FIFA World Cup 2026

ঝলমলে বিশ্বকাপে বিবর্ণ গৃহহীনের লুকানোই মাথাব্যথা আমেরিকার

স্পটলাইট বিশ্বকাপ ২০২৬ খেলা

পূজা বোস

আটলান্টা স্টেডিয়াম থেকে কয়েক মাইল দূরে, যেখানে প্রায় কয়েক হাজার ফুটবল অনুরাগীকে এই মাসেই স্বাগত জানানো হবে, সেখানে আশ্রয় কেন্দ্র খোলার আশায় শহরের কেন্দ্রীয় ফুটপাথে প্রায় কয়েকডজন মানুষ অপেক্ষা করছেন।
ঘর নেই বহু মানুষের। বিশ্বকাপের আলোতে অন্ধকার ঢাকা পড়ছে না। বিশ্বকাপের আয়োজক আমেরিকা, মেক্সিকো, কানাডা। তিন দেশেই গৃহহীন মানুষ শহরের বাস্তবতা। কিন্তু আমেরিকায় সঙ্কট নিয়ে আলোচনা বেশি। গৃহহীনরা ঘর পাবেন কিনা, এবারের বিশ্বকাপে তা নিয়েও চলছে জোর চর্চা।   
আমেরিকার জর্জিয়ায় আটলান্টাতে হবে ফুটবল বিশ্বকাপের আটটি ম্যাচ। তার মধ্যে রয়েছে একটি সেমি ফাইনালও। 
এই শহরেই এখনও অনেককে দেখা যাচ্ছে রাস্তার ধারে স্লিপিং ব্যাগের মধ্যে ঘুমিয়ে থাকতে। বিকেলের সূর্যের তেজকে ঢাকার জন্য তাঁরা নিজেদের চোখ ‘স্লিপিং মাস্ক‘ দিয়ে আটকে রেখেছেন। আবার কিছুজন সেই ফুটপাতের পাশে বসেই খাবার খাচ্ছেন। 
বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে চলা ৩৯ দিন ব্যাপী ফুটবল বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে শেষ গ্রীষ্মকালে ফুটপাথে বসবাস, ঘুমানোর বিষয়টি বন্ধ করার জন্য আটলান্টা একটি বিশেষ ঘোষণা করে। 'ডাউনটাউন রাইসিং' নামে ওই প্রকল্পে ৫০০ জনের বসবাসের ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে প্রায়র স্ট্রিটের এই আশ্রয় কেন্দ্রটির বাইরে সাম্প্রতিক এক বিকেলের দৃশ্যটি বলছে যে আটলান্টা এখনও সবার কাছে পৌঁছাতে পারেনি।
গৃহহীনতার সমস্যা মোকাবিলা করার জন্য ‘গ্রেটেস্ট শো অন দ্যা আর্থ‘-কে কাজে লাগানোর ঘোষণা করেছে তিন দেশেরই প্রশাসন। 
আমেরিকার সিয়াটেলও একটি আবাসন উদ্যোগের ঘোষণা করা হয়েছে। সেইসঙ্গে নগর প্রশাসন এ-ও বলেছে যে তারা তাদের অগ্রগতির জন্য বিশ্বকাপকে ব্যবহার করছে। 
ডালাস জানিয়েছে যে শহরের কেন্দ্রস্থলে বসবাসকারী গৃহহীন মানুষদের আবাসন দেওয়ার একটি চেষ্টা হচ্ছে।
সংবাদসংস্থা এপি’র একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, নিউ ইয়র্ক, বোস্টন, ফিলাডেলফিয়া, মায়ামি, হিউস্টন, টরন্টো সহ ব্রিটিশ কলম্বিয়ার ভ্যাঙ্কুভার সহ ১৬টি ভেন্যুর অধিকাংশই গৃহহীনতা মোকাবিলার জন্য কর্মসূচির নিতে বাধ্য হয়েছে। 
শহরের নীতি নির্ধারকদের জন্য তাঁবুর বসতি বা ক্যাম্পের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা বহু বছর ধরেই এক বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 
আমেরিকার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশজুড়ে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা দুই অঙ্কের হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। হিসেব ছিল, গৃহহীনের সংখ্যা ৭ লক্ষ ৭০ হাজার। যদিও প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও বেশি বলে মনে করা হয়। এরপর গত বছর এই সংখ্যা সামান্য কমে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৬৫২-তে নেমে আসে।
অতীতে অনেক শহরই গৃহহীনদের দৃষ্টিকটু বিষয় হিসেবে গণ্য করত। এই গৃহহীনদের, বড় কোনও খেলা বা রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের আগে, সরিয়ে ফেলা প্রয়োজন বলেও মনে করা হত। 
গত বছরের সুপার বোলের সময়, নিউ অরলিন্স সুপারডোম-এর কাছাকাছি গড়ে ওঠা তাঁবুর বসতিগুলো সরিয়ে ফেলতে এবং গৃহহীনদের একটি অস্থায়ী গুদামে স্থানান্তরিত করতে লক্ষ লক্ষ ডলার খরচও করা হয়। 
২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিক শুরুর আগে, খেলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিবাসীদের বাসে করে শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালে ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কনভেনশনের আগে শিকাগো তাদের অন্যতম বৃহত্তম তাঁবুর বসতিটি সরিয়ে ফেলেছিল।
জাঁকজমকের বিশ্বকাপে ব্যবস্থার ফাঁকফোকর লুকানোই মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়াচ্ছে তিন দেশে।

Comments :0

Login to leave a comment