অনিন্দিতা দত্ত : কার্শিয়াঙ
অনিন্দিতা দত্ত : কার্শিয়াঙ, ১৬জুন — পাহাড়ে একগুচ্ছ উন্নয়নের পাশাপাশি দুর্নীতির তদন্তেরও প্রতিশ্রুতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার কার্শিয়াঙের মন্টেভিউ গ্রাউন্ডের জনসভায় জিটিএ-তে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত, পাহাড়ে পৌর নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
কিন্তু পাহাড় তথা উত্তরবঙ্গের মানুষের প্রশ্ন কাজ কতটা হবে তা নিয়েই। কারণ প্রধানমন্ত্রী থেকে বিজেপি’র কেন্দ্রীয় এবং রাজ্যস্তরের নেতারা বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। উত্তরবঙ্গ থেকে মানুষ বিজেপি’র একাধিক জন প্রতিনিধিকেও নির্বাচিত করেছেন। কিন্তু তৃণমূলের মতোই, বিজেপি-ও উদাসীন থেকেছে সঙ্কট নিরসনে।
এদিন শুভেন্দুর প্রতিশ্রুতি, কালিম্পঙে মেডিক্যাল কলেজ, কার্শিয়াঙ হাসপাতালের সংস্কার, সরকারি স্কুলে স্মার্ট ক্লাসরুম হবে। ‘খেলো ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের ইন্ডোর স্টেডিয়াম ও স্পোর্টস গ্রাউন্ড নির্মান করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি, পাহাড়ের চা শ্রমিকদের ঘরে ঘরে প্রধানমন্ত্রীর ‘পিএম চা শ্রমিক যোজনা’ সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে। বন্ধ থাকা ২৫টি চা বাগানের জন্য বরাদ্দ ৩৩৪কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ খুব শীঘ্রই আরম্ভ হবে।
ঘটনা হলো, অতীতে কেন্দ্রের তরফে উত্তরবঙ্গে ধুঁকতে থাকা চা বাগান অধিগ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কাজে তার নামগন্ধও মেলেনি। কৃষি ফসল সংরক্ষণের পরিকাঠামো তৈরির কাজে ব্যবহার হয়নি কেন্দ্রীয় কোনও প্রকল্পের অর্থ।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, অন্নপূর্ণা যোজনা’-র আওতায় প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে পাহাড়ের ২৮ লক্ষ মহিলাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। কিন্তু প্রশ্ন রয়েছে এই প্কল্প নিয়েও। ভোটের আগে বলা না হলেও সরকার গঠনের পর বিজেপি মহিলা অনুদান প্রকল্পের জন্য বারো পাতার ফর্ম ভরতে বাধ্য করছে মহিলাদের। দিতে হচ্ছে বহু নথি। জানানো হয়েছে যে ফর্ম ভরলেই যে অনুদান মিলবে এমন নয়। সেক্ষেত্রে মাপকাঠি কী হবে, স্পষ্ট করা হয়নি তা-ও।
শুভেন্দু বলেন, গোর্খা আন্দোলন চলাকালীন সময়ে পুলিশকে কাজে লাগিয়ে পাহাড়ের মানুষের ওপর যে নির্মম অত্যাচার নামিয়ে আনা হয়েছিলো তা কোনভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। যাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের হয়েছিলো সেই মামলাগুলি প্রত্যাহার করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত দেড় মাসের মধ্যে তৃতীয়বার উত্তরবঙ্গ সফরে এলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, বিগত সরকার পাহাড়ের জনমতকে উপেক্ষা করেছে। উন্নয়নের পরিবর্তে তোলাবাজি, সিন্ডিকেটরাজ ও লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছিলো। রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধিতে ব্যস্ত ছিলো বিগত তৃণমূলী সরকার। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পাহাড়ে বেড়াতে আসতেন। সমস্ত উন্নয়নের পথ বন্ধ করে দিয়ে পাহাড়ের সম্পদ লুট করার পথ প্রশস্ত করেছেন। তিনি বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে পৌরসভা নির্বাচন করা হয়নি। প্রশাসক বসিয়ে পাহাড়ের মানুষের সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এদিন কার্শিয়াঙের সভায় উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা, অর্থ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন, সাংসদ রাজু বিস্তা, হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, বিধায়ক সোনম লামা, নোমান রাই, ভরত ছেত্রী, দূর্গা মুর্মু ৷ এছাড়াও ছিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সভাপতি বিমল গুরুং, জিএনএলএফ সভাপতি মন ঘিসিং এবং বিজেপি হিল সভাপতি সঞ্জীব লামা সহ বিশিষ্টজনেরা।
Suvendu Adhikari
পাহাড়ে উন্নয়ন-স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি মুখ্যমন্ত্রীর, প্রশ্ন বাস্তবায়নেও
×
Comments :0