Post editorial

লেনিনের ভারত ভাবনা

সম্পাদকীয় বিভাগ

সোমনাথ ভট্টাচার্য
 

লেনিন (১৮৭০-১৯২৪) গান্ধীর চেয়ে ছ'মাসের ছোট। মার্কস এঙ্গেলস বলেছিলেন শোষণহীন সমাজ গড়ার কথা। প্রায় সেই ধরনের সমাজ রাশিয়ার বুকে প্রতিষ্ঠিত হলো নভেম্বর বিপ্লবের মধ্য দিয়ে। পৃথিবীর প্রথম সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সফল হলো লেনিনের সুযোগ্য নেতৃত্বে। গড়ে উঠল সোভিয়েত ইউনিয়ন। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা নিশ্চিত হলো সবার জন্য। এ এক নতুন ব্যবস্থা। রাষ্ট্রপ্রধান কমরেড লেনিন। 
লেনিন ভারতকে বুঝতে চাইলেন 
লেনিন নিজের দেশে বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের নেতৃত্ব দিতে দিতেই ভেবেছেন অন্যান্য দেশের কথা। যার মধ্যে অন্যতম ছিল ভারত। কার্ল মার্কস এক সময় বলেছিলেন: আমাদের ভাষাসমূহ ও ধর্মের সূতিকাগার ভারত। আরও আরও অনেক কথা ভারত নিয়ে বলে গেছেন মার্কস এবং এঙ্গেলস। আর মার্কস এঙ্গেলসের সুযোগ্য উত্তরসূরি লেনিন চেয়েছেন, 'এই মহান ও চিত্তাকর্ষক দেশটির' অনিবার্য মুক্তি ও পুনরুজ্জীবন। ঔপনিবেশিক ভারতের লড়াই লেনিনকে গভীরভাবে ভাবিয়ে ছিল। তাই, তিনি যখন সোভিয়েত সরকারের প্রধান তখন তিনি ভারতকে আরও ভালো করে জানা ও বোঝার জন্য ভারতের লেখকদের নামের তালিকা করে প্রচুর বইয়ের অর্ডার দেন। এই তালিকায় ছিলেন রবীন্দ্রনাথ, গান্ধী, বিপিন চন্দ্র পাল, লালা লাজপত রায়, সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি, অম্বিকাচরণ মজুমদার, এমএন রায় প্রমুখ। এ ছাড়াও ছিল জাতীয় কংগ্রেসের বিভিন্ন প্রকাশনা এবং জাতীয় আন্দোলনের কর্মকর্তাদের রচনা। (লেনিন ও ভারতবর্ষ - ঐতিহাসিক সমীক্ষা : এ. কমারোভ)। 
প্রসঙ্গত, লেনিন জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে ভালো করে অনুশীলন করার জন্য ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত রবীন্দ্রনাথের ‘ন্যাশনালিজম’ অনুপুঙ্খ পাঠ করেন। আর বলতে খারাপ লাগলেও সত্য, নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হবার পর ‘ন্যাশনালিজম’ প্রকাশের শতবর্ষে ২০১৫ সালে লেখাটি আমাদের দেশের সিবিএসই-র পাঠ্য থেকে বাদ দেওয়া হয়। 
লেনিন, হেগেল ও ভারত 
হেগেল পাঠ করতে গিয়ে তিনি প্রাচীন ভারতীয় ধর্ম ও দর্শনের সঙ্গে পরিচিত হন। "হেগেলের দার্শনিক রচনা অধ্যয়নের সময় লেনিন দ্বন্দ্বতত্ত্বের ক্ষেত্রে তাঁর কয়েকটি দৃষ্টিভঙ্গির তুলনা করেন ভারতীয় দর্শনের ভাবাধারাদির সঙ্গে।" (লেনিন ও ভারতবর্ষ - ঐতিহাসিক সমীক্ষা : এ. কমারোভ)। 
হেগেলের ‘সায়েন্স লজিক’ বা ‘লেকচারস অন দি হিস্টরি অব ফিলজফি’ বইগুলি পড়তে পড়তে লেনিন ছোট ছোট নোট নেন। হেগেল তাঁর দর্শনের ইতিহাসে প্রাচ্যের দর্শন এবং বিশেষত ভারতীয় দর্শন আলোচনা করার সময় দ্বন্দ্ববাদের (ডায়ালেকটিকস্‌)  প্রাথমিক বিকাশ বোঝাতে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিবের ধারণাটি উদাহরণ হিসাবে ব্যবহার করেছিলেন। লেনিন ১৯১৪-১৯১৫ সাল নাগাদ হেগেলের এই বইটি অধ্যয়নের সময় তাঁর নোটবুকে হেগেলের উক্ত অংশটির সংক্ষিপ্ত বিবরণ টুকে রাখেন। 
