লোকসভার ১১৮ সাংসদের সই সহ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিশ জমা করেছে বিরোধী বিভিন্ন দল। লোকসভার সেক্রেটারি জেনারেল কে সুরেশের কাছে জমা পড়েছে নোটিশ। কংগ্রেস নেতা কে সুরেশ, গৌরব গগৈ সহ বিরোধী নেতাদের সই রয়েছে অনস্থা প্রস্তাবে।
লোকসভার চলতি বাজেট অধিবেশনেও বারবার অধ্যক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের রাহুল গান্ধীকে বলতে দেওয়া হয়নি প্রাক্তন সেনাপ্রধান এম নারাভনের লেখা একটি বই সম্পর্কে। রাহুলের দাবি ছিল যে চীনের সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের ভূমিকার সমালোচনা রয়েছে বইয়ে।
কিন্তু বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবেকে এই অধ্যক্ষ ওম বিড়লাই পড়তে দিয়েছেন গান্ধী পরিবার সম্পর্কে লেখা একাধিক বইয়ের অংশ।
প্রতিবাদ জানানোয় কংগ্রেসের ৭ এবং সিপিআই(এম) সাংসদ এস বেঙ্কটেশন সহ মোট বিরোধী ৮ সাংসদকে গোটা অধিবেশনে সাসপেন্ড করেন অধ্যক্ষ। এই পক্ষপাতিত্বের প্রতিবাদ চলছিলই।
সূত্রের খবর, বিরোধীদের বৈঠকে অনস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় তৃণমূল কংগ্রেস বিরোধিতা করে। কেবল সাংসদদের সাসপেনশনের বিরোধিতা করে চিঠি দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করে। তবে বিরোধী বড় অংশই একমত ছিল যে অনাস্থা প্রস্তাব এনে প্রতিবাদ জোরালো করা দরকার সংসদ এবং গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে। চিঠিতে শেষ পর্যন্ত সই করেননি তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও সাংসদ। তৃণমূলের বক্তব্য, প্রথমে চিঠি দিয়ে অধ্যক্ষককে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনদিন সময় দেওয়া দরকার ছিল। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ব্যবস্থা না নিলে অনাস্থা আনা যেত। সেক্ষেত্রে সমর্থন করত তৃণমূল। কিন্তু বিরোধী বড় অংশের বক্তব্য, একবার নয়, বারবার সংসদে বিরোধীদের চুপ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদ জানালে বহিষ্কার করা হয়েছে বিরোধী সাংসদদের। সময় দিলে অধ্যক্ষের মনোভাব বদলে যাবে এমন অনুমানেরই কোনও ভিত্তি নেই নির্দিষ্ট ঘটনাপ্রবাহের কারণেই। (আরও দেখুন: ওম বিড়লার অনাস্থায় ‘নরম’ তৃণমূল)
এদিন অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে জমা চিঠিতেও অধ্যক্ষের আসনে বসে বেলাগাম পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে খেবল লোকসভার দলনেতা নন, বিরোধী সাংসদরা বলতে গেলেই বাধা দেওয়া হচ্ছে। বারবার মাইক বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
Loksabha Speaker
চরম পক্ষপাতিত্ব, লোকসভার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনাস্থার নোটিশ বিরোধীদের, নেই তৃণমূল
×
Comments :0