ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)'র তরফে বুধবার 'আদিবাসী স্কুল ঠিক কর' নাম একটি নতুন কর্মসূচি চালু করা হয়। আদিবাসী এলাকার স্কুলগুলোর অবস্থা, শিক্ষক-স্বল্পতা এবং মৌলিক শিক্ষাসুবিধা সংক্রান্ত উদ্বেগগুলো তুলে ধরাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।
নাগপুর থেকে এই কর্মসূচির ঘোষণা করে দীপকে জানান যে, সিজেপির একটি দল মহারাষ্ট্রের (গড়চিরোলি-সহ) পাশাপাশি রাজস্থান, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, গুজরাট ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের আদিবাসী স্কুলগুলো পরিদর্শন করবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সেখানে কী কী সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, তা নথিবদ্ধ করবে।
দেশজুড়ে স্কুলের অবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে সিজেপি-র ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযানের ঠিক পরপরই ‘আদিবাসী স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচিটি শুরু হচ্ছে। দীপকে জানিয়েছেন যে, এই কর্মসূচিতে প্রাথমিকভাবে মৌলিক অবকাঠামোর ওপর জোর দেওয়া হবে। তিনি এমন কিছু ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন যেখানে অভিযোগ রয়েছে যে, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের জন্য নির্ধারিত শ্রেণিকক্ষগুলো স্কুলের ক্লাস পরিচালনার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
অভিজিৎ দীপকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, " আজ, সিজেপি 'আদিবাসী স্কুল ঠিক কর' কর্মসূচি চালু করছে। আমরা যে স্কুলটি পরিদর্শন করেছি সেখানে পড়াশোনা করার জন্য সঠিক পরিবেশ নেই। স্কুলটির এমনি অবস্থা যে সেখানে কোনও মন্ত্রী তার পোষ্যকেও সেখানে নিয়ে যাবেন না।"
সেইসঙ্গে, আদিবাসী শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে অভিজিৎ দীপকে দাবি করেছেন যে, গত দুই বছরে মহারাষ্ট্রে ৫৯০ জনেরও বেশি আদিবাসী শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছে, এর মধ্যে কেবল বালাঘাটেই গত তিন মাসে ৩০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।
দীপকে বলেন, " গভীর উদ্বেগজনক একটি বিষয় উঠে এসেছে, তা হলো শিশু মৃত্যু। মহারাষ্ট্র আশ্রম স্কুলে ২ বছরের মধ্যে প্রায় ৫৯০ জন বাচ্চার মৃত্যু হয়েছে। স্কুলটির পড়ুয়াদের মিড ডে মিলে নিম্নমানের খাবার দেওয়ার কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি, সাপের কামড়ে মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে কারণ খাটের অভাবে বাচ্চাদের মেঝেতে শুতে বাধ্য করা হয়। এখানেই সরকারে চিকিৎসাজনিত অবহেলার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি যে, আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের এই দেশের সম্পদের ওপর প্রাথমিক অধিকার আছে। তাদের শিক্ষার ক্ষেত্রেও অগ্রাধিকার থাকা উচিত এবং সর্বোত্তম শিক্ষা-সুবিধা পাওয়ার অধিকার তাদেরই প্রাপ্য।"
"একটি শিশুর মৃত্যুর জন্য এককালীন ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২-৪ লক্ষ টাকা, এমনকি গবাদি পশু দেওয়া, কি যথেষ্ট?" এদিন এই প্রশ্নও তোলেছেন তিনি।
'একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয়' কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে দীপকে দাবি করেন যে, সরকার ৭০০টিরও বেশি ভবনের অনুমোদন দিলেও বর্তমানে মাত্র ৪৭৭টি বিদ্যালয় চালু রয়েছে। তিনি আরও জানান, চালু থাকা বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে মাত্র ৩৪০টির নিজস্ব স্থায়ী ভবন রয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন যে ২,৮০০-এরও বেশি পদ শূন্য পড়ে আছে। সেইসঙ্গে, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দিয়ে শিক্ষাদান-বহির্ভূত কাজ, বিশেষ করে নির্বাচনের কাজ করানোর বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলে দীপকে বলেন, “শিক্ষকরা যদি নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করেন, তবে শিক্ষার্থীদের পড়াবে কে?”
তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য স্কুলগুলোর মান উন্নয়ন করা। এটি একটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং তাদের অবস্থার উন্নয়ন ঘটানোই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।”
CJP New Campaing 'Adivasi School Thik Karo'
'আদিবাসী স্কুল ঠিক কর', আদিবাসী এলাকার স্কুলগুলির মান উন্নয়নে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা সিজেপির
×
Comments :0