মলয় কুমার মণ্ডল: রানিগঞ্জ
রুটি রুজির সমস্যা ও সঙ্কটে জর্জরিত পশ্চিম বাংলায় বিকল্পের কথা বলছে লালঝাণ্ডা।
বাংলা বাঁঁচানোর লক্ষ্যে প্রান্তিক ও শ্রমজীবী মানুষের ঐক্য গড়ে তুলতে রানিগঞ্জ কয়লাঞ্চলে চলছে বৈঠকি সভা। মহিলা, যুব সহ প্রগতিশীল মানুষেরাও যোগ দিচ্ছেন সেই সভায়। পশ্চিম বর্ধমান জেলায় রানিগঞ্জ শিল্পাঞ্চলে সিপিআই(এম) আয়োজিত এই সভার আলাপ আলোচনায় উঠে আসছে বিকল্পের সন্ধান । প্রাত্যহিক জীবনের অভিজ্ঞতায় মানুষেরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন জীবন যন্ত্রণা। তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত ও কর্পোরেশনের ওয়ার্ডে লাগামহীন দুর্নীতির প্রসঙ্গে উঠে আসছে। পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারের পরবর্তী সময়ে তৃণমূল-বিজেপি'র শাসনে মানুষের জীবন যন্ত্রণার দিনলিপি।
বল্লভপুরের রঘুনাথচক থেকে ৯৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোলডাঙা বস্তি এলাকায় বৈঠকি সভায় নবীন প্রবীণ সর্বস্তরের মানুষ শামিল হচ্ছেন। রঘুনাথচকের সভার শুরুতে সকলেই বলেন কাদের কাদের আবাস যোজনায় বাড়ি তৈরি হবে তার তালিকা পঞ্চায়েতকে প্রকাশ করতে হবে। বল্লভপুর পেপারমিল বন্ধ। লালঝাণ্ডা লড়াই করছে কারখানা খোলার দাবি নিয়ে। রানিগঞ্জের নূপুর গ্রামে বেশিরভাগ ভাগচাষি। তাঁদের জমি থেকে উৎখাতের চক্রান্ত চলছে। কৃষকসভা আন্দোলন জারি রেখেছে। কৃষকরা পঞ্চায়েত থেকে বঞ্চিত হওয়ার কথাও শোনালেন। সারের ও কৃষি উপকরণের দাম আকাশছোঁয়া। কালোবাজারি হচ্ছে। সারের প্যাকেটে প্রিণ্টিং দামের চেয়ে বেশি দাম দিয়ে সার কিনতে হচ্ছে। বামফ্রন্ট সরকারের সময় সার,বীজ, কীটনাশক ব্লক কৃষি উন্নয়ন দপ্তরের থেকে পঞ্চায়েত মারফত কৃষকদের বিলি করা হতো। এখন সার,বীজ কৃষকের না দিয়ে লুট হয়ে যায়। জেকে নগর, চেলোদ, তিরাট এলাকাতেই প্রতিটি বুথে চার পাঁচটি করে বৈঠকি সভা হচ্ছে। লালঝাণ্ডা বেঁধে এই সভাগুলিতে মহিলাদের উপস্থিতি লক্ষ্যণীয়। করপোরেশন এলাকার মানুষের সাথে প্রতারণা করছে তৃণমূল । বৈঠকি সভায় উপস্থিতি পাঁচ জনের একই কথা রেশনের সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। আঙুলের ছাপ না মেলায় রেশন বন্ধ হয়ে গেছে। ফুড সাপ্লাই অফিসে ১০ দিনে ৩ বার দৌড়াতে হল। করপোরেশন পরিচালিত পৌর বিদ্যালয়গুলি ধুঁকছে। একজন, দুজন শিক্ষক চারটি ক্লাস নিচ্ছেন। গরিব শ্রমজীবী বাড়ির ছেলেমেয়েরা কোথায় পড়াশোনা করবে? আলোচনা, এলাকার সমস্যা নিয়ে কথা বলছেন এলাকার মানুষজন। তারাই বলছেন বামফ্রন্ট সরকারের সাথে তৃণমূল বিজেপির ফারাক। বেকারদের কাজ নেই মঙ্গলপুর শিল্পতালুকে স্থানীয় বেকারদের কাজ দিচ্ছে না কারখানা কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় বেকার যুবরা পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে। এই সভায় দাবি উঠছে, বন্ধ কারখানার জমিতে কারখানা তৈরি করে কাজ দিতে হবে। বার্ণসের জমি রেল অধিগ্রহণ করে বস্তি উচ্ছেদের নোটিশ দিচ্ছে। উচ্ছেদের বিরুদ্ধে তৃণমূল বিজেপি একটা শব্দও খরচ করে নি। ধর্ম নিয়ে মাতিয়ে বিভাজনের ফন্দি ফিকির করছে বিজেপি। সিহারশোলে, শিশুবাগান, বাঁশড়া সর্বত্রই বক্তারা বলছেন, কয়লাখনির বেসরকারিকরণ করছে বিজেপি সরকার। ইসিএল খোলামুখ খনি বেসরকারি সংস্থার হাতে সঁপে দিয়ে রানিগঞ্জ শহরকে গ্রাস করতে চাইছে। রানিগঞ্জবাসীর প্রতিবাদ উঠে আসছে। দাবি ওঠে, জনজীবনের বিপর্যয় রুখেই খনি হোক। বিজেপির করপোরেট সংস্থার দালালীর প্রতিবাদে ১২ ফেব্রুয়ারি ধর্মঘটে শামিল হবেন সাধারণ মানুষেরাও। রানিগঞ্জ কয়লাঞ্চলকে বাঁচানোর জন্য লুটে খাওয়াদের বিরুদ্ধে খেটে খাওয়াদের লড়াই জারি থাকবে। একথাই সোচ্চারে ঘোষিত হচ্ছে বৈঠকি সভাগুলিতে।
Comments :0