Autonomy of University

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকার রক্ষা জরুরি

সম্পাদকীয় বিভাগ

শ্রুতিনাথ প্রহরাজ
দু’দিন দুটি ঘটনার সাক্ষী হলাম আমরা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে নাগা সন্ন্যাসীদের নিয়ে গেরুয়া সমাবেশ হলো যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচিলের ঠিক বাইরে। এই সভায় মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করলেন আরও দু’বার যাবেন ওখানে, একবার গীতা পাঠ করতে আরেকবার হনুমান চালিশা পড়তে। রাজ্য তথা দেশের প্রথম সারির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পঠন পাঠন ও বিশ্বমানের গবেষণার কর্মসূচির সাথে মুখ্যমন্ত্রী ও তার সরকারের এই কর্মসূচি কতটা সাযুজ্যপূর্ণ তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। কেনই বা সাগর মেলা বা কুম্ভ মেলা ছেড়ে নাগা সন্ন্যাসীদের হঠাৎ সরকারি উদ্যোগে শহর কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত রাজপথ ধরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে হাজির করানো হলো, তা নিয়েও জনমানসে বিস্তর সংশয় তৈরি হয়েছে। কারণ সচরাচর এ জিনিস তারা দেখতে অভ্যস্ত নন। এই সব সাধু সন্তদের জায়গা তো আশ্রম, মঠ,  মিশন বা আখড়ায়। যারা ওদের আশীর্বাদ প্রার্থী তারা ওখানেই যান। বিশ্ববিদ্যালয় তো শিক্ষক ছাত্র গবেষকদের মুক্ত ও উদ্ভাবনী বিশ্বজনীন জ্ঞানচর্চার আলয় বা প্রাঙ্গণ। তারপরের দিন অবশ্য বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে শিক্ষা সংক্রান্ত একটি বিলের আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রীর হুঙ্কার শুনে বোঝা গেল আগের দিনের এই সার্বিক গেরুয়া প্রস্তুতির আসল লক্ষ্য কি!  
তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে রাজ্যে গত দেড় দশকে আরএসএস’র শিক্ষা সহ অন্যান্য শাখা ও মূল সংগঠন অনেকটা বৃদ্ধি পেলেও শিক্ষায় পুরো মাত্রায় দলীয় দখলদারির মাধ্যমে নৈরাজ্য সৃষ্টি ও অনৈতিক সিন্ডিকেটরাজ গড়ে তোলা ছাড়া গেরুয়াকরণের কোনও স্বতন্ত্র কর্মসূচি ওদের ছিল না। বর্তমান সরকার প্রথম চার মাসের মধ্যেই সেই কাজ দ্রুততার সঙ্গে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে স্কুল শিক্ষার পাঠ্যসূচির খোলনলচে বদলানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও প্রথমে ক্যাম্পাসের পুরোদস্তুর দখলদারি এবং তারপর শিক্ষার গেরুয়াকরণ— এ রাজ্যে শিক্ষার সর্বস্তরে, বিজেপি’র এখন এটাই প্রধান অ্যাজেন্ডা। কলেজগুলির মাথায় বসানো হয়েছে বিজেপি তথা আরএসএস’র নেতা মন্ত্রী সহ সাংসদ বিধায়কদের। এবার বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পালা। প্রথম টার্গেট যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। 
পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ (প্রশাসন ও নিয়ন্ত্রণ) আইনের সংশোধনের যে খসড়া বিল ২০২৬ সেদিন বিধানসভায় পেশ করা হলো তার সূত্রপাত ঘটেছিল ২০১৭ সালে। মূল আইন ও তার সংশোধনী বিল দুটি ক্ষেত্রেই আজকের মুখ্যমন্ত্রী যুক্ত ছিলেন বা আছেন। ২০১৭-য় উনি ছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যাবিনেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। দুটি ক্ষেত্রেই আরও একটি মিল আছে। এই বিল বা তার সংশোধনী আনার আগে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী-আধিকারিকদের সাথে আলোচনা করবার প্রয়োজন বোধ করেনি তৎকালীন বা এখনকার সরকার। আসলে আধিপত্যবাদী শাসকরা যখন এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়, সমাজের সর্বস্তরে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিসর সঙ্কুচিত হয়। 
