খাদ্য দপ্তরের কর্মীর অভাবেই খাদ্য দপ্তরের অতিরিক্ত সচিবের ১৫ জুনের মধ্যে এসআইআরে মৃত, স্থানান্তরিত, অনুপস্থিত এবং যারা হেয়ারিংয়ে তথ্য না দিতে পারায় ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারে নি তাদের মধ্যে কারা ভরতুকিতে রেশন পাচ্ছে তাদের তালিকা কোচবিহার সহ উত্তরবঙ্গের কোন জেলাই দিতে পারছে না! কর্মী সংকটের কারণেই আয়ের মাপকাঠিতে রেশন গ্রাহকদের ছাঁটায়ের কাজও থমকে!
এসআইআরে যারা বিচারাীন তাদের চিহ্নিত করার নির্দেশিকা দিয়েছে রাজ্যের খাদ্য দপ্তর! আবার আয়ের মাপকাঠিতে রেশন গ্রাহকদের ছাঁটাই করার কাজ শুরু করতে হবে মহকুমার খাদ্য দপ্তর গুলিকে! এসবের মাঝে আছে খাদ্য দপ্তরের দৈনন্দিন কাজ! এত কাজ করতে চাই কর্মী। কিন্তু কর্মী কোথায়? মহকুমার অফিস গুলিতে চেয়ার টেবিল সব আছে কর্মী থেকে আধিকারিকের পদ তো শূণ্য। সোমবার মাথাভাঙা মহকুমা খাদ্য দপ্তরে গিয়ে আধিকারিকের দেখা মেলেনি। টেলিফোনে মহকুমা আধিকারিক সুজিত মারডি জানালেন, ‘‘তিনি মেখলিগঞ্জের আধিকারিক। মাথাভাঙার অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন। ১৫-১৭ জুন রাজ্য সরকারের আগের সরকারের দুয়ারে সরকারের মতই শুরু ৩ দিনের জনকল্যান শিবির শুরু হয়েছে। মেখলিগঞ্জের বিভিন্ন শিবির ঘুরে তিনি মাথাভাঙার শিবিরে ঘুরছেন। শিবির চলাকালীন তিনদিন তার পক্ষে অফিসে ঢোকাই মুস্কিল।’’ তিনি ফোনেই জানালেন এসআইআরে মৃতদের তালিকায় যাদের নাম আছে সবে তাদের চিহ্নিত করণের ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এরপর আছে স্থানান্তরিত, নিখোঁজ বা অনুপস্থিতদের চিহ্নিত করণের কাজ। তারপর দুই মহকুমায় সাবজুডিশদের চিহ্নিত করণের কাজ। মহকুমার অফিস গুলিতে কম্পিউটার জানা কর্মীর ঘাটতি আছে। কাজ তুলতে যুদ্ধ চলছে খাদ্য দপ্তরের গুঁটিকয়েক কর্মীর।’’ স্বাভাবিক ভাবেই আয়ের মাপকাঠিতে রেশন গ্রাহকদের ছাঁটাইয়ের কাজ কবে কিভাবে শুরু হবে সেটা নিয়ে ধন্দে আছেন মহকুমার আধিকারিকেরা।
জেলা খাদ্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এতদিন বছরে ১. ৮০ লক্ষ টাকা আয়যুক্ত পরিবারের জন্য ভরতুকির রেশন চালু আছে। সেই ব্যবস্থা বদলাতে চাইছে বিজেপির রাজ্য সরকার। সূত্রের খবর এখনই যাদের বছরে আয় ১.৮০ লক্ষ টাকা তাদের রেশন ছাঁটাই হবে না। তবে মহিলারা অন্নপূর্না যোজনার জন্য যে ফর্ম ফিলাপ করছে তাতেই পরিবারের আয় উল্লেখিত থাকছে। সম্ভবত এই তথ্যই ব্যবহার হবে রেশন গ্রাহকদের ক্ষেত্রে!
উল্লেখ্য জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা যোজনায় রাজ্যে প্রায় ৬ কোটি এক লক্ষ রেশন গ্রাহক ভরতুকিতে রেশন পায়। এএওয়াই সহ তিন ধরনের কার্ডে গ্রাহকেরা ২ টাকা কেজি দরে চাল-গম পায়। এতদিন আগের সরকার বিনামূল্যেই এদের রেশন দিত। এছাড়াও আগের সরকার নিজস্ব খাদ্য সুরক্ষায় আরকেএসওয়াই-১ রেশনকার্ড ধারীদেরও বিনামূল্যে রেশন দিত।
আর আরকেএসওইয়াই -২ রেশন কার্ডধারীরা নামমাত্র মূল্যে রেশন পেত। এবারে এই খরচে লাগাম পড়াতে চলেছে রাজ্য সরকার। বর্তমান সরকার জেলায় জেলায় ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে যাদের বয়স ১৮ পার হওয়ার পর যাদের ডিজিটাল রেশন কার্ড দেওয়া হয়েছে তাদের তথ্য ভিত্তিক তালিকা করার নির্দেশ দিয়েছে। এসআইআরে মৃত, স্থানান্তরিত, অনুপস্থিতদের চিহ্নিত করে বাদ দেবার পাশাপাশি শুনানির সময়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে না পেরে বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে কারা রেশন পাচ্ছে সেই তালিকা তৈরিতে এখন মহকুমা খাদ্য দপ্তর গুলিতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলছে। ১৫ জুনের মধ্যে এই তালিকা জমা দেওয়ার দিন ধার্য হলেও কর্মীর অভাবে মন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়িত হচ্ছে না উত্তরবঙ্গের কোন জেলাতেই। এরপরেই সরকারের ভরতুকিযুক্ত রেশন গ্রাহকদের আয়ের মাপকাঠির ভিত্তিতে তালিকা হবে। আর তাতেই বাদ যাবার আশংকা রয়েছে অনেক পুরনো গ্রাহকেরই।
Mathabhanga
কর্মী সঙ্কট নিয়েই মাথাভাঙা খাদ্য দপ্তরে চলছে রেশন গ্রাহকদের ছাঁটায়ের কাজ
×
Comments :0