৪’র রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন দিয়েছিল সামাজিক এমন বিভিন্ন অংশ, যেখানে বরাবর ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে থাকত। এবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা অনেক ক্ষেত্রে সেই ভোট ফিরে পেয়েছেন।
সমীক্ষকদের মত, জীবন যাপনের খরচে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি আঘাত করেছে শিক্ষাক্ষেত্রকেও। কমেছে কাজের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা। ট্রাম্পের মেয়াদে বড় বহুজাতিক সংস্থার প্রধানরা অতিরিক্ত মুনাফা আয় করেছেন। কিন্তু জনতার অবস্থা সঙ্গিন হয়েছে। বিভাজনের রাজনীতিতে বেড়েছে ক্ষোভ।
৫০টি অঙ্গরাজ্যের ১ লক্ষেরও বেশি ভোটারের ওপর করা এই সমীক্ষা ‘এপি ভোটার পোল’ (AP Voter Poll) দেখিয়েছে যে, তরুণ ভোটাররা উল্লেখযোগ্যভাবে ট্রাম্পের নীতির বিপক্ষে রায় দিয়েছেন।
২০২৪ সালের ‘এপি ভোটকাস্ট’ (AP VoteCast) গণনায় ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের প্রতি এই তরুণ ভোটাররা (৩০ বছরের কম বয়সী) যে সমর্থন দেখিয়ে ছিলেন তার তুলনায় এবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থীদের ক্ষেত্রে তাদের সমর্থন তার চেয়ে অনেক বেশি ছিল।
হিস্পানিক ভোটার, যারা ২০২৪ সালেও ট্রাম্পের দিকে ঝুঁকেছিলেন, এ বছর তাঁরাও ডেমোক্র্যাটদের দিকে সরে এসেছেন।
কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের ক্ষেত্রেও, বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষদের মধ্যে এই একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। অনেক মধ্যপন্থী ভোটার যাদের একটি বড় অংশ মনে করেন যে, প্রেসিডেন্ট পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে কংগ্রেস যথেষ্ট ভূমিকা পালন করছে না, তারাও জাতীয় পর্যায়ে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থীদের সমর্থন করছেন। সেনেটের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পেছনে এই ভোটারদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
যেহেতু অধিকাংশ ভোটার জানিয়েছেন যে গত এক বছরে মুদ্রাস্ফীতির কারণে তাঁরা ও তাঁদের পরিবার অত্যন্ত কষ্টের মুখে পড়েছেন। তাই পারিবারিক আয় বছরে ৫০,০০০ ডলারের কম এমন ভোটারদের মধ্যে রিপাবলিকানদের প্রতি সমর্থনের হার ২০২৪ সালের তুলনায় কমে যেতে দেখা গিয়েছে।
সেইসঙ্গে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রতি তুলনামূলক বেশি সমর্থন থাকলেও, এ বছরের 'মধ্যবর্তী' নির্বাচনে তরুণ ভোটাররা আবারও ডেমোক্র্যাটিক পার্টির দিকে ঝুঁকেছেন।
এপি (AP)-র জনমত গণনা অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে ৩০ বছরের কম বয়সী ভোটারদের ১০ জনের মধ্যে ৭ জন জানিয়েছেন যে, তারা স্থানীয় মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের (ইউ.এস. হাউস) নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক প্রার্থীকে সমর্থন করেছেন। অন্যদিকে, প্রায় ১০ জনের মধ্যে ৩ জন রিপাবলিকান প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। এটি ২০২৪ সালের পরিস্থিতির তুলনায় একটি বড় পরিবর্তন, সে সময় তরুণ ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্প ও হ্যারিসের প্রতি সমর্থনের হার প্রায় সমানই দেখা গিয়েছিলো।
'মধ্যবর্তী' নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে, যাদের অধিকাংশই তরুণ, তাদের বেশিরভাগই ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়েছেন।
তরুণ ভোটার এবং প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়া ব্যক্তি উভয় গোষ্ঠীই মোট ভোটারের খুবই সামান্য অংশ। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ২০২৬ সালে জাতীয় নির্বাচনে প্রতি ১০ জন ভোটারের মধ্যে মাত্র একজনের বয়স ৩০ বছরের নিচে। আর এই অল্প সংখ্যার কারণেই তাদের সমর্থনের এই পরিবর্তনের প্রভাব ও সীমিত।
তবে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও নেতৃত্বের প্রতি তরুণ ভোটারদের অসন্তোষ যে রয়েছে তা স্পষ্ট। তরুণ ভোটারদের প্রায় অর্ধেকই জানিয়েছেন যে, দেশে বর্তমানে যা কিছু ঘটছে তা নিয়ে তারা “ক্ষুব্ধ”। অথচ, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ভোটারদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। এছাড়া, ৩০ বছরের কম বয়সী ভোটারদের মধ্যে প্রতি ১০ জনের ৬ জনই জানিয়েছেন যে, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের (ইউ.এস. হাউস) নির্বাচনে তাদের ভোট দেওয়ার একটি কারণ ছিল ট্রাম্পের প্রতি বিরোধিতা প্রকাশ করা। অন্যদিকে, ৩০ থেকে ৪৪ বছর বয়সী ভোটারদের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় অর্ধেক এবং ৪৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ভোটারদের ক্ষেত্রে প্রতি ১০ জনের ৪ জন।
টেক্সাস, কানসাস, আইওয়া, ওহাইও এবং নর্থ ক্যারোলিনা- এই রাজ্যগুলি সহ সিনেটের প্রতিটি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যেখানে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি একটি করে আসন জয় করেছে, সেখানে তরুণ ভোটারদের ঝোঁক ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে এসেছে।
votes of younger people went against Trump.
আমেরিকার ভোটে কমবয়সীদের মত গিয়েছে ট্রাম্পের বিপক্ষে
×
Comments :0