নাজিরাবাদে বন্ধ ঘরে অগ্নিদগ্ধ হয়েছিলেন শ্রমিকরা। প্রায় ত্রিশ শ্রমিকের মৃত্যুর সেই ঘটনা দেশের নানা প্রান্তে আসছে ধর্মঘটের প্রচারে। ছত্তিশগড়ে এসইসিএল’র কর্মীরা নামলেন ব্যাপক সংখ্যায়। বুধবার দিল্লির ঝিলমিল শিল্প তালুকে প্রচার সভা করলেন সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি।
এদিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চ ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব ট্রেড ইউনিয়নস সংহতি জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন সমূহকে। দশটি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের এই ধর্মঘটকে সমর্থন করে পথে নেমেছে সংযুক্ত কিসান মোর্চা।
বেবি শ্রমিকদের সভায় বললেন, শ্রম কোড আইন কেবল শ্রমিকবিরোধী নয়, শ্রমিক শ্রেণির পক্ষে সব আইনি অধিকার কেড়ে নিয়ে কর্পোরেটের হাতে দিয়ে দেওয়া।
দিল্লিরই একটি প্রচারসভায় সিপিআই(এম) পলিট ব্যুরো সদস্য অরুণ কুমার বলেছেন নাজিরাবাদের ঘটনা। তিনি বলেছেন, শ্রম দপ্তরের নজরদারি যদি থাকত, ইনস্পেকটরা যদি নিয়মিত আসত, তালাবন্ধ ঘরে শ্রমিকদের থাকতে হতো না। আগুন লাগার পরও তাঁরা বের হতে পারেননি।
সিআইটিইউ এই ঘটনাকেই বলেছিল ‘প্রাতিষ্ঠানিক হত্যা’, নিছক দুর্ঘটনা নয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রচারে শ্রমিক আন্দোলনের নেতারা বলছেন, এমন ঘটনা বারবার হচ্ছে। তা সত্ত্বেও দেশের সরকার ২৯টি শ্রম আইন বাতিল করে চারটি শ্রম কোড পাশ করেছে। এমনকি সংগঠিত প্রতিবাদকেও ফৌজদারি অপরাধের আওতায় ফেলছে দেশের সরকার।
বেবি বলেছেন, চার শ্রম কোড যা বলছে তার অর্থ অসুস্থ হয়ে পড়লে বা বয়স হয়ে গেলে সেই শ্রমিককে যে কোনও সময় তাড়িয়ে দিতে পারবে মালিকপক্ষ। পিএফ, প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে পেনশনের মতো সামাজিক সুরক্ষার দায় পুরোপুরি তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে।
বেবি বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির ধর্মঘট বেতন বৃদ্ধির লড়াই নয়। দেশকে বাঁচাতে, শ্রমিক শ্রেণিকে বাঁচাতে, তাঁদের মর্যাদা রক্ষার লড়াই। শ্রমিক শ্রেণিকে দাসে পরিণত করতে চাইছে সরকার। তাকে আটকানোর লড়াই।
ছত্তিশগড়ের কোরবা জেলায় সাউথ ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডের গেবরা খাদান। সেখানে শ্রমিকরা মিছিল করেছেন দল বেঁধে। সাড়া দিয়েছেন মর্যাদা রক্ষার লড়াইয়ে।
ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব ট্রে ইউনিয়নস বার্তায় বলেছে, অত্যন্ত ক্ষোভের যে ভারতে চারটি শ্রম কোড পাশ হয়েছে যেখানে ধর্মঘটের অধিকার, দরকষাকষির অধিকার বাতিল করা হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পদ বেসরকারিকরণ করা হচ্ছে। ভারতের শ্রমিক শ্রেণি সঙ্গত কারণেই বিরোধিতা করছে।
Comments :0