২০১৭ সালে এই বিল আনার অন্যতম লক্ষ্য ছিল রাজ্যের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলির গণতান্ত্রিক প্রশাসনিক কাঠামোকে ভেঙে সরকারের হাতে যাবতীয় ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করা। সরকারে এসেই ওরা এই কাজ শুরু করেছিল। সাত বছর বাদে আইন তৈরি করে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকার জলাঞ্জলি দিয়ে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ কুক্ষিগত করা ও শিক্ষক ছাত্র ও শিক্ষাকর্মীদের ভয় দেখানোর ব্যবস্থা পাকাপাকি করতে চেয়েছিল। সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষকদের সামাজিক চাহিদার অজুহাতে অন্যত্র বদলি করা, তাঁদের স্বাধীন মত প্রকাশের ক্ষেত্রে লাগাম পরানো ইত্যাদি আরও অনেক শিক্ষা ও শিক্ষক স্বার্থ বিরোধী বিধান যুক্ত করা হয় সেই আইনে। সঙ্গত কারণে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত সর্বস্তরের মানুষ এর প্রতিবাদ করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এই বিলের বিরোধিতা করতে গিয়ে পুলিশের আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছিল প্রয়াত উপাচার্য আনন্দদেব মুখোপাধ্যায়, প্রাক্তন উপাচার্য অশোকনাথ বসু, শিক্ষাবিদ মালিনী ভট্টাচার্য, অধ্যাপক শুভঙ্কর চক্রবর্তী সহ বহু শিক্ষককে। ঐ আইন বাতিলের দাবিতে ধর্মতলায় কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ অধ্যাপক সমিতির (ওয়েবকুটা) নেতৃত্বে দীর্ঘ সময় অবস্থান কর্মসূচিতে শামিল হয়েছিলেন। এতেও সরকারের টনক না নড়ায় সমিতি বাধ্য হয় আদালতের শরণাপন্ন হতে। সেই মামলা আজও উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। এই অবস্থায় সেই আইনের সংশোধনী এনে উচ্চশিক্ষায় নতুন করে আরও বিপদ বাড়াতে চাইছে বর্তমান সরকার। 
নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির কথা বাদ দিলেও মুখ্যমন্ত্রী যে আটটি প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা সেদিন উল্লেখ করেছেন তার সব কটি এক অবস্থায় নেই। এর পেছনে শুধু সরকারি উদ্যোগের ঘাটতি একমাত্র কারণ নয়। যাদবপুর বা রবীন্দ্রভারতী একক বিশ্ববিদ্যালয়— তাই ভার কম এবং নিজস্ব পরিধিতে সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনার পরিসর অনেক বেশি। কলকাতা, বর্ধমান, কল্যাণী, উত্তরবঙ্গ, বিদ্যাসাগর বা পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় (বারাসত) গুলিকে তাদের সার্বিক সময়ের একটা বড় অংশ ব্যয় করতে হয় অনুমোদিত কলেজগুলির দৈনন্দিন পঠন-পাঠনের পরিচালনা দেখভাল করার জন্য। তাই সবটাকে একভাবে দেখে পারফরমেন্সের বিচারে ক্রমতালিকা তৈরি করা সঙ্গত নয়। তবে সব বিশ্ববিদ্যালয়-এর ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী আধিকারিক পদ না থাকা, গবেষণা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের সরকারি বরাদ্দ ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকা ইত্যাদি সাধারণ সমস্যা— সরকারি উদ্যোগের ঘাটতি যার প্রধান কারণ। শুধু যাদবপুর নয়, রাজ্য সরকার