লেনিন তাঁর নোটে হেগেলের মূল বক্তব্য উদ্ধৃত করে লেখেন: ‘‘ব্রহ্মা পাসেস টু শিবা (চেঞ্জ=ডিঅ্যাপিয়োরেন্স, অ্যারাইজিং)...’’ অর্থাৎ, সৃষ্টির (ব্রহ্মা) বিনাশ ও রূপান্তরের মাধ্যমে বিলয় ও নতুন রূপ লাভ (শিব) হয়। অর্থাৎ নতুন রূপে রূপান্তর ঘটে।
লেনিনের ফিলসফিক্যাল নোটবুকটিতে এই সব লেখার সাক্ষ্য মেলে। [লেনিন, কলেক্টেড ওয়ার্কস (এলসিডব্লিউ) ভলিউম ৩৮]।
উল্লেখ্য, লেনিন যখন এসব চর্চা করছেন তখন বিজেপি’র (প্রতিষ্ঠা ১৯৮০) কথা ছেড়েই দিন আরএসএস-ও (প্রতিষ্ঠা ১৯২৫) আত্মপ্রকাশ করেনি। লেনিন তার আগেই ২১ জানুয়ারি, ১৯২৪ প্রয়াত হন।
লেনিনের চোখে তিলক ও মর্লে
১৯০৮ সাল, ৩ জুলাই। বালগঙ্গাধর তিলকের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ এনে ব্রিটিশ সরকার ছ'মাসের জন্য তাঁর মান্দালয় নির্বাসনের সাজা ঘোষণা করে। কেন দেশদ্রোহিতা? কারণ ১৯০৮সালের ৩০এপ্রিল কুখ্যাত ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে হত্যার উদ্দেশ্যে ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকি বোমা ছোঁড়ে। তিলক তাঁর পত্রিকা 'কেশরী'তে বিপ্লবীদের সমর্থন করে লেখেন। একই সঙ্গে অবিলম্বে স্বরাজের দাবি উত্থাপন করেন। তাই তিনি দেশদ্রোহী।
লেনিন এই খবর অমৃতবাজার পত্রিকা মারফত জানতে পারেন। এর কিছুদিন পরে ২৩ জুলাই 'প্রলেতারি' পত্রিকায় লেনিনের একটি লেখা প্রকাশিত হয়। ইনফ্লেমেবল মেটেরিয়াল ইন ওয়ার্লড পলিটিক্স (এলসিডব্লিউ১৫/১৮২-১৮৮)। সেখানে ভারত প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে লেনিন তিলকের নির্বাসন দণ্ডের বিরুদ্ধে ধিক্কার জানিয়েছেন। 
লেনিন লিখলেন, ‘‘ব্রিটিশ শৃগালেরা ভারতীয় গণতন্ত্রী তিলক সম্পর্কে কুখ্যাত রায় ঘোষণা করে তাকে দীর্ঘমেয়াদি নির্বাসন দণ্ড দিয়েছে। ... একজন গণতন্ত্রীর বিরুদ্ধে টাকার মালিকদের তাঁবেদারদের এই প্রতিহিংসার প্রতিবাদে বোম্বাইয়ের রাস্তায় রাস্তায় ভারতীয় জনগণের জনবিক্ষোভ আছড়ে পড়েছে।’’
ওই প্রবন্ধেই লেনিন যুক্ত করলেন, ‘‘ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসন ব্যবস্থার নামে চলতে থাকা হিংস্রতা ও লুণ্ঠনের কোনও সীমা-পরিসীমা নেই।’’
ওই বছর তৎকালীন স্বরাষ্ট্র সচিব জন মর্লের নেতৃত্বে কুখ্যাত 'সংবাদপত্র আইন' পাশ হয়। যার মাধ্যমে সংবাদপত্রগুলোর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। এর প্রতিবাদে লেনিন দ্ব্যর্থহীন ভাষায় মর্লের কড়া সমালোচনা করেন। মর্লের মতো শাসকেরা ভারতের শাসন ক্ষমতায় নিযুক্ত হয়ে চেঙ্গিস খাঁ হয়ে উঠেছে-এ কথা বলতেও ছাড়েননি কমরেড লেনিন। রাজনৈতিক প্রতিবাদকারীদের ঠান্ডা করতে চাবুক পর্যন্ত মারা হচ্ছে— সে কথাও উঠে এসেছে লেনিনের কলমে। 
জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড 
১৩ এপ্রিল, ১৯১৯।
জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় কুখ্যাত জেনারেল ডায়ারের নেতৃত্বে। যে ঘটনার প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ ব্রিটিশদের দেওয়া 'নাইটহুড' উপাধি ত্যাগ করেন। লেনিন এই নৃশংস গণহত্যার কথা জানতে পারেন ১৭ ও ১৮ এপ্রিলের অমৃতবাজার পত্রিকা থেকে। এরপরই লেনিনের নির্দেশে এম আলেক্সিয়েভ অমৃতবাজার পত্রিকার সম্পাদককে চিঠি লিখে এই ঘটনা নিয়ে লেনিনের গভীর উদ্বেগের কথা ব্যক্ত করেন। সেই সঙ্গে ভারতীয় সহযোদ্ধাদের ন্যায্য আদর্শের প্রতি লেনিনের এবং সোভিয়েত সরকারের পূর্ণ সহমর্মিতার কথাও তুলে ধরেন। 
