Rahul Gandhi - Nishikanta Dube

রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ খারিজের দাবি নিশিকান্ত দুবের

জাতীয়

কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সদস্যপদ বাতিলের দাবিতে সরব হলেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এম.এম. নারাভানের অপ্রকাশিত বই এবং 'এপস্টাইন ফাইলস' সংক্রান্ত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে লোকসভায় এই দাবি তুলেছেন তিনি।
দুবে লোকসভায় এদিন এই প্রস্তাব পেশ করার সাথে সাথে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদের মধ্যেই নিশিকান্ত দুবে অভিযোগ করেন যে, রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বিদেশি যোগসূত্র থাকতে পারে। দুবে প্রশ্ন তোলেন, ‘রাহুল গান্ধীকে কারা অর্থ সাহায্য করছে যাদের উদ্দেশ্য দেশ ধ্বংস করা? তিনি কীভাবে ওই অপ্রকাশিত বইটি পেলেন? লোকসভার উচিত রাহুল গান্ধীর সদস্যপদ বাতিল করা।’
প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এম.এম. নারাভানের একটি অপ্রকাশিত বইয়ের বিষয়বস্তু নিয়ে রাহুলের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ উঠেছে, রাহুল গান্ধী সেই বইয়ের তথাকথিত কিছু অংশ প্রচার করছেন যা এখনও বাজারে আসেনি।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধী এপস্টাইন ফাইলস সংক্রান্ত অভিযোগ তুলে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন। বিজেপি একে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
বিজেপির মুখ্য সচেতক সঞ্জয় জয়সওয়াল লোকসভার স্পিকারের কাছে রাহুলের বাজেট অধিবেশনের বেশ কিছু মন্তব্য অসংসদীয় হিসেবে চিহ্নিত করে তা রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
রাহুল গান্ধীর সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন কংগ্রেস সাংসদ রেণুকা চৌধুরী। তিনি নিশিকান্ত দুবেকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘নিশিকান্ত দুবে আসলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হতে চান, তাই তিনি রাহুল গান্ধীর সদস্যপদ বাতিলের কথা বলছেন। এর কোন যুক্তি নেই।’
তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, একসময় সংসদে নিজের পোষ্য কুকুর নিয়ে আসার জন্য তার বিরুদ্ধেও প্রিভিলেজ মোশন আনার কথা হয়েছিল। বিজেপির সাংসদরা প্রিভিলেজ মোশন প্রস্তাব বলতে কী বোঝেন, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
জেনারেল নারাভানের অপ্রকাশিত বই ফাঁসের ঘটনায় দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে ক্রিমিনাল কনস্পিরেসি বা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারা যুক্ত করা হয়েছে। প্রকাশক সংস্থা পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া'র প্রতিনিধিদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি তাদের কাছে ১৫টি প্রশ্নের উত্তর জানতে চাওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, তারা কিছু প্রশ্নের উত্তর দিলেও বাকিগুলোর জন্য সময় চেয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালেও মোদী পদবি নিয়ে মন্তব্য করার দায়ে মানহানি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাংসদ পদ হারিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তিনি পদ ফিরে পান। এবার নতুন এই অভিযোগ কোন দিকে মোর নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

Comments :0

Login to leave a comment