পরিচালিত একাধিক প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ে কন্ট্রোলার, রেজিস্ট্রার, ফিন্যান্স অফিসার, কলেজ সমূহের পরিদর্শক ইত্যাদি জরুরি পদগুলিতে দীর্ঘদিন স্থায়ী নিয়োগ হয়নি। সবটাই চলছে অ্যাডহক ভিত্তিতে যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার প্রশ্নে। তাছাড়া দীর্ঘদিন কোর্ট/কাউন্সিল বা সিনেট/সিন্ডিকেট ও ফ্যাকাল্টি কাউন্সিলগুলি আইনানুগ গড়ে না ওঠায় নতুন ভাবনাচিন্তা তৈরির ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। দ্রুত এই সমস্যাগুলির মীমাংসা করা জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পাহাড় প্রমাণ শূন্য শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী পদে স্বচ্ছ ভাবে মেধার ভিত্তিতে দ্রুত নিয়োগ করতে হবে। গত দেড় দশকে নতুন গড়ে ওঠা বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ক্ষেত্রে পরিকাঠামোর যথাযথ উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সহ আধিকারিক নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। এক জায়গার শিক্ষক বা শিক্ষাকর্মীকে অন্য জায়গায় সরিয়ে এই সমস্যার সমাধান হয় না বরং দুটি প্রতিষ্ঠানই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কলেজগুলিও চলছে একটা বড় অংশের অ্যাডহক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের নিয়ে। এই সমস্যারও সমাধান জরুরি। 
এইসব সীমাবদ্ধতা নিয়েও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় তুলনামূলকভাবে অন্যদের থেকে অনেকটাই এগিয়ে। তার কারণ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার সুনিশ্চিত করতে পারা। এই সম্পদ বলতে শুধু পরিকাঠামো নয়, সেখানকার মানব সম্পদও গুরুত্বপূর্ণ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন অনেক অধ্যাপক বিজ্ঞানী আছেন যারা আধুনিক গবেষণার নিরিখে বিশ্বের দরবারে সুপ্রতিষ্ঠিত। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন অনেক আন্তঃবিভাগীয় বিষয় নিয়ে চর্চা ও গবেষণা হয় যা কলকাতার মতো দু’-একটি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অন্যত্র সচরাচর দেখা যায় না। মেধাচর্চার ক্ষেত্রে এখানকার সেন্টার ও স্কুলগুলির ভূমিকাও প্রশংসার দাবি রাখে। এমনি এমনি তো আমার আপনার বাড়ির ছেলেমেয়েরা যাদবপুরে পড়বার জন্য স্বপ্ন দেখে না। এর পিছনে প্রধান আকর্ষণ হলো যাদবপুরের এই গুণী শিক্ষকমণ্ডলী, যাদের একটা অংশকে এই বিলের মাধ্যমে অন্যত্র বদলি করবার হুমকি দেওয়া হয়েছে। কেবল ভিন্নমত পোষণ করেন— এটাই ওদের অপরাধ? যাদবপুরের কৃতী ছাত্র-ছাত্রীদের তৈরির পেছনে এই শিক্ষকমণ্ডলীর যে অসামান্য অবদান তাকে অস্বীকার করবো কিভাবে? নানান ছুতোয় এদের অন্যত্র সরিয়ে দিলে যাদবপুরের শিক্ষার সার্বিক পরিমণ্ডল ভয়ঙ্কর রকম ক্ষতিগ্রস্ত হতে বাধ্য। আর্থিক অনুদানের কথা ঘোষণা করে শিক্ষকদের উপর এভাবে আক্রমণ নামিয়ে আনার কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকতে পারে না। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। ভুলে গেলে চলবে না,যাদবপুর বা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম সমগ্র রাজ্যবাসীর গৌরবের জায়গা। তাকে এভাবে নষ্ট করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তার জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে। 
