ফলতার পুনঃ নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়েছে। এই আসনে জয় লাভ করেছে বিজেপি। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিপিআই(এম)। তৃতীয় স্থানে কংগ্রেস চতুর্থ স্থান পেয়েছে তৃণমূল। বিজেপির প্রাপ্ত ভোট ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৬৬৬ যা শতাংশের হিসাবে ৭১.২। সিপিআইএম পেয়েছে ৪০ হাজার ৬৪৫ টি ভোট। যা ১৯.৩৪ শতাংশ। কংগ্রেসের মোট প্রাপ্ত ভোট ১০ হাজার ৮৪। তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৭৭৮৩ টি ভোট।
২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে বিপুল সন্ত্রাস হয় এই ফলতায়। ফলে গোটা বিধানসভা কেন্দ্রেই পুনঃ নির্বাচনের ঘোষণা করে কমিশন। ২১ মে সেই নির্বাচন হয়েছে। এদিন নির্বাচনের ফিল ঘোষণা হলো।
সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ফলতার মানুষ ও ভোটারদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। সিপিআই(এম) কর্মীদের ও সিপিআই(এম) প্রার্থী শম্ভু কুর্মীকে লাল সেলাম জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, "তৃণমূল যেভাবে বরফের মতো গলে যাচ্ছে গরমে সেখানে দাঁড়িয়ে সিপিআই(এম) তাদের শক্তিকে সংহত করছে। প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছি তারই স্বীকৃতি এই ফলাফলে স্পষ্ট লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এবং প্রান্তিক মানুষরা তাদের আশ্রয়স্থল হিসেবে সিপিআই(এম)'কেই বেছে নিচ্ছেন। তৃণমূল আসলে আরএসএসের একটা বা সাজানো বাহিনী ছিল। তারা মস্তানি- গুন্ডামি করে যা করেছে সেখানে মানুষ তাদের মতামত দিতে পারতেন না। মানুষের যদি মত প্রকাশের সুযোগ থাকে এবং গণতন্ত্রকে আমরা যদি ফিরিয়ে আনতে পারি তাহলে সেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে বামপন্থার পুনরুত্থান হবে, এটা ফলতার ফল দিয়ে বোঝা যাচ্ছে।"
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ফলতা বিধানসভা থেকে ১ লক্ষ ৮৩ হাজারের বেশি ভোটে জিতেছিলেন তৃণমূল প্রার্থী অভিষেক ব্যানার্জি। ১৯ টি বুথে ৯৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিলো তৃণমূল। ডায়মন্ডহারবার লোকসভা জুড়ে বেলাগাম ভোট লুঠের বিরুদ্ধে বামপন্থীরা বারবার সরব হয়েছে। প্রশাসনকে ব্যবহার করে এই বেপরোয়া স্বৈরতান্ত্রিক কার্যকলাপকেই ডায়মন্ডহারবার মডেল বলা হতো। সেই মডেলের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন জাহাঙ্গীর খান। ভোটের ফল বেরানোর আগে তিনি হম্বিতম্বি করলেও ৪ মে পর গুটিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত ভোটের দুদিন আগে প্রার্থীপদ তুলে নেওয়ার ঘোষণা করেন। কিন্তু ততোদিনে প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হয়ে গিয়েছে। ফলে ইভিএম'এ তৃণমূলের প্রতীকে তারই নাম ছিল। শোচনীয় ফলাফলে প্রমাণিত অতীতের ভোটগুলিতে কী মাত্রায় গা জোয়ারি করেছে তৃণমূল। এদিনের ফলাফলে গা জোয়ারি রাজনীতির বিরুদ্ধে রায় দেখা গিয়েছে।
Comments :0