IRAN USA

‘কারোর হুমকিতে মাথানত নয়’: ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে অনড় ইরান

আন্তর্জাতিক

ওমানে আমেরিকার সাথে আলোচনার পর এবার সুর আরও চড়ালেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। রবিবার তেহরানে এক প্রকাশ্য সভায় তিনি সাফ জানিয়ে দেন, আমেরিকার সামরিক আস্ফালন বা অর্থনৈতিক অবরোধ কোন কিছুতেই ইরান তার পরমাণু নীতি পরিবর্তন করবে না। বরং প্রয়োজনে যুদ্ধের মুখোমুখি হতেও তেহরান প্রস্তুত।
বিদেশমন্ত্রী আরাঘচি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কাছে বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন এবং এটি নিয়ে কোন আপস করা হবে না। তার কথায়, ‘কেন আমরা সমৃদ্ধকরণ নিয়ে এত অনড়? কেন যুদ্ধ চাপিয়ে দিলেও আমরা পিছু হটব না? কারণ আমাদের আচরণ কেমন হবে, তা ডিক্টেট করার অধিকার অন্য কারোর নেই।’
তিনি আরও যোগ করেন, ইরানের 'পারমাণবিক বোমা' আসলে কোন মারণাস্ত্র নয়, বরং বড় শক্তিগুলোকে না বলার ক্ষমতা।
আলোচনা চলাকালীনই ওমান উপসাগরের কাছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন মোতায়েন করে ওয়াশিংটন। মার্কিন মধ্যস্থতাকারী স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার রণতরীটি পরিদর্শন করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শক্তির মাধ্যমে শান্তি নীতি পুনরায় মনে করিয়ে দেয়।
অন্যদিকে আলোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সাথে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের কথা বলেছে।
বাইরের চাপের পাশাপাশি ইরানের অভ্যন্তরেও পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। গত ডিসেম্বর থেকে চরম অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অসন্তোষের জেরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন রক্তক্ষয়ী রূপ নিয়েছে।তেহরানের দাবি অনুযায়ী, এই বিক্ষোভে ৩,১১৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নিরাপত্তা কর্মী এবং সাধারণ পথচারী। রবিবার ২৯৮৬ জনের একটি তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে মার্কিন মানবাধিকার সংস্থা গুলোর দাবি, নিহতের সংখ্যা প্রায় ৭,০০০ ছাড়িয়েছে, যাদের অধিকাংশই প্রতিবাদী জনতা। এছাড়া ৫১,০০০-এর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে ইরান জানিয়েছে, তারা আমেরিকার পরবর্তী পদক্ষেপ গুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ওয়াশিংটন যদি গঠনমূলক আলোচনা না করে অবরোধ জারি রাখে, তবে ইরান আলোচনা চালিয়ে যাবে কি না, তা নিয়ে পুনরায় ভাববে।

Comments :0

Login to leave a comment