১৯২১-র ২২জুন থেকে ১২জুলাই কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের সভায় ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে লেনিন আবারও জালিয়ানওয়ালাবাগ গণহত্যার কথা তুলে ধরেন। 
ভারতীয় বিপ্লবী সঙ্ঘ 
১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯২০। কাবুলে ভারতীয় বিপ্লবী সঙ্ঘ (ইন্ডিয়ান রেভলিউশনারি অ্যাসোসিয়েশন)-র জনসভা সংঘটিত হয়। সাম্রাজ্যবাদের জোয়ালে পর্যুদস্ত একত্রিশ কোটি পঞ্চাশ লক্ষ মানুষের যন্ত্রণাবিদ্ধ কান্নায় সাড়া দেবার জন্য সোভিয়েত রাশিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারা লেনিনের কাছে চিঠি পাঠান। এর প্রত্যুত্তরে লেনিন লেখেন, ‘‘স্বদেশি ও বিদেশি পুঁজিপতিদের শোষণ থেকে নিপীড়িত জনসাধারণের মুক্তি এবং ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের যে নীতি 'শ্রমিক-কৃষকের প্রজাতন্ত্র' ঘোষণা করেছে তা শুনে আমি খুবই আনন্দিত হয়েছি। যে ঘটনা প্রগতিশীল ভারতীয়দের নিজেদের মুক্তি ও স্বাধীনতার জন্য বীরত্বের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যেতে খুবই উৎসাহিত করেছে।’’ (এলসিডব্লিউ৩১/১৩৮)।
সাম্রাজ্যবাদ ও ভারত 
লেনিন ১৯১৬ সালে রচিত ‘সাম্রাজ্যবাদ: পুঁজিবাদের সর্বোচ্চ পর্যায়’-এ (ইম্পিরিয়ালিজম, দি হায়েস্ট স্টেজ অব ক্যাপিটালিজম) ভারত ও ঔপনিবেশিক শোষণ সম্পর্কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করেছেন। 
লেনিন এই গ্রন্থে দেখিয়েছেন যে, সাম্রাজ্যবাদ কেবল সামরিক বিজয়ের নাম নয়; এটি হলো পুঁজিবাদের এমন এক চূড়ান্ত রূপ যেখানে লগ্নিপুঁজি (ফিনান্স ক্যাপিটাল) বিশ্বজুড়ে ঔপনিবেশিক শোষণ চালায়। 
যে সাম্রাজ্যবাদকে মার্কস এঙ্গেলস দেখে যাননি, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তাকে দেখে এবং প্রচুর পড়াশোনা ও গবেষণা করে লেনিন সেই সাম্রাজ্যবাদের স্বরূপ উন্মোচন করেন। ভারত এই বইয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছে। 
ভারতীয়দের সংগ্রামে লেনিনের সংহতি 
● ১৯১৫ সালে পাঞ্জাবি সিপাহীরা সিঙ্গাপুরে বিদ্রোহ করে। তারা ইউরোপের ফ্রন্টে যেতে অস্বীকার করে।, ব্রিটিশরাজ একে নির্মমভাবে দমন করে। এ প্রসঙ্গে ১৯১৬ সালে লেনিন লিখলেন, "ইংরেজরা সিঙ্গাপুরে তাদের ভারতীয় সৈন্যদের অভ্যুত্থানকে পশুর মতো দমন করেছে।" (এলসিডব্লিউ ৩০/৫২)
● ১৯১৩ সালে লেনিন বলেন যে ব্রিটিশ পুঁজি ভারত ও অন্যান্য উপনিবেশকে পরাধীন ও লুণ্ঠন করছে 'একান্ত নির্লজ্জ ও সামন্ততান্ত্রিক পদ্ধতি'তে। (এলসিডব্লিউ ২৩/৪৭৬)।
● অন্যত্র ভারতের কথা বলতে গিয়ে লেনিন লিখলেন, ‘‘প্রায় ৩০ কোটি অধিবাসী ইংরেজ আমলাতন্ত্রের লুট ও জবরদস্তির কবলে সমর্পিত।” (এলসিডব্লিউ ২০/২৩০)।
● ইংরেজরা 'বিভক্ত করে শাসন করো' অর্থাৎ ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ নীতির মারফত তাদের প্রভুত্ব টিকিয়ে রাখতে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে শত্রুতা উস্কে দেয়— যাতে জাতীয় আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে। এ কথা স্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন লেনিন। (এলসিডব্লিউ ২৮/৪৭৬) 
● ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের চক্রান্তের পেছনেও কাজ করেছে সেই ভাগ করার নীতি। এর বিরুদ্ধে ১৯০৫ থেকে বাংলায় ব্রিটিশ বিরোধী তীব্র আন্দোলন গড়ে ওঠে। বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলন এবং বাংলায় ব্রিটিশ-বিরোধী বিপ্লবী জাতীয়তাবাদের প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্রিটিশ সরকারের কলকাতায় শাসনকাজ পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তার হাত থেকে মুক্তি পেতেই তারা ১৯১১ সালে অশান্ত বাংলার কলকাতা থেকে শান্ত দিল্লিতে ভারতের রাজধানী স্থানান্তরিত করে। 
চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি চ্যালেঞ্জ নাও 
আমরা পূর্বোক্ত কয়েকটা উদাহরণের মাধ্যমে দেখলাম লেনিন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি অপরিসীম সহমর্মী ছিলেন। একই সঙ্গে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের প্রতি ছিল তাঁর রাশি রাশি ঘৃণা। হ্যাঁ, এই লেনিনকেই আমরা নেতা মানি। আমরা যারা লাল পতাকা কাঁধে চলি, মানুষের জন্য লড়াই করি, ধর্মীয় বিভেদ জানি না, জাতপাত মানি না, মুক্তচিন্তায় ভরসা রাখি, তারা বুক ফুলিয়ে বলি মার্কস-লেনিন আমাদের নেতা, পথপ্রদর্শক। হিম্মত থাকলে বিজেপি-আরএসএস বলুক, জামাত-ই-ইসলামি বলুক, হিটলার মুসোলিনি তাদের নেতা। সবাই জানে জামাতের প্রতিষ্ঠাতা মওদুদি হিটলার মুসোলিনিকে গুরু মেনেছেন। আরএসএস’র হেগড়েওয়ার, গোলওয়ালকারও তাদের গুরু মেনেছেন। বিএস মুঞ্জে তো ১৯৩১ সালে মুসোলিনির কাছে ফ্যাসিবাদের ট্রেনিং নিতে চলে গিয়েছিলেন! তাই চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি, দম থাকলে মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে এই কথাগুলো বলুন। 
আমরা আমাদের কথা সব সময় বলি, আবারও বলবো। এবারেও বলবো। ৭ থেকে ১৭ নভেম্বর বিপ্লবের দিনগুলোতে প্রতিদিন কোথাও-না-কোথাও আমাদের কথা বলবো। মানুষ প্রতি বছর শোনেন, এবারেও শুনবেন।
মার্কস এঙ্গেলসের শেখানো পথে হেঁটে লেনিন যে সোভিয়েত রাশিয়া তৈরি করেছিলেন ১৯৩০ সালে সে দেশ দেখে রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, “এখানে ধনগরিমার ইতরতা নেই।” রাশিয়ার চিঠিতে তিনি লিখলেন, ‘‘প্রতিদিনই আমি ভারতবর্ষের সঙ্গে এখানকার তুলনা করে দেখি আর ভাবি কী হয়েছে কী হতে পারতো!’’

............................................................
লেনিন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি অপরিসীম সহমর্মী ছিলেন। একই সঙ্গে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের প্রতি ছিল তাঁর রাশি রাশি ঘৃণা। হ্যাঁ, এই লেনিনকেই আমরা নেতা মানি। আমরা যারা লাল পতাকা কাঁধে চলি, মানুষের জন্য লড়াই করি, ধর্মীয় বিভেদ জানি না, জাতপাত মানি না, মুক্তচিন্তায় ভরসা রাখি, তারা বুক ফুলিয়ে বলি মার্ক্স-লেনিন আমাদের নেতা, পথপ্রদর্শক। হিম্মত থাকলে বিজেপি-আরএসএস বলুক, জামাত-ই-ইসলামি বলুক, হিটলার মুসোলিনি তাদের নেতা।

Comments :0

Login to leave a comment