Dhaka

দিনেশ ত্রিবেদীর ‘অখণ্ড ভারত’ মন্তব্যে চাপে ভারত

আন্তর্জাতিক

মীর আফরোজ জামান, ঢাকা

 বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর ‘ভারত-বাংলাদেশ এক হয়ে যাওয়া’ এবং ‘অখণ্ড ভারত’-সংক্রান্ত মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর থেকেই তাঁর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ইসলামি দল, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও নাগরিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, এই ধরনের মন্তব্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী।
শনিবার জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান ফেসবুকে বলেন, ভারত যেমন স্বাধীন রাষ্ট্র, বাংলাদেশও তেমনই স্বাধীন। তাই ‘এক হয়ে যাওয়া’ বলতে হাইকমিশনার কী বোঝাতে চেয়েছেন, ভারত সরকারকে তা তাঁর কাছ থেকে স্পষ্টভাবে জানতে হবে। বক্তব্যের ব্যাখ্যা না মিললে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ইসলামি সংগঠন ‘আমীর-ই-জমজম’-এর পক্ষ থেকেও অভিযোগ করা হয়েছে, বাংলাদেশে এসেই দীনেশ ত্রিবেদী উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন। তাদের দাবি, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া, নদীর পানিবণ্টন ও সীমান্তে হত্যাকাণ্ড চলতে থাকলে বন্ধুত্বের কথা বিশ্বাসযোগ্য হয় না। ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের রাজনৈতিক বাস্তবতার উল্লেখ করে সংগঠনটি জানায়, বাংলাদেশ কোনো আধিপত্যবাদী সম্পর্ক মেনে নেবে না।
ইসলামি আইনজীবী পরিষদ, ওলামায়ে কেরাম ও একাধিক রাজনৈতিক সংগঠনও সরকারের কাছে হাইকমিশনারের বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১২ জুন বাংলাদেশে প্রবেশের আগে কলকাতায় দীনেশ ত্রিবেদী বলেছিলেন, ভারতের ১৪০ কোটি ও বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে ১৬০ কোটির শক্তি বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। দায়িত্ব গ্রহণের আগেই দেওয়া এই মন্তব্য নিয়েই বিতর্কের সূত্রপাত।
এদিকে সীমান্তে কথিত ‘পুশ-ব্যাক’ বা মানুষকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠানোর অভিযোগও নতুন করে দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) একাধিক ক্ষেত্রে তা প্রতিরোধ করেছে বলে জানা গেছে। বিজিবি-বিএসএফ বৈঠকে বাংলাদেশ এই প্রক্রিয়াকে অবৈধ ও মানবাধিকারবিরোধী বলে জানালেও, এ বিষয়ে দীনেশ ত্রিবেদী সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে যান।
লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশের আগে কোনো হাইকমিশনার-মনোনীত ব্যক্তিকে এত উচ্চমাত্রার সরকারি সংবর্ধনা দেওয়া কূটনৈতিক রীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাঁর মতে, সীমান্ত হত্যা, ভিসা জটিলতা, বাণিজ্য বৈষম্য ও তিস্তা চুক্তির মতো অমীমাংসিত সমস্যা রেখে শুধুমাত্র আবেগঘন বক্তব্যে বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনও প্রতিক্রিয়ায় বলেন, যদি আঞ্চলিক ঐক্যের কথাই বলা হয়, তবে শুধু ভারত-বাংলাদেশ নয়, সার্কভুক্ত সব দেশের ২২০ কোটিরও বেশি মানুষের ঐক্যের কথা বলা উচিত। শুধু দুই দেশের একত্রীকরণের প্রসঙ্গ উঠলে তা সন্দেহের উদ্রেক করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

Comments :0

Login to leave a comment