যাদবপুরের প্রাক্তনীরা স্ব-স্ব ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত। বর্তমান ছাত্র ছাত্রী ও গবেষকগণ যাদবপুরের অন্যতম সম্পদ, একথা অস্বীকার করার কোনও জায়গা নেই। যাদবপুর বা জেএনইউ’র মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা শুধু ক্যাম্পাসে ডিগ্রি কিনতে তো যায় না। বরং যুক্তিবোধ ও মননের নিরন্তর অনুশীলনের মাধ্যমে মুখোমুখি প্রশ্ন করতে শেখে ও শেখায়। এতে ভয়ের তো কিছু নেই। যদিও সেই কারণে তারা বেশি আক্রান্ত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার লক্ষ্য হলো পুঁথিগত বিদ্যার্জন ও উন্নত গবেষণার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বাবনী শক্তির উন্মেষ ঘটানো এবং তার পাশাপাশি বৈশ্বিক সচেতনতা, সাংস্কৃতিক দক্ষতা ও নৈতিক দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলী সেই কাজেই সচেষ্ট থাকেন। এটা তাঁদের অপরাধ নয়, বরং সামাজিক দায়িত্ববোধ পালনের অঙ্গীকার। উন্নত সমাজবোধে তৈরি সেই ছাত্ররা যদি দেশের ক্ষুধা-দারিদ্র- বেকারি বা তার কারণ হিসেবে পুঁজিবাদ থেকে আজাদি বা মুক্তি চায় অপরাধ কোথায়? এই তো সদ্য সমাপ্ত ব্রিকস সম্মেলনে স্বাধীন প্যালেস্তাইনের কথা জোরের সঙ্গে উচ্চারণ করলেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী সহ অন্য রাষ্ট্রপ্রধানরা। তাহলে যাদবপুরের ছেলেমেয়েরা তাদের দেওয়ালে ফ্রি প্যালেস্তাইন লিখতে পারবে না কেন? কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যদি যুদ্ধই করতে হয় তবে তা হোক মেধার যুদ্ধ, উন্নত সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী চিন্তনের যুদ্ধ। এতেই ছাত্র সমাজের উন্নতি সম্ভব। ‘পুঁজিবাদ সে আজাদি’ না ‘সমাজবাদ সে আজাদি’, ‘মনুবাদ সে আজাদি’ না ‘মার্কসবাদ সে আজাদি’— এসব বিতর্কের মীমাংসা ওদেরকেই অর্থাৎ ছাত্র-ছাত্রীদের সুষ্ঠুভাবে করতে দিন। এতেই সবার মঙ্গল। অযথা ‘আজাদি’ শব্দবন্ধ নিয়ে ভয় পেয়ে লাভ নেই। হ্যাঁ, সেখানে যদি ভারতবর্ষের সার্বভৌম ধর্মনিরপেক্ষ বহুত্ববাদী গণতন্ত্রের বিরুদ্ধাচরণ হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনই সংশ্লিষ্ট ছাত্রদের সতর্ক করবে। অযথা সংখ্যার দাপটে বাইরের থেকে গিয়ে ওখানে হাতুড়ি দিয়ে জোর করে ডিম ভাঙার চেষ্টা করলে ডিমটা ভাঙবে হয়তো, একই সাথে আগামী দিনের সমাজ গড়ার কারিগরদের উন্নত চেতনা গড়ে ওঠার ভ্রূণটাও নষ্ট হবে।
শিক্ষক শিক্ষাকর্মী ও ছাত্র-ছাত্রীদের শত্রু বানিয়ে যাদবপুর’কে ‘সেন্টার অব এক্সেলেন্স'’ হিসাবে গড়ে তোলা যাবে না। তাই, মুখ্যমন্ত্রীর উচিত উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ওখানকার সমস্ত স্টেকহোল্ডারদের (বিশ্ববিদ্যালয়-এর সঙ্গে যারা যুক্ত) সঙ্গে বসে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের প্রশ্নে মত বিনিময় করা। সবার আগে প্রয়োজন ওখানকার শিক্ষকদের সঙ্গে বসা, যারা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনামকে শুধু আগলে রাখা নয়, প্রতিদিন আরও উন্নত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। একইভাবে, অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বসে মত বিনিময়ের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উৎকর্ষ সাধনের পথ খোঁজা দরকার। তবেই শিক্ষা বাঁচবে,  উচ্চশিক্ষার পরিধি বাড়বে, রাজ্য তথা দেশ বাঁচবে।

Comments :0

Login to